‘এবার আমার বয়স ১৮, পরেরবার এইটটিন’
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ যখন ফোন রিসিভ করেন, তখন চারপাশে অনেক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মিরপুর ডিওএইচএসে শুটিং চলছে। নাটকের পরিচালক মাহমুদুর রহমান পাশ থেকে ডাকছিলেন, ‘ফারিণ, লাইট–ক্যামেরা প্রস্তুত, সূর্য চলে যাচ্ছে, দ্রুত এসো।’ ফারিণ বললেন, ‘ওই দেখেছেন ভাই, ক্যামেরা প্রস্তুত, পরিচালক ডাকছেন।’ ততক্ষণে মুঠোফোন পরিচালকের কাছে। তিনি বললেন, ‘ভাই এক মিনিট কথা বলেন, এর মধ্যেই ফারিণের শুটিং শেষ হবে।’
মাহমুদুর রহমান জানালেন, আসছে ভালোবাসা দিবসের জন্য ‘প্রেমরোগ’ নামে একটি নাটকের শুটিং চলছে। ফারিণের জন্মদিন ঘিরে কিছু সময় পরপর তারা ফারিণকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এতেই হেসে কুটিকুটি হচ্ছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। তবে শুটিং ইউনিটের পক্ষ থেকে ফারিণের জন্য এখনো তেমন কোনো আয়োজনই করা হয়নি। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনই ফারিণকে কিছু জানতে দিইনি। রাত আটটার দিকে তাঁকে সারপ্রাইজ দেওয়া হবে।’ বললাম, ঠিক আছে। কথা আর বাড়ানো গেল না।
ঠিক এক মিনিট পরই ফোন গেল ফারিণের হাতে। নাটকের প্রোমোর জন্য গানের একটি রোমান্টিক মুহূর্তের দৃশ্যায়নে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাই বেশি সময় লাগেনি। তাহলে ‘প্রেমরোগ’ ভালোই জমে উঠেছে? শুনেই ফারিণের মুখে হাসি। ‘হ্যাঁ, আমরা নাটকে প্রেম করছি। গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে। দর্শক আলাদা কিছু পাবেন।’ জন্মদিনটি ঠিক অন্য প্রতিটি দিনের মতোই। নেই কোনো আলাদা আয়োজন। আগের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম বলতে, ‘আমি আগে সাদামাটাভাবে পরিবারের সঙ্গে বা কখনো কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কেক কাটতাম। এখন অনেকেই দিনটিতে শুভেচ্ছা জানান। আমার ফ্যান গ্রুপ ও অন্যদের উপহারে বাসা সয়লাব। ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা তো বলাই হয়নি।’ বলেই চুপ ফারিণ। তখনো শুটিংয়ে চারপাশে কোলাহল আর ব্যস্ততা।
ফারিণকে জিজ্ঞাসা করি, কী বলা হয়নি, ব্যক্তিগত কোনো সুখবর? ‘না না। আর শোনেন, বয়স কত, লেখা যাবে না। আমি এবার ১৮, আগামী বছর এইটটিনে পড়ব।’ বয়স এক বছর বেড়ে গেল...? ‘হ্যাঁ, এটা নিয়ে জন্মদিনে আমার মন খারাপ থাকে। দিনটা যে কেন এত দ্রুত আসে!’ এবার ফিরে যাই ফারিণের না বলা কথায়। ফারিণ বলেন, ‘সাদামাটাভাবে দিনটি কাটলেও আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে মাকে নিয়ে। শুধু ভাবি, মাকে কীভাবে সারপ্রাইজ দেওয়া যায়। এবার এখনো দিইনি। শুটিং থেকে ফিরে দেব। সেটাই আমার জন্য দারুণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। যেমন গত বছর মায়ের পছন্দের শাড়ি দিয়েছিলাম।’