ঋণে মাকে গাড়ি কিনে দেওয়া অভিনেতা আরশের জীবনযাপন কেমন
সম্প্রতি মাকে গাড়ি কিনে দিয়ে ভক্তদের কাছে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা আরশ খান। মূলত এই গাড়ি ব্যাংকঋণ নিয়ে কিনেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নিয়মিত অভিনয় করেও কেন ঋণে গাড়ি কিনলেন এই অভিনেতা? এ নিয়ে অনেকে আগ্রহী হয়েছেন তাঁর জীবনযাপন নিয়ে। অভিনেতা হয়েও কেমন জীবন যাপন করেন এই অভিনেতা।
এই অভিনেতা মাকে গাড়ি উপহার দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুক পোস্ট করেছেন। স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল একটা গাড়ি কিনবেন। কিন্তু আমাদের বড় করতে গিয়ে এমন অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে তাঁকে। মায়ের জন্য কেনা গাড়ি। যদিও লোনে কেনা। কিন্তু আমি জানি, একদিন এই লোন শোধ হবে। কিন্তু আম্মা না থাকলে হাজারটা গাড়ি কিনলেও এই সাধ কখনো মিটবে না।’
নাট্যাঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতাদের মধ্যে একজন আরশ খান। নাটকে তাঁর যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি তাঁর কাজের ভিউ মিলিয়ন। নিয়মিত অভিনয় করলেও তাঁর জীবনযাপন খুবই সাধারণ। এ নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সাধারণ জীবন যাপন করি। আমি উচ্চাভিলাষী নই। কষ্ট কী, সেটা আমি জানি। সত্য বলতে, আমার গাড়ি-বাড়ি কিছুই নেই, আমি পোশাক ভ্যানগাড়ি থেকে কিনি। এসব নিয়ে আমার কষ্ট নেই। যখন যা ভালো লাগে, সেটাই করি। এটাই আমি।’
শুধু তা–ই নয়, তিনি বিলাসিতা পছন্দ করেন না। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে নামীদামি ব্যান্ডও তাঁর পছন্দ নয়। ‘আমাকে অনেক সময় দামি ব্র্যান্ড টানে না। এখানেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। অনেক সময় দেখা যায়, তরুণেরা কেউ কেউ দামি জামাকাপড়ের জন্য পরিবারকে চাপ দেন। তাঁদের অনুরোধ করব, জামাকাপড়ের জন্য মা-বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। বাবা-মায়ের হয়তো কষ্ট হবে’, বলেন আরশ।
আরশ জানান, অনেক সংগ্রাম করে আজকের জায়গায় এসেছেন। একসময় টাকার জন্য অডিশনে যেতে পারেননি। অনেকের সহায়তায় অডিশনে গিয়েছেন। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘একবার আমার মা অনেক অসুস্থ। কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। ৭০ হাজার টাকা বিল আসে। আমার কাছে কোনো টাকাই ছিল না। হাহুতাশ ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এর মধ্যে আমার পরিচিতি কিছু মানুষ কীভাবে কীভাবে আমাকে পুরো টাকা দেয়।’
সেই অভিজ্ঞতা থেকে আরশ শিখেছেন, মানুষের পাশে তাঁকে থাকতে হবে। আরশ বলেন, ‘যে কারণে এখন আমি যে টাকা আয় করি, তার মধ্যে নিজের জন্য কিছু রেখে বাকি টাকা সবই যাঁর প্রয়োজন, জানতে পারলে তাঁকে দিয়ে দিই। আমার কাছে এটাই মনে হয়, আবার আমার যদি কোনো দিন টাকা না থাকে, তখন কেউ না কেউ সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। কারণ, আমার কষ্টের সময়গুলোয় আমি তারকা ছিলাম না।’
আরশ চাইলে মাসের পুরো সময় কাজ করতে পারেন। কিন্তু সে পথে তিনি হাঁটেননি। তিনি বলেন, ‘আমার একটা ভক্তশ্রেণি তৈরি হচ্ছে, তাঁদের মানসম্পন্ন কাজ উপহার দিতে চাই। এমন নয়, সেটা তাঁদের পছন্দের কাজ। আমি তাঁদের আমার পছন্দের কাজ উপহার দিতে চাই। তাহলেই তাঁরা আমাকে বেশি ভালোবাসবেন। তাঁদের পছন্দের কাজ করলে গল্পগুলো হয়তো সস্তা হয়ে যাবে। সেটা আমার দর্শকেরা চান না। আমিও নিজের পছন্দের বাইরে তাঁদের সঙ্গে শুধু ভিউ হবে, এমন গল্প ভাগাভাগি করে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করতে চাই না। কারণ, ভালোবাসা দায়বদ্ধতা থেকে টেকসই হয়।’
গত বছর এক সাক্ষাৎকারে আরশ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমার অবস্থা এমন যে আমি যদি এই মাসে কাজ না করি, তাহলে আগামী মাস চলতে পারব না। বাসাভাড়া দিতে পারব না। আমার জমানো টাকাও নেই। মাঝে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে কোনো কাজ হয়নি। কাজ না করায় এক মাস পরে বাসাভাড়া দিয়েছি।’
এদিকে মাকে গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে আরেক অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় লিখেছেন, ‘অভিনেতা আরশ খান তাঁর মায়ের জন্য গাড়ি কিনেছেন। অত্যন্ত ভালো লাগল। আমিও একদিন আমার বাবার জন্য গাড়ি কিনেছিলাম। আরশ খানকে মন থেকে ধন্যবাদ। সে তাঁর মায়ের মন আনন্দে ভরে দিয়েছে। এভাবেই সন্তানেরা মা–বাবাকে পূর্ণ করে রাখুক। কারণ, মা–বাবার ঋণ পরিশোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। গাড়ি তো একটি টোকেনমাত্র।’