‘চিকিৎসক পর্যন্ত মানা করে দিয়েছেন, আর ঝগড়াটে চরিত্র করা যাবে না’

মোশাররফ করিমের বিপরীতে পরপর তিনটি নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় রয়েছেন অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা। গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে মকফুল হোসেন।

প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন
প্রথম আলো:

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত?

এখন তো নাটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত। মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে যেহেতু আমাদের জুটিটা দর্শকেরা অনেক বেশি পছন্দ করছেন, তাই তাঁর সঙ্গেই কাজ একটু বেশি হচ্ছে।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

মোশাররফ করিমের সঙ্গে আপনার জুটি দর্শকেরা কেন পছন্দ করছেন?

আমার মনে হয়, একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার চেনা চরিত্রের বাইরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছু নাটক করেছি। যেমন তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম যে নাটকটি আমাকে অনেক বেশি পরিচিতি দিয়েছে, সেটি হলো জামাই বউ অতি চালাক। সেখানে আমার চেনা চরিত্রের বাইরে গিয়ে একেবারে অন্য রকম একটি চরিত্র করেছি। ঝগড়াটে, একদম গ্রামের মেয়ের মতো। দর্শকেরা দেখলাম এটা খুব পছন্দ করেছেন। এখন বেশির ভাগ নাটকেই তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করেই সময় কাটছে।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

আপনি ফেসবুকে ঝগড়া নিয়ে একটি পোস্টও করেছিলেন। আপনি নাকি একদমই ঝগড়া করতে পারতেন না। সেটা কীভাবে রপ্ত করলেন?

ব্যক্তিগত জীবনে যখন ঝগড়া করতাম, তখন দেখা যেত, নিজের অনুভূতিগুলো ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারতাম না। অনেক কিছু আটকে রাখতাম। একসময় রাগ জমে গিয়ে বিস্ফোরণ হতো। তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করে ইংরেজিতে কী কী বলতাম, সেগুলোর কোনো অর্থও থাকত না। ওইটাই ছিল আমার ঝগড়া। কিন্তু মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার সময় চরিত্রটির ভাষা নিয়ে পরিকল্পনা করলাম। আম্মুর সঙ্গে বসে তিন-চার দিন ধরে অনুশীলন করলাম, কীভাবে ঝগড়া করতে হয়। এরপর ঝগড়ার নাটক করলাম। দর্শকেরা দেখলাম খুব পছন্দ করছেন। এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে আমার চিকিৎসক পর্যন্ত মানা করে দিয়েছেন, আর ঝগড়াটে চরিত্র করা যাবে না। আমার স্বামী যা-ই করুক, বেশির ভাগ সময় আমার ঝগড়া করতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু আমার ঝগড়ার জীবনে যা কিছু আছে, সব মোশাররফ ভাইয়ের ওপর দিয়েই যায়।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

ঝগড়াটে চরিত্র করা যাবে না কেন? কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন?

হ্যাঁ, আমার অনেক রকম সমস্যা হচ্ছে। গলায় সমস্যা, অনেক দিন ধরে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলাম না। বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকছি। কারণ, ঝগড়ার অভিনয় করতে গেলে অনেক শক্তি প্রয়োজন হয়। মানসিকভাবেও অনেক চাপ যায়। এসব কারণে চিকিৎসক আমাকে একটু মানা করেছেন।

প্রথম আলো:

কোনো চরিত্র জনপ্রিয় হলে দর্শকেরা অনেক সময় সেই অভিনেতাকে একই ধরনের চরিত্রে দেখতে চান।

এখন আমি পরিচালকদের একটু বলে দিচ্ছি যে এই ঝগড়াটে নাটকটা আমি এখন কম করতে চাই। তবে সব একেবারে বাদ দিচ্ছি না। যেসব চরিত্র আমার খুব ভালো লাগছে, সেগুলো ঠিকই করছি। একটু বেছে বেছে কাজ করছি এবং পরিচিত ছক থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

মাঝে নাটকে একটু কম কাজ করছিলেন, এখন আবার নাটকে কাজ বাড়িয়েছেন।

মাঝে আমি একটু সিনেমায় মনোযোগী ছিলাম। এর মধ্যে তিনটি সিনেমায় কাজ করেছি। একটি মুক্তি পেয়েছে, আর দুটি বাকি। তখন সিনেমায় বেশি মনোযোগ দিয়েছিলাম। এখন কাজ করছি। আসলে এখন আর মাধ্যম বাছাই করছি না। আমি অভিনয় ভালোবাসি। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে কাজ করছি।

প্রথম আলো:

কেউ কেউ বলছেন, বিয়ের পর আপনার কাজের পরিমাণ বেড়েছে।

বিয়ের সঙ্গে একটু সম্পর্ক আছে। বিয়ের আগে আমার অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। সবকিছু খুব সহজেই পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই সুযোগগুলোর গুরুত্ব তখন ঠিক বুঝিনি। কাজ আসত, করতাম; কিন্তু ততটা মনোযোগী ছিলাম না। বিয়ে মানুষকে অনেক পরিণত করে দেয়। জীবনের ব্যাপারে অনেক সচেতন করে দেয়। সে কারণে হয়তো এখন আমি আমার অভিনয়জীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
আরেকটা বিষয় আছে। মাঝখানে আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন একদিন রাস্তার মধ্যে একটি শুটিং দেখছিলাম। রাস্তায় আলো, ক্যামেরা, চেয়ার—সব সাজানো। আমি গাড়িতে যাচ্ছিলাম। সেই মুহূর্তে শুটিং দেখে মনে হলো, আমার তো এখানেই কাজ করার কথা, আমি এখানেই কাজ করতে চাই। এই উপলব্ধির পর কাজের প্রতি ভালোবাসা অনেক বেড়ে গেছে। বিয়ের সময়ের সঙ্গে ঘটনাটি মিলে গেছে, কিন্তু বিয়ের কারণেই যে এমন হয়েছে, তা নয়।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

মাঝখানে কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন কেন?

তখন আসলে কাজটা উপভোগ করছিলাম না। কাজের সুযোগগুলো খুব সহজভাবে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার কাজ উপভোগ করছি।

প্রথম আলো:

এই সময়ে এসে আপনার পরিকল্পনা কী?

এখন যেহেতু অভিনয় নিয়ে মনোযোগী হয়েছি, এটাকে আমি ভালোবাসি। অভিনয়ই আমার সবকিছু। কাজে পুরো মনোযোগ দিচ্ছি। এখন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। এমন সব কঠিন কাজে নিজেকে পরীক্ষা করতে চাই, যেগুলো আগে কখনো করা হয়নি। শুধু এখানে থেমে থাকতে চাই না। হয়তো দেশের বাইরেও কিছু করতে চাই। অনেক কিছু নিয়ে চেষ্টা করছি, পরিকল্পনা আছে। ধীরে ধীরে দেখি কত দূর যেতে পারি।

নীলাঞ্জনা নীলা
শিল্পীর সৌজন্যে
প্রথম আলো:

আপনি অনুদানের সিনেমা করেছেন, বাণিজ্যিক সিনেমাও। কোন ধরনের সিনেমারপ্রতি আপনার আগ্রহ বেশি?

আমি আসলে ভিন্নধারার সিনেমা এখন একটু বন্ধ রেখেছি। বাংলাদেশে একবার এ ধরনের কাজ করলে ওই ধরনের কাজই বেশি আসে। কয়েকবার এমন ভিন্নধারার সিনেমা করেছি। এর মধ্যে একটু বাণিজ্যিক সিনেমাও করেছি। সেটির প্রচারণার জন্য আমরা খুব বেশি দূর এগোতে পারিনি। এখন একটু ভিন্ন কিছু করতে চাই।

প্রথম আলো:

অবসর সময়ে কী করেন?

অবসর সময়ে বাসায় থাকলে যোগব্যায়াম করতে পছন্দ করি। নিজের যত্ন নেওয়া, ধ্যান—এসব করি। ব্যায়াম করি, গেম খেলি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। যখনই অবসর পাই, দেখা যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি।