সুর পাল্টে এবার প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, বিতর্কে আলভী

ফেসবুকে প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা যাহের আলভীকোলাজ

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে শোক আর আবেগের কথা বলেছিলেন অভিনেতা যাহের আলভী। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে গেছে তাঁর বক্তব্যের সুর। এবার প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এতে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, একজন প্রয়াত মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ তোলা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় মারা যান আফরা ইভনাথ খান ইকরা, যিনি ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন বলে জানান। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সেদিন নিজের ফেসবুক পোস্টে আলভী লেখেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’

ঘটনার পর ২ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে আবেগঘন বক্তব্য দেন আলভী। লাইভে তিনি স্ত্রীকে হারানোর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি সব সময় পরিবার নিয়ে সংসার করতে চেয়েছেন। পরদিন ৩ মার্চ আরেকটি ফেসবুক পোস্টে প্রয়াত স্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘ইকলি, তোকে একটা প্রশ্ন করি? কোনো একদিন তোর কাছে এসে উত্তরটা শুনে নেব।’ সেই পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি তাঁর জায়গায় ইকরা মারা যেতেন, তাহলে কি সবাই ইকরাকে একইভাবে দোষারোপ করত?

যাহের আলভী ও আফরা ইভনাথ খান ইকরা
কোলাজ

ইকরাকে ‘ইকলি’ নামে ডাকতেন আলভী। সেদিন ফেসবুক পোস্টে যাহের আলভী এ–ও লিখেছেন, ‘খুব শিগগিরই তোর সাথে কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় বসে, গল্প করতে করতে শুনে নিব তোর কাছ থেকে। শুনব কেমন লাগছিলো তোর, আমার আগে চলে এসে এই মিথ্যে জগতের লীলা খেলা! তৃপ্তি পেয়েছিলি খুব? রাগ করব, অভিমান করব, আবার তুই সরি বলবি, আমি জড়িয়ে ধরে ইটস ওকে বলব। সন্ধ্যা হয়ে আসবে, আবার দুইজন হারিয়ে যাব।’ সেই সম্বোধনে লেখা ওই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই পোস্ট নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তোলেন ও নানা ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যায়।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আলভীর বক্তব্যে আসে বড় পরিবর্তন। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি উল্টো প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তোলেন। পোস্টের শুরুতেই আলভী লেখেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট।’

আরও পড়ুন

সেই পোস্টে আলভী দাবি করেন, তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দিন ইকরা বাসায় বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিলেন এবং সেখানে মদ্যপানও হয়েছিল। এমনকি ঘটনার আগের দিন ইকরা তাঁর সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

পোস্টে আলভী আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে যদি মদ্যপান বা মাদক সেবন হয়ে থাকে, তাহলে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উঠে আসার কথা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না করা হয়—এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া আলভী দাবি করেন, তাঁদের বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার এক্সেস তাঁর কাছে ছিল না এবং সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে ইকরার ফোন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। তাই ওই তিন দিনের ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে না যায়—এ বিষয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নাটকের দৃশ্যে আলভী ও তিথি
ফেসবুক থেকে

দীর্ঘ ওই পোস্টে আলভী তাঁদের দাম্পত্যজীবনের অতীত নিয়েও কথা বলেন। তাঁর দাবি, ২০১০ সালে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে একসময় ইকরাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ইকরা সেই সম্পর্ক থেকে ফিরে এসে আবার তাঁর সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তিনি তাঁকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেন।

পোস্টের শেষ দিকে আলভী আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা ও কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার সঙ্গে জাহের আলভী
ছবি: ফেসবুক

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে আবেগঘন বক্তব্য ও কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—এই বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, একটি সংবেদনশীল ঘটনার পর এ ধরনের প্রকাশ্য অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং প্রয়াত একজন মানুষের সম্মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

আলভীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এ পোস্টে যথারীতি মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে রেখেছেন। তবে নেটিজনদের অনেকে আলাদা করে প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করছেন।