‘সমান সমান’ নাটকের গল্পটা কী নিয়ে?
রওনক রিপন: গল্পটা রতন আর শিউলিকে ঘিরে। রতন ছোটবেলা থেকেই শিউলিকে ভালোবাসে আর সেই ভালোবাসা প্রায় অভ্যাসের মতোই তার জীবনের অংশ হয়ে যায়। শিউলি বড় হয়ে ফুল বিক্রি করে আর রতন শহর-গঞ্জে বাচ্চাদের খেলনা ফেরি করে বেড়ায়। রতন প্রায়ই শিউলির কাছ থেকে ফুল কেনে, কিন্তু সেটা আসলে ভালোবাসার একটা অজুহাত। এভাবেই গল্প এগোয়। মূলত এটা একটা প্রেমের গল্প, তবে এর ভেতরের কিছু মানসিক দূরত্ব গল্পটাকে এগিয়ে নেয়।
প্রথম আলো :
নাটকের নাম ‘সমান সমান’–এর পেছনের ভাবনা কী?
রওনক রিপন: শিউলির ভেতরে সব সময় একটা দ্বন্দ্ব কাজ করে। সে মনে করে, তার শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সে রতনের সমান নয়, তাই রতনের ভালোবাসা গ্রহণ করতেও সে দ্বিধায় থাকে। নামটা এসেছে এখান থেকেই—মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সমান’ আসলে কী, সেই প্রশ্নই নাটকের মূল সুর।
টেলিভিশন থেকে ইউটিউব—এখন নাটক দেখার অভ্যাস অনেক বদলে গেছে, এই পরিবর্তন কীভাবে দেখেন?
রওনক রিপন: এখন মানুষ বাসে, গাড়িতে, আড্ডায় কিংবা ব্যক্তিগত সময়েও স্ক্রিনে চোখ রাখে। মানুষ অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আগে পরিবার একসঙ্গে বসে নাটক দেখত, একটা যৌথ অভিজ্ঞতা তৈরি হতো। এখন সেটা অনেকটাই কমে গেছে। আমি কোনো মাধ্যমকে ছোট করছি না, তবে এই সামাজিক অভিজ্ঞতার পরিবর্তনটা চোখে পড়ার মতো।
প্রথম আলো :
সামনে আপনার আর কী কাজ আসছে?
রওনক রিপন: নির্মাতা হিসেবে ‘তুসি’ এবং আরেকটি এক ঘণ্টার নাটক ‘জ্বীনের বাদশা’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ‘দ্য পাওয়ার অব বিউটি’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানাচ্ছি। অভিনয়ের দিক থেকে ‘শেকড়’ নামের একটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
‘শেকড়’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে...
রওনক রিপন: হ্যাঁ, এখানে আমি প্রধান খলচরিত্রে অভিনয় করেছি। ট্রেলারে কিছুটা ঝলক দেখা গেছে। এটি কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়াতে (ইফসা) প্রদর্শিত হয়েছে। সেখানে উপস্থিত অনেক কাছের মানুষজন জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি দর্শকেরা আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।