‘এর পেছনে কারা?’ হত্যা হুমকি মামলা নিয়ে মুখ খুললেন তিশা

তানজিন তিশাছবি : অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁকে সমন জারি করেছেন। আগামী ২৩ নভেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিশা। শাড়ি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংস করার চেষ্টা কারা করছেন, কেনই–বা করছেন।

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তানজিন তিশা দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজ সংযুক্ত করে দিয়েছেন। পোস্টে তিশা অভিযোগ করেন, তাঁর একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ বদলে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিশা আরও লিখেছেন, ‘এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কিসের জন্য? আর এর পেছনে কারা?’

ফেসবুক পোস্টে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়; বরং সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়। এ ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর ও তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে সেসব তথ্য ও প্রমাণ মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার, সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিশা।

তানজিন তিশা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মামলা কি এতই সহজ? অভিযোগ করলেই সত্য হয়ে যায়? একজনের নাম একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে সম্মানহানি করা হয়?’

তানজিন তিশা
ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

জনসাধারণের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিশা। তাঁর মতে, অভিযোগ সামনে এলেই যাচাই-বাছাই না করে তা বিশ্বাস করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আদালত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শাড়ি নিয়ে একের পর এক মামলা

তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ি নিয়ে বিতর্কের শুরু গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে তিশাকে দেওয়া হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির দামও পরিশোধ করেননি। তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এর বাইরে ৭৫ হাজার টাকা দামের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন। পরদিন সেটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেওয়া হয়নি। শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও এনেছিলেন তিনি।

তানজিন তিশা
ছবি : তিশার ফেসবুক থেকে

এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পর ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।