সাফার মোবাইলে নেইমার-হলান্ড, মেহজাবীনের স্বপ্নপূরণ, ভিআইপি বক্সে ডিক্যাপ্রিও

ব্রাজিল সমর্থক অভিনেত্রী মাঠে থাকা নেইমার জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ডের তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন

মেহজাবীন চৌধুরী আর্জেন্টিনার সমর্থক। আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন তিনি। কেন? ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচের আগে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্রাজিলকে দু-একটা ফুটবলের টিপস দিতে এলাম।’ সেই ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল।

মেহজাবীনের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল স্টেডিয়ামে বসে ফিফা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখা। গতকাল সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এবার সেটি (স্বপ্ন) পূরণ হয়েছে। মাঠের পরিবেশ, হাজার হাজার দর্শকের একসঙ্গে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। টিভিতে যতটা অনুভব করা যায়, স্টেডিয়ামে বসে তার অনুভূতি কয়েক গুণ বেশি। এই স্মৃতিটা সারা জীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’

সাদা ক্যাপ আর লাল-সবুজ পোশাক পরে স্টেডিয়ামে হাজির হন মেহজাবীন। পেছনে লেখা মেহজাবীনের নাম, নিচে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা। হাতে বাংলাদেশের পতাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেহজাবীন চৌধুরী
শিল্পীর সৌজন্যে
আরও পড়ুন

মেহজাবীন বলেন, ‘খেলা শুরুর আগে মনে হয়েছিল ম্যাচটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। ব্রাজিল শক্তিশালী দল, নেইমারের প্রতি আমার ভীষণ সম্মান আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমি হলান্ডেরও ভক্ত হয়ে গেছি। আমার মনে হয়, সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আর আমি যেহেতু আর্জেন্টিনার সমর্থক, তাই হিসাবটা আমাকে নরওয়ের দিকেই টেনে নিয়েছিল।’

শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। তবে ম্যাচটি স্টেডিয়ামে বসে দেখা হচ্ছে না, এর আগেই দেশে ফিরতে হবে। মেহজাবীন বলেন, ‘মন থেকে চাইব, তারা (আর্জেন্টিনা) যেন ফাইনালে পৌঁছায়।’

জুন মাসের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন মেহজাবীন।

ব্রাজিল সমর্থক অভিনেত্রী সাফা কবির মাঠে থাকা নেইমার জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ডের তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন
ফেসবুক থেকে

আলোকচিত্রী সাফা

শুধু মেহজাবীনই নন, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিলেন সাফা কবিরও। ব্রাজিল সমর্থক অভিনেত্রী মাঠে থাকা নেইমার জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ডের তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘নেইমার জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ডকে একই ফ্রেমে বন্দী করতে পেরেছি, এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা সত্যিই এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলারের খেলা এত কাছ থেকে দেখতে পেরে নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’

নরওয়ের তারকা হলান্ডের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘পুরো খেলায় হলান্ড ছিলেন অসাধারণ। অন্যদিকে ব্রাজিল খেলেছে আবেগ ও গর্ব নিয়ে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে দুই দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের লড়াইয়ের মানসিকতা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’

আরও পড়ুন
স্টেডিয়ামের বাইরে সাফা কবির
শিল্পীর সৌজন্যে

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাফা লিখেছেন, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশ এবং নিজেদের দেশের হয়ে সাহস, নিষ্ঠা ও হৃদয় দিয়ে লড়াই করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। এমন মুহূর্তগুলোই মনে করিয়ে দেয়, কেন ফুটবলকে “দ্য বিউটিফুল গেম” বলা হয়।’

ভবিষ্যতেও বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের খেলা মাঠে বসে দেখার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী, ‘আশা করি, একদিন আরও অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারের খেলা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হবে। তত দিন পর্যন্ত এই অভিজ্ঞতাই আমার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হন সাফা কবির। পেছনে সাফার নাম লেখা। হাতে বাংলাদেশের পতাকা।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ধারণ করা একটি ভিডিও পোস্ট করে সাফা লিখেছেন, ‘আজ ব্রাজিলকে সমর্থন করতে এসেছি; কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে আরেকটা স্বপ্ন আছে, একদিন বাংলাদেশও এই মঞ্চে খেলবে আর আমি এখানে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে আমার নিজের দেশকে সমর্থন করব।’