মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদেছি’—প্রথমবার প্রেম–বিচ্ছেদের গল্প বললেন জোভান
বর্তমান সময়ের বাংলা নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। বছরজুড়ে অসংখ্য নাটকে অভিনয়, ইউটিউবে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা আর আলোচনার মধ্যেই এবার প্রথমবারের মতো নিজের ব্যক্তিজীবনের না–বলা কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তিনি। অংশ নিলেন জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠান ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’তে।
শিরোনাম দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো জোভানের নতুন কোনো নাটকের গল্প। তবে বাস্তবে এটি কোনো নাটক নয়, বরং অভিনেতা জোভানের নিজের জীবনের গল্প। জীবনে পাওয়া প্রেম, বিচ্ছেদ ও মানসিক সংগ্রামের কথাই অকপটে বলেছেন তিনি।
পডকাস্টটির দ্বিতীয় মৌসুমের পঞ্চম পর্বে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছেন জোভান। সঞ্চালনায় আছেন রুম্মান রশীদ খান। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে শনিবার, ৩ জানুয়ারি রাত আটটায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএমে। পডকাস্টটি প্রযোজনা করেছেন জেড আই ফয়সাল। এটি জোভানের অংশ নেওয়া প্রথম কোনো পডকাস্ট অনুষ্ঠান।
‘মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদেছিলাম’
পডকাস্টে এসে নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জোভান। তিনি জানান, অভিনয়জীবনের কয়েক বছর পর তিনি একটি সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কটির মেয়াদ ছিল মাত্র এক মাস। তবে এর পরই জীবনে নেমে আসে তীব্র মানসিক চাপ।
জোভান বলেন, ‘সম্পর্কটার সময়টা খুব বেশি ছিল না; কিন্তু শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছিল। এমনও হয়েছে—মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদেছি।’ তিনি আরও বলেন, জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে অনেক শক্ত করেছে। অভিনেতা হিসেবে গভীরভাবে চরিত্রে ঢুকতে সাহায্য করেছে।
এক বছরে ৫৬ নাটক, ইউটিউব ভিউ ৫০৭ মিলিয়ন
গত বছর জোভানের অভিনীত ৫৬টি নাটক প্রচারিত হয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ইউটিউব ভিউ প্রায় ৫০৭ মিলিয়ন, যা বর্তমান সময়ে যেকোনো অভিনয়শিল্পীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
২০২৫ সালটিকে জোভানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছর বলা যায়। এ বছরে তাঁর অভিনীত ‘কোটিপতি’, ‘হৃদয় গভীরে’, ‘তোমাদের গল্প’, ‘ফিরে দেখা’, ‘হৃদয়ের এক কোণে’ নাটকগুলো ছিল আলোচনায়। বিশেষ করে ‘কোটিপতি’ নাটকটি মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি ভিউয়ের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কেয়া পায়েলের বিপরীতে এই নাটকে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা পান তিনি। একই সঙ্গে তানজিম সাইয়ারা তটিনীর সঙ্গে তাঁর জুটি এ বছর দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে জোভান বলেন, ‘দর্শকদের ভালোবাসাই আমার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা। তাঁরা আছেন বলেই আমি কাজ করতে পারছি।’
নতুন বছরের পরিকল্পনা
নতুন বছরে আরও ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান জোভান। বলেন, ‘এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেগুলো মানুষের মনে থেকে যাবে। কাজ দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা ধরে রাখতে চাই।’
এ ছাড়া পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন এই তারকা। ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কঠিন হয়ে যায়—এ কথাও জানিয়েছেন জোভান।
এই পর্বে জোভান শুধু প্রেম–বিচ্ছেদের গল্পই নয়, বলেছেন নিজের জীবনের নানা কঠিন সময়, মানসিক লড়াই, অভিনয়জীবনের উত্থান–পতনের কথা। ফলে দর্শক–শ্রোতারা একজন অভিনেতার অন্তর্জগতের এক ভিন্ন চিত্র দেখবেন বলেই মনে করছেন আয়োজকেরা।
বাংলা নাটকের অঙ্গনে টানা জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এই অভিনেতার ব্যক্তিজীবনের অজানা গল্প ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার সেটিই ধরা পড়বে টিভি ও রেডিওতে।