‘ঘটনা সত্য’ নাটকটি কোনোভাবেই আর পরিবর্তন–পরিবর্ধন করে ইউটিউব বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এফটিপিও (ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন)। নাটকটি ইউটিউবে ওঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচিত হয়। সেই সময় সংগঠনের নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। নাটকের শেষে বক্তব্যে ছিল, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু পাপের ফসল।
গত বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেয় ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, টেলিপ্যাব, চিত্রনাট্যকারসহ ছোট পর্দার ১৫টি সংগঠনের ফেডারেশন এফটিপিও। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিএমভি প্রযোজিত ‘ঘটনা সত্য’ নাটকটি ইউটিউবে তোলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা নাটকটির শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে অনলাইনে জরুরি সভা করে।
আলোচনা সভায় নাটকটির পরিচালক রুবেল হাসান বলেন, নাটকের শেষ অংশটি (ভয়েস ওভার) নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে, সেটি নাটকের মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। এটি পরে সংযোজন করা হয়েছে। অজ্ঞতাবশত, অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য তাঁরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
একই সঙ্গে নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুই শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী মর্মাহত ও ভীষণভাবে অনুতপ্ত। তাঁরাও সভায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি ও সর্বোপরি তাদের মা–বাবাদের প্রতি অনিচ্ছাকৃত ভুল বার্তা প্রেরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আলোচনা শেষে এফটিপিওর কাছে মনে হয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তাদের মা–বাবার প্রতি বিদ্বেষ কিংবা তাদেরকে অবজ্ঞা করার কোনো রকম প্রয়াস শুটিং ইউনিটের কারও ছিল না। তা ছাড়া ইতিপূর্বে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি অনেক নাটক প্রযোজনা করলেও এমন ভুল বার্তা প্রেরণের মতো ঘটনা ঘটেনি।
আলোচনা শেষে সংগঠন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত ‘ঘটনা সত্য’ নাটকটি কোনোভাবেই পরিবর্তন–পরিবর্ধন করে ইউটিউব বা অন্য কোনো মাধ্যমে আর প্রচার করা যাবে না। বিশেষ শিশুদের সামাজিক বিকাশ ও প্রচারণার জন্য এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও নাটক নির্মাণ ও প্রচার করে এই ধরনের শিশুদের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নাটকের অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো ও মেহ্জাবীন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশেষ শিশুদের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে সংগঠন থেকে তাঁদের সহায়তা করা হবে। এখন থেকে এফটিপিও–সংশ্লিষ্ট ১৫টি সংগঠনের সদস্য নন, এমন কাউকে দিয়ে নাটক নির্মাণ করা থেকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিরত থাকবে। নাটক নির্মাণের আগে অবশ্যই তারা নিজ উদ্যোগে নাটকের পাণ্ডুলিপি প্রিভিউ করবে। নির্মাণের পর দক্ষ প্রিভিউ কমিটি তার অনুমোদন দেবে। দেশে বিদ্যমান সম্প্রচার আইন ও নীতিমালা মেনে ভবিষ্যতে নাটক নির্মাণ ও প্রচার করবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো।