বাসার ৩ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন মুছে না যায়, ‘শেষ’ পোস্টে আলভী
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর অভিনয়শিল্পী যাহের আলভী কোথায় আছেন, তা কেউ জানেন না। নেপাল থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন নাকি ফেরেননি, এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও ফেসবুকে ভিডিও বার্তা ও পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার রাতেও আলভী তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যথারীতি মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে রেখেছেন।
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট।’
আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু বিচারে আইন তাঁর বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্তই নিক, তিনি তা মেনে নেবেন। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতেই এই পোস্ট করেছেন বলে জানান তিনি।
পোস্টে যাহের আলভী দাবি করেন, তাঁর বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার এক্সেস তাঁর কাছে ছিল না; সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
পোস্টে যাহের আলভী বলেন, তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। তাঁর দাবি, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যার পর ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং সেসব গতিবিধি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় বাসায় আসা বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান, মদ্যপান ও মাদক সেবনের ঘটনা ঘটেছে এবং দুর্ঘটনার আগের দিন ইকরা তাঁর সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন। এসব তথ্য তাঁর সহকারী পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আলভী।
সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিসিটিভির ওই তিন দিনের ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে না যায় এবং যদি মুছে ফেলা হয়, তবে তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা উচিত।
আলভী দাবি করেন, তাঁর নিজের ফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দিতে প্রস্তুত আছেন এবং সেখানে ইকরার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
ফেসবুক পোস্টের শেষ দিকে যাহের আলভী দাবি করেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁকে বিপদে ফেলতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হতে পারে। তাই জনগণ ও সাংবাদিকদের কাছে তাঁর আহ্বান—ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণগুলো যেন সঠিকভাবে যাচাই করা হয় এবং সেগুলো মুছে যেতে না দেওয়া হয়।