নরসিংদীর ইতিহাস-ঐতিহ্যে সাজানো এবারের ‘ইত্যাদি’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে ঘিরে থাকছে একটি পরিচিতিমূলক নৃত্যগীতফাগুন অডিও ভিশনের সৌজন্যে

দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের গল্প তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় এবার নরসিংদী জেলায় আয়োজন করা হয়েছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্ব। প্রকৃতি, প্রত্নতত্ত্ব, লোকজ ঐতিহ্য ও জনজীবনের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই জেলাকে ঘিরেই সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন। আগামী ৫ জুন শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে অনুষ্ঠানটি। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

নব্বইয়ের দশক থেকেই স্টুডিওর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘ইত্যাদি’র আয়োজন করে আসছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠানটি কখনোই কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক, রিসোর্ট বা সাধারণ খোলা মাঠে ধারণ করা হয় না। বরং প্রতিটি পর্বের স্থান নির্বাচনে গুরুত্ব পায় ওই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, শিল্প-সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি ও জনগুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বেছে নেওয়া হয়েছে প্রাচীন জনপদ নরসিংদীকে।

‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত
ফাগুন অডিও ভিশনের সৌজন্যে

এবারের মঞ্চ নির্মাণ করা হয় রায়পুরা উপজেলার রামনগরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সামনে। অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা নরসিংদীতেই তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই দর্শকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বরাবরের মতো এবারও বিশেষ আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়, যা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছিল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই আমন্ত্রণপত্র বা পাসের জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।

‘ইত্যাদি’র দর্শকপর্বের নিয়ম অনুসারে নরসিংদীকে নিয়ে কুইজের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চারজনকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়
ফাগুন অডিও ভিশনের সৌজন্যে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। রায়পুরায় ধারণ করা হলেও দর্শকেরা এসেছিলেন নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ উপস্থিত হওয়ায় তৈরি হয় এক ভিন্ন দৃশ্য। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই আশপাশের বহুতল ভবনের ছাদ, দেয়াল, রাস্তা এমনকি গাছের ডালে উঠেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। দর্শকদের করতালি ও স্লোগানে বারবার মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি বিশেষ গান। এর একটি গেয়েছেন নরসিংদীর সন্তান ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’। জুয়েল আহমেদ ও কবির বকুলের যৌথ লেখায় তৈরি ফোক-ফিউশনধর্মী এই গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী নিজেই। মঞ্চে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গানটির চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

থাকছে কাশেম টিভির সাংবাদিক ও তাঁর নাতিকে নিয়ে জমজমাট আড্ডা
ফাগুন অডিও ভিশনের সৌজন্যে

অন্যদিকে অনুষ্ঠানের শুরুতেই নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে ঘিরে থাকছে একটি পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশনাটির কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিনা রুমা ও রাজিব।
‘ইত্যাদি’র দর্শকপর্বের নিয়ম অনুসারে নরসিংদীকে নিয়ে কুইজের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চারজনকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। পরে তাঁরা নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে নির্মিত একটি মজার নাট্যাংশে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে থাকছে কয়েকটি তথ্যভিত্তিক ও শিক্ষামূলক প্রতিবেদনও। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল উয়ারী বটেশ্বর এবং নরসিংদীর ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। এ ছাড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প, ‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’খ্যাত বাবুরহাট, জিআই পণ্য অমৃতসাগর কলা, লটকন ও কলম্বো লেবু নিয়েও থাকছে আলাদা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার কয়েকজন কীর্তিমান ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়েও থাকবে তথ্যসমৃদ্ধ অংশ।

এবারের পর্বে একটি মানবিক প্রতিবেদন থাকছে খুলনার বটিয়াঘাটার দৃষ্টিহীন ষাটোর্ধ্ব চিত্তরঞ্জন মহালদারকে নিয়ে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে যিনি জয় করেছেন নিজের সীমাবদ্ধতাকে।

এ ছাড়া বিদেশি প্রতিবেদনে দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে। সেখানে দেখানো হবে ফিলিপ আইল্যান্ডের বিখ্যাত ‘দ্য পেঙ্গুইন প্যারেড’।

একটি গেয়েছেন নরসিংদীর সন্তান ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’
ফাগুন অডিও ভিশনের সৌজন্যে

অনুষ্ঠানে থাকছে কাশেম টিভির সাংবাদিক ও তাঁর নাতিকে নিয়ে জমজমাট আড্ডা। পাশাপাশি থাকবে চিঠিপত্র পর্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ। ভাঙতি সংকট, ফাঁকা আওয়াজ, বড় ভাই-ছোট ভাই সম্পর্ক, দুর্নীতি, চাকরিপ্রীতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পথভ্রষ্ট মানুষ ও জনসচেতনতা নিয়ে তৈরি এসব নাট্যাংশে অংশ নিয়েছেন সোলায়মান খোকা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, বড়দা মিঠু, শাহেদ আলী, আনন্দ খালেদ, সাদিয়া তানজিন, সূচনা শিকদার, রকি খান, আবু হেনা রনিসহ আরও অনেকে।
বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠানের শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।