বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে—কারিনাকে নিয়ে কায়সার হামিদ

বাবা কায়সার হামিদের কোলে তিন মাস বয়সী কারিনা কায়সারছবি : কায়সার হামিদের ফেসবুক

‘বড় মেয়েটা আমার। এত তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবে, ভাবতেও পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই কষ্টটা কাকে বোঝাব? প্রতিদিন যেন বুকের ওপর একটা পাথর নিয়ে বেঁচে আছি। কিছুই ভালো লাগে না। বারবার মনে হয়, এই বুঝি কারিনা “বাবা” বলে ডাকবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, কারিনা তো আর নেই। সে অনন্তের পথে পাড়ি দিয়েছে।’ কথাগুলো বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদ।

সদ্য প্রয়াত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে হারানোর শোক এখনো বাবাকে তাড়া করে ফিরছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে যখন প্রথম আলোর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন, তখন একজন সন্তানহারা বাবার অসহায়ত্ব বারবার ফুটে উঠছিল।

বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে কারিনা কায়সার
ছবি : কায়সার হামিদের ফেসবুক

আগামী ১১ নভেম্বর ৩৩ বছর পূর্ণ হতো কারিনা কায়সারের। কিন্তু জন্মদিনের আগেই লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় থেমে গেছে তাঁর জীবন। গত সোমবার মুন্সিগঞ্জে নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাঁকে। অথচ পরিবারের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস করা কঠিন—কারিনা আর ফিরবে না।

মেয়ের স্মৃতি মনে করে আজ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেছেন কায়সার হামিদ। ছবিতে দেখা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী কারিনা বাবার কোলে। বনানী ডিওএইচএসের বাসায় তোলা সেই ছবিটি তুলে দিয়েছিলেন কারিনার মা লোপা কায়সার। ছবিটির দিকে তাকিয়ে যেন ফিরে যাচ্ছিলেন তিন দশকের বেশি সময় আগের দিনে। স্মৃতিচারণা করে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম হয়েছিল তাঁর মেয়ের। এ বছরের নভেম্বরে ৩৩ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল।

বাবা কায়সার হামিদের কোলে তিন মাস বয়সী কারিনা কায়সার
ছবি : কায়সার হামিদের ফেসবুক

ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে কন্যার উদ্দেশে আবেগঘন কয়েকটি লাইনও লিখেছেন কায়সার হামিদ, ‘কারিনা, দিন যাবে, বছর যাবে। একসময় সবাই তোমাকে ভুলে যেতে পারে। কিন্তু তোমার বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’

আরও পড়ুন

মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে শোকের ভার যেন পুরো পরিবারকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার আশায় গত সপ্তাহে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল কারিনাকে। চিকিৎসকেরা তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করার পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত রোববার মেয়ের মরদেহ নিয়ে দেশে ফেরেন মা লোপা কায়সার।

কারিনা কায়সার
চরকির সৌজন্যে

শোকাহত মা লোপা কায়সারও সামাজিকমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারও কাছে কিছু চাইনি, কারও অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।’

বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে কারিনা কায়সার
ছবি : কায়সার হামিদের ফেসবুক

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা কায়সার। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ করছিলেন কারিনা। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।