সংস্কৃতি বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের মানুষদের অনেক প্রত্যাশা। তাঁরা চান স্বচ্ছনীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ আর যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন। বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সরকারি অনুদান—বিভিন্ন বিষয়ে আবুল হায়াত–এর চাওয়া তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের।
সেই পাকিস্তান আমলেও টেলিভিশন ও বেতারে যে স্বায়ত্তশাসন ছিল, আস্তে আস্তে তা–ও বিলুপ্ত হয়ে গেল। যখন স্বায়ত্তশাসন ছিল, তখন যে ধরনের সৃজনশীল অনুষ্ঠান তৈরি হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো, সেগুলোও আস্তে আস্তে নিভে যেতে লাগল। যা ইচ্ছা, তা–ই অনুষ্ঠান হতে লাগল। আমি মনে করি, স্বায়ত্তশাসন থাকলে শিল্পকর্মটা যথাযথ বিকশিত হতে পারে। টেলিভিশনে স্বজনপ্রীতি বাদ দিয়ে সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। টেলিভিশন ও বেতারের স্বায়ত্তশাসন খুবই প্রয়োজন। এটা জরুরি।
শিল্পকলা একাডেমির দিকে তাকালে দেখি কখনো স্বাধীন ছিলাম, কখনো ছিলাম না। শিল্পকলা একাডেমিকেও স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। এটা শিল্পের বিকাশের একটা বড় ক্ষেত্র। এই অঙ্গনে কাউকে যদি হাত–পা বেঁধে সাঁতার কাটতে বলা হয়, তাহলে শিল্পকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়।
শিল্পীদের রাজনীতির কথা বলতে গেলে বলব, শিল্পীরা এই দেশের নাগরিক, রাজনীতি করার অধিকার তাঁদের আছে। কিন্তু কোনো শিল্পী যদি শিল্পকর্ম বাদ দিয়ে রাজনীতি নিয়েই বেশি মেতে থাকেন, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মীই হওয়া উচিত। শিল্পীদের দলদাস হওয়া ঠিক নয়। মতাদর্শ থাকতেই পারে। আর সরকারেরও উচিত, আমার পক্ষে কাজ না করলে সেই শিল্পীই শত্রু—এই ভাবনাচিন্তা থেকে বের হয়ে আসা।