নতুন স্বাভাবিকে বাড়ছে নাটক নির্মাণ

‘পিছুটান’ নাটকে জাহিদ হাসান ও দিলারা জামান
সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস বন্ধ ছিল টেলিভিশন নাটকের শুটিং। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত জুন মাস থেকে স্বল্প পরিসরে ছোট পর্দার শুটিং শুরু। সময় যত গড়াচ্ছে, নাটক নির্মাণের পরিমাণ বাড়ছে। নতুন স্বাভাবিকে কাজে নেমে পড়েছেন অভিনয়শিল্পীরা।

শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়ার পর গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মাত্র তিনটি নাটকের শুটিং হয়েছিল। ঈদকে ঘিরেও আগস্ট মাসে শুটিংয়ে নামেন বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী। তবে তা-ও ছিল গত বছরের তুলনায় কম। কারণ অনেক শিল্পীই কাজে ফিরতে দ্বিধায় ছিলেন। তবে ধীরে ধীরে কাজে নেমে পড়েছেন অভিনয়শিল্পীরা।

ঢাকার উত্তরা, ৩০০ ফিট, পুরান ঢাকা, গাজীপুরের পুবাইল, সাভার, মানিকগঞ্জের শুটিংবাড়িসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত শুটিং শুরু হয়েছে। জাহিদ হাসান, তারিন, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, অপূর্ব, আফরান নিশো, মেহ্জাবীন চৌধুরী, নাদিয়া আহমেদ, নাদিয়া নদী, তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির, জোভান, তানজিন তিশা, নিলয়, মৌসুমী হামিদ, সুজাত শিমুলসহ ছোট পর্দার প্রায় সব তারকাই শুটিংয়ে ব্যস্ত।

এ প্রসঙ্গে অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘দিন দিন নাটকের শুটিং বাড়ছে, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। আমি মনে করি সবই ঠিকঠাক আছে। কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, করোনা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। নতুন স্বাভাবিকে আমরা যদি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করি, তাহলে আমাদের কাজ সামনে আরও বাড়বে। আমরা আবার আগের গতিতে শুটিং করতে পারব।’

একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, করোনা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। নতুন স্বাভাবিকে আমরা যদি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করি, তাহলে আমাদের কাজ সামনে আরও বাড়বে। আমরা আবার আগের গতিতে শুটিং করতে পারব।’
শহীদুজ্জামান সেলিম, সভাপতি, অভিনয় শিল্পী সংঘ
প্রতিকূলতা থাকার পরও নিয়মিত ৫০ থেকে ৬০ জন নির্মাতা কাজ করছেন।
সংগৃহীত

নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড সূত্র জানিয়েছে, টেলিভিশন আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রতিদিন একক ও ধারাবাহিক নাটক মিলিয়ে ৩০টির বেশি নাটকের শুটিং হচ্ছে। আগে শতাধিক নির্মাতা নিয়মিত শুটিং করলেও সেই সংখ্যা এখন কিছুটা কম। সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘প্রথম দিকে আমরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই ভয় পাচ্ছিলাম। অনেকের কাজ ছিল না। নাটক নির্মাণের সংখ্যাও ছিল কম। এখন কিছুটা আশার আলো দেখছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করার চেষ্টা চলছে। প্রতিকূলতা থাকার পরও নিয়মিত ৫০ থেকে ৬০ জন নির্মাতা কাজ করছেন।’

তিনি আশা করেন, করোনা পরিস্থিতি খারাপ না হলে দুই মাসের মধ্যে আগের মতো পুরো উদ্যমে নাটকের শুটিং শুরু হবে।

গত ২২ মার্চ থেকে ছোট পর্দার সব শুটিং স্থগিত করা হয়েছিল।
সংগৃহীত

করোনার সংক্রমণের প্রথম দিকে নাটকে অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন ছোট পর্দার প্রযোজকেরা। এখন নতুন স্বাভাবিকে অর্থ লগ্নি করে কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন অনেকে। জানা গেছে, টিভি ও অনলাইন নাটকের চাহিদা বাড়ছে। টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, গত মাসে নাটকে বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো। এই সংখ্যা আরও বাড়বে হবে বলে জানান তাঁরা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির বলেন, ‘আগের মতো অত শুটিং হচ্ছে না। তবে আমাদের কিছু প্রযোজক ডাল-ভাত খেতে পারছেন, এতেই আমরা খুশি। বাজেট ঠিকঠাকমতো দেওয়া হলে নাটক নির্মাণে শিগগির বিনিয়োগ আরও বাড়বে।’

করোনার সংক্রমণের কারণে গত ২২ মার্চ থেকে ছোট পর্দার সব শুটিং স্থগিত করা হয়েছিল।