ঈদে ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে এয়ারটেলের স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণ ‘হোম নট কামিং’
ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরই জমকালো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখা যায়। সেই চিরচেনা ধারা থেকে কিছুটা ভিন্নপথে হেঁটে দর্শকের সামনে নতুন কিছু নিয়ে এসেছে এয়ারটেল। দৈনন্দিন জীবনের খুব কাছের একটি গল্পকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্পভিত্তিক নির্মাণ ‘হোম নট কামিং (Home Not Coming)’। তরুণ প্রজন্মের ঈদের অনুভূতি, বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে গল্পভিত্তিক এই নির্মাণ।
বাংলাদেশে ঈদের সময় মানেই শহর থেকে গ্রামের বাড়ির পথে মানুষের ঢল। পাশাপাশি মহাসড়কের যানজট, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনের ভিড়, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন, সালামি, সেমাই, ধোঁয়া ওঠা মাংসের ঝোল, কালাভুনা কিংবা পোলাও-কোরমার আয়োজন। সব মিলিয়ে এটি একটি জাতীয় আবেগ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ বা সিলেট—দেশের যেখানেই থাকুক না কেন, ঈদ এলে মানুষের মন ছুটে যায় এক জায়গায়, সেটি হলো নিজের গ্রামের বাড়ি।
তবে নতুন প্রজন্মের কাছে ‘বাড়ি’ কি শুধুই একটি স্থান, নাকি কোনো আবেগঘন সম্পর্কের নাম? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে এবারের ঈদের গল্প ‘হোম নট কামিং’। নির্মাণটিতে তুলে ধরা হয়েছে তরুণ প্রজন্মের ঈদের অনুভূতি, বন্ধুত্ব, আড্ডা ও উদ্যাপনের নতুন ধারা। এখানে যেমন রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, তেমনি রয়েছে নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও জীবনধারার প্রতিফলন।
বন্ধুত্বের বন্ধনকে এখানে পরিবারের সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও কল, গ্রুপে বার্তা আদান-প্রদান, হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত, রাত জেগে আড্ডা, একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া কিংবা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরি করা—এসবের মধ্য দিয়ে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, সেটিই গল্পটির মূল আবহ। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে বাংলাদেশের ভ্রমণ সংস্কৃতি, মা–বাবা ও সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক উদ্যাপনের প্রবণতাও উঠে এসেছে নির্মাণটিতে। পুরো গল্পেই রয়েছে হালকা হাস্যরসের ছোঁয়া এবং আবেগঘন মুহূর্ত।
স্বল্পদ্যৈর্ঘ্যটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। তিনি গল্পের মাধ্যমে মা–বাবা, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি একদল বন্ধুর সম্পর্ক ও অনুভূতির গল্প তুলে ধরেছেন পর্দায়।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে এই নির্মাণের কাজ ছিল একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দদায়ক। কাজের সময় মনে হয়েছে, আমরা নিজেরাও যেন আবার সেই বন্ধুত্বের বয়সে ফিরে গিয়েছি। অভিনয়শিল্পীদের মধ্যেও বাস্তব বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল, যার কারণে অনেক মুহূর্তেই মনে হয়েছে যে আমরা অভিনয় দেখছি না, বরং সত্যিকারের বন্ধুত্বের মুহূর্ত উপভোগ করছি। অল্প সময়ের মধ্যে সেই আবেগকে ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না, তবে পুরো দলের আন্তরিকতা কাজটিকে সহজ করেছে।’
স্বল্পদৈর্ঘ্য এই নির্মাণে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেরাজ হাসান রাইয়ান। পার্শ্বচরিত্রে রয়েছেন অর্পিতা পাল, মাহাদি রহমান, হৃদমিলা রহমান, মশিউর সিয়াম, মাঈনুল ইসলাম শুভ, মহিউদ্দিন সাইফুল্লাহ শুভ্রসহ অনেকে।
বিজ্ঞাপনের ভিড়ে কেন গল্পভিত্তিক নির্মাণ? এই প্রশ্নের উত্তরে এয়ারটেলের ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার জাইমা তাহসিন বলেন, ‘ঈদ আমাদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ উপলক্ষ। তাই ঈদ মানে শুধু বাড়ি ফেরা নয়, বরং সম্পর্কের কাছে ফেরা। “হোম নট কামিং”-এর মাধ্যমে আমরা বলতে চেয়েছি সেই সব মানুষের কথা, যাঁদের সঙ্গে মনের সংযোগ রয়েছে, যা দূরত্ব দিয়ে মাপা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি, দৈনন্দিন জীবনের গল্পই গ্রাহকদের সঙ্গে ব্র্যান্ডের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সহজেই এই গল্পের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পাবে।’
স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণটি ইতিমধ্যেই ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশের পর থেকেই অনলাইন দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। সংলাপ ও দৃশ্যধারণের ভিন্নধর্মী উপস্থাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দর্শকদের আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।