‘দর্শক যেন না বলে, ধুর কী দেখলাম, আজাইরা’
অভিনয়টাই নিয়মিত করে যেতে চান। কিন্তু অনেকগুলো কারণেই অভিনয়ে আগের মতো দেখা যায় না। আজ অভিনেতা জিতু আহসানের জন্মদিন। অর্জন, অভিনয়, প্রত্যাশা নিয়ে কথা বললেন তিনি।
প্রশ্ন :
শুভ জন্মদিন
ধন্যবাদ।
প্রশ্ন :
আপনার জন্মদিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ কার?
আমার দুই সন্তানের। তারা গোপনে আমার জন্য কেক বানায়। কার্ড তৈরিসহ নানা সারপ্রাইজ দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের মা অনেক কিছু আয়োজন করে। এবার তাদের সবার মন খারাপ।
প্রশ্ন :
কেন?
তাদের সবাই করোনায় আক্রান্ত। আমিই শুধু করোনামুক্ত আছি। এসব কারণে এবারের জন্মদিনটা নীরবেই কেটে যাচ্ছে। তবে পরিবারের সঙ্গে আছি। চারজনের সংসারে এখন খুব বেশি দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আমি অনেক সৌভাগ্যবান। সহকর্মী, ভক্ত অনেকেই আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মরণ করছেন।
প্রশ্ন :
নিয়মিত আপনাকে পর্দায় দেখা যায় না কেন?
মাঝখানে যে ধরনের কাজগুলো হচ্ছিল, সেগুলো আমাকে টানেনি। এগুলো আমার কাছে মনে হয়েছে, শুধু অভিনয় করার জন্যই করা। কাজগুলো দিয়ে শুধু টেলিভিশনে চেহারা দেখানো। একটা নাটক বা ফিল্মের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য না থাকলে সেটা আর পাঁচটা কাজের মধ্যেই পড়ে যায়। আমার কাছে মনে হয়েছে, মানুষকে আকর্ষণ করার মতো কিছু থাকতে হবে। না হলে কী নাটক হচ্ছে, মানুষ মনে রাখবে না। তাহলে এখনো আমরা ৭০, ৮০–এর দশকের নাটকের উদাহরণ টানব।
প্রশ্ন :
কিছু কাজ তো ভালো হচ্ছে?
এখন ওটিটিতে ভালো কাজ হচ্ছে। প্রোডাকশন হাউসের বাইরে এসে এই প্ল্যাটফর্মগুলো কাজ করছে। যে কারণে ভালো কাজ হচ্ছে। নেটফ্লিক্স দেখার পর মানুষ ভিন্ন ধরনের চিন্তা করা শুরু করছে। কমেডি থেকে বের হয়ে এসে অন্য ধরনের কিছু করার চেষ্টা করছে। তবে কোনো কাজকেই খারাপ বলব না।
প্রশ্ন :
কখনো কি মনে হয়েছে, সেভাবে মূল্যায়িত হননি?
মূল্যায়ন করল কী করল না, এটা আমি ক্যারিয়ারে কখনোই ভাবিনি। চিত্রনাট্য ও দর্শকের কাছে কাজটা কেমন লাগবে, সেটা ভেবে কাজ করেছি। ভেবেছি টেলিভিশনের সামনে বসা মানুষটার যেন সময় নষ্ট না হয়। দর্শক যেন না বলে, ধুর কী দেখলাম, আজাইরা। আর আমি একটা চরিত্র কখনোই বারবার করতে চাইনি।
প্রশ্ন :
ক্যারিয়ারে পেছনে তাকালে কোন বিষয়টাকে মিস করেন?
অভিনয়টাকে মিস করি। একসময় অনেক মজার মজার চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিছু চরিত্র নিয়ে ভয়ও ছিল। আবার সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি। শুটিংয়ের বিষয়গুলোকেই মিস করি। ভালো চিত্রনাট্য, চরিত্র, সহকর্মী সবাই একসঙ্গে কাজ করছি, এটা আমি ভীষণ মিস করি।
প্রশ্ন :
ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
দর্শকদের ভালোবাসা একটি অ্যাওয়ার্ড দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। এই ভালোবাসা অকৃত্রিম। এই ভালোবাসা মন থেকে। এটাই সেরা অর্জন।
প্রশ্ন :
পেছনে তাকালে কখনো কি মনে হয়, এই কাজটা না করলেও পারতেন?
আমি যা করেছি, সবই ঠিক আছে। আমার কোনো আফসোস নেই। যা পেয়েছি যথেষ্ট, আমি খুশি।
প্রশ্ন :
যে চরিত্রটি করতে চান?
সে রকম কোনো ইচ্ছা নেই। তবে কিছু চিত্রনাট্য পড়লে শরীরে জোশ চলে আসে। যে চিত্রনাট্য দেখে মনে হবে ফরমায়েশিভাবে লেখা না, পরিকল্পনা করে লেখা, ভালো সংলাপ। যেটা পড়লে আমার কাছে মনে হয় স্বপ্নের চরিত্র, অভিনয়ের উদ্দেশ্য খুঁজে পাই। সেই চরিত্রগুলোই খুঁজি।
প্রশ্ন :
এখন সময় কীভাবে কাটে?
পরিবারের কিছু কাজ করতে হয়। একটি সংস্থার সঙ্গে আছি, সেখানে সময় দিতে হয়। পরিবারকে সময় দিই।