সজল, মম ও ফারিণের সঙ্গে কথা হলো। তাঁরা মগবাজারের এসআরকে স্টুডিওতে ডাবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছিলেন। সজলের সঙ্গে ডাবিং করছিলেন হালের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তাসনিয়া ফারিণ। তাঁরা দুজন কোরিয়ান সিরিজ লিজেন্ড অব দ্য ব্লু সির ডাবিং করছিলেন। সজল কোরিয়ান অভিনয়শিল্পী লি মিন হো আর ফারিণ জুন জি-হিউনের চরিত্রে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন।

দেড় দশকের বেশি অভিনয়ের সঙ্গে আছেন সজল। এই দীর্ঘ সময়ে নাটক, টেলিছবি ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংও করেছেন। এবারই প্রথম কোরিয়ান সিরিজের ডাবিং করলেন। ডাবিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে তিনি বলেন, ‘লি মিন হো আমার পছন্দের অভিনেতা। পছন্দের অভিনেতার জন্য প্রথমবার কোরিয়ান কোনো কাজের ডাবিং করতে রাজি হয়েছি। তা ছাড়া ডাবিং সিরিজগুলো দেশের দর্শক দেখছেন। এর মধ্য দিয়েও অন্য দর্শকদের সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’

প্রথমবার ডাবিং শিল্পী হিসেবে কাজ করা ফারিণ জানান, এত দিন তো অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু ভয়েস অ্যাকটিং করা হয়নি। তাই নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই এটা করা। বেশ ভালো লেগেছে।

‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ চলচ্চিত্রের ডাবিং করছিলেন মম। এই চলচ্চিত্রের সেলিন চরিত্রে বাংলায় কণ্ঠ মিলিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, ডাবিংয়ের কাজটি তিনি ভীষণ উপভোগ করছেন। এটি তাঁর দ্বিতীয় ডাবিং। এর আগে হলিউডের জনপ্রিয় ভৌতিক সিনেমা ‘রেসিডেন্ট এভিল’-এর বাংলা ডাবিং ভার্সনে অ্যালিস চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। মম বলেন, ‘আগে নিজের চরিত্রে ডাবিং করেছি। কিন্তু অন্য একটা চরিত্রে, তার মতো করে, তার আবেগ ধারণ করে, তার চোখের চাহনি, তার শরীরের ভাষা বুঝে ডাবিং করাটা চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি ডায়ালগ ধরে ধরে আমরা এগিয়েছি। স্ক্রিপ্টের বাইরেও ইম্প্রোভাইস করেছি। আমি আর আমার ভয়েস অ্যাকটিং পরিচালক সতর্ক থেকে কাজটা করেছি।’

আগে শুধু ভয়েস আর্টিস্টরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক নাটক, অ্যানিমেশন ও ওয়েব সিরিজে কণ্ঠ দিলেও এখন যুক্ত হচ্ছেন তারকা শিল্পীরা। একসময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা সজল যেমন ভিন্ন ভাষায় সিরিজে ডাবিং করছেন, তেমনি হালের জনপ্রিয় নায়ক শরীফুল রাজকেও এই কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। নতুন পরিচয়ে ভক্তদের সামনে হাজির হওয়ার এই বিষয় ভীষণ উপভোগ করছেন তাঁরা।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘মেহমেদ’-এ প্রথমবার কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন রওনক হাসান। এই সিরিজের সুলতান মেহমেদ চরিত্রে বাংলায় কণ্ঠ মিলিয়েছেন তিনি। কঠিন মনে হলেও কাজটি উপভোগ করছেন রওনক। তিনি বলেন, ‘ভীষণ কঠিন কাজ! এ যেন হাত-পা বেঁধে অভিনয়। অন্য একটি ভাষায় অন্য একজন অভিনেতার অভিনয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কণ্ঠ–অভিনয় করতে হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা ভীষণ কষ্টকর। তবে ডাবিং শেষে যখন দেখি, তখন তৃপ্তি লাগে। কাজটা করে খুব আনন্দ পেয়েছি।’ রওনক হাসানের সঙ্গে এই কাজে ভয়েস অ্যাকটিং ডিরেক্টর ছিলেন সামিউল জীবন।

হলিউডের জনপ্রিয় দুই চরিত্র টিনটিন ও স্পাইডার চরিত্রে বাংলা কণ্ঠ দিয়েছেন ইয়াশ রোহান। তাঁর মতে, ডাবিংয়ের কাজটা সহজ নয়। তবে যাঁরা নিয়মিত এ কাজ করেন, তাঁদের জন্য হয়তো সহজ। তবে বিষয়টি তাঁর জন্য খুব উপভোগ্য ছিল।

বাংলাদেশের তরুণ নাট্যকর্মীরা বিকল্প উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ডাবিং শিল্প বা কণ্ঠ–অভিনয়ে যুক্ত হন। অনেকে স্থায়ী পেশা হিসেবেও শিল্পটিকে গ্রহণ করছেন। বিদেশি সিরিয়াল, কার্টুন, অ্যানিমেশন, বিদেশি সিনেমা, বিজ্ঞাপনসহ ডাবিং কিংবা কণ্ঠ–অভিনয়সংশ্লিষ্ট নানা কিছুর সঙ্গে কাজ করছেন পাঁচ শতাধিক তরুণ নাট্যকর্মী।