বিবাহবার্ষিকীতে শবনম ফারিয়া, ‘এত বছরের কষ্ট সহ্য করার উপহার’
অভিনয়ে এখন আর নিয়মিত নন শবনম ফারিয়া। চাকরির পাশাপাশি সময়-সুযোগ পেলে অভিনয় করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নানা অনুভূতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন এই অভিনেত্রী। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রথম বার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে অতীতের নানা তিক্ততা, মানসিক লড়াই এবং বর্তমান জীবনের ভালো থাকার কথা প্রকাশ করে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকার তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন শবনম ফারিয়া। বিয়ের এক বছর পূর্তিতে ঘরোয়াভাবে বিবাহবার্ষিকী উদ্যাপন করেছেন তাঁরা। কেক কাটার সেই মুহূর্তের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন ফারিয়া।
ফেসবুক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, জীবনে তিনি অনেক ভুল করেছেন। এর মধ্যে কিছু ভুলকে শুধু ভুল বললে কম বলা হবে। সামাজিকতা রক্ষার জন্য নিজের চরিত্রের বাইরে গিয়ে অনেক অন্যায় সহ্য করেছেন বলেও জানান তিনি। এসব অভিজ্ঞতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও থেরাপিরও সহায়তা নিয়েছেন অভিনেত্রী।
শবনম ফারিয়ার মতে, জীবনের কয়েকটি বছর ভেতরে জমে থাকা কষ্ট ও আর্তনাদ থেকে পালাতেই কেটে গেছে। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এখন জীবনে পাওয়া মানুষ ও পরিবারকে নিজের জন্য বড় উপহার হিসেবে দেখছেন তিনি।
তানজিমকে জীবনের সেই ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করে ফারিয়া লিখেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে খুব বেশি দিন কষ্টে রাখেন না। তিনি আমাকেও এত বছরের কষ্ট সহ্য করার উপহারস্বরূপ এই ভদ্রলোককে আমার জীবনে পাঠিয়েছেন।’
নতুন পরিবার নিয়েও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে নিজের অনেক বিষয় ভাগ করে নেওয়া এবং ননদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও লিখেছেন তিনি। সব মিলিয়ে বর্তমান জীবন নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারিয়া।
তবে আবেগঘন কথার মধ্যেও স্বভাবসুলভ রসিকতা করতে ভোলেননি শবনম ফারিয়া। স্বামীকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী বছরের জন্য দুটি ‘প্রতিপাদ্য’ ঠিক করে দিয়েছেন তিনি—রুম থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করা এবং ফ্রিজ থেকে পানি বের করার পর ফ্রিজের দরজা বন্ধ করা।
শবনম ফারিয়ার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। এর পাঁচ বছর পর তানজিম তৈয়বের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন তিনি।