ইকরার মৃত্যু, অভিনেতা জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা
আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় এই মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তানভীর আহমেদ।
মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, ‘মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।’
আলভীর স্ত্রী ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়। এর পর থেকেই বিষয়টি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। তাঁদের সংসারে রিজিক নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
ইকরার মামা তানভীর আহমেদ জানালেন, সকালে ইকরার ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংয়ের ভালুকার ধীতপুর ইউনিয়নে তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে পারিবারিক করবস্থানে বাদ আসর সমাহিত করা হয় ইকরাকে।
ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। ইকরার মৃত্যুর পরপরই একজন অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর সঙ্গে জাহের আলভীর কথিত প্রেমের সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের জেরে ইকরা ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নিয়েছেন, এমনটাই অভিযোগ ইকরার মা রেবেকা সুলতানা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি বন্ধুদেরও। এদিকে ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম জানালেন, ইকরা আত্মহত্যা করার মতো মেয়েই নন। কী পরিমাণ কষ্ট আলভী দিয়েছেন, যে কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছেন, তা জানা দরকার।