‘প্রাণের মানুষটা আমার জীবনসঙ্গী...’
কয়েক দিন ধরে মডেল ও অভিনয়শিল্পী বিদ্যা সিনহা মিমকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। মেসেঞ্জারে পাঠানো এসএমএসের কোনো উত্তর দিচ্ছেন না তিনি। মিম তাহলে কোথায়? মিমের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কারণে মিম সব ধরনের যোগাযোগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে পাওয়া গেল। ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে মিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিকেল গড়াতেই মিমের বিয়ের স্থিরচিত্র ফেসবুকে ভাইরাল।
মঙ্গলবার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কের এক পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিংপুলের কাছে বসেছিল রঙিন এ বিয়ের আসর। সবুজ বাগানে সাদা আর সোনালি পোশাকে দেখা যায় অতিথিদের। সুইমিংপুলের একপাশে সুসজ্জিত মঞ্চে কনের আসনে বসেছিলেন মিম। পাশেই বর সনি পোদ্দার। তার আগে নিয়মরীতি মেনেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন তাঁরা।
বলিউড বা হলিউডের তারকাদের কেউ কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। মডেল ও অভিনয়শিল্পী মিমের ক্ষেত্রে হয়েছে অনেকটাই সে রকম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাত্র-পাত্রীর দুই পরিবারের সদস্য এবং খুব কাছের মানুষেরা। আগের দিন ছিল গায়েহলুদের অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার শীতের সকাল থেকে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত বিয়ের সে আয়োজনে শুভকামনা জানাতে এসেছিলেন দুই পক্ষের কাছের স্বজন ও বন্ধুরা। ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে বাতাসে ভাসছিল বাংলাদেশের প্রিয় গানের সুর, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’। থেমে থেমে শোনা গেল ঢোলের বাদ্যি। সংগীত, সুইমিংপুলের নীল পানি আর চারপাশের সবুজের মনোরম পরিবেশে সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।
বন্ধু, এরপর ভালোবাসার মানুষ, এরপর প্রাণের মানুষ। মঞ্চে উঠতেই মিম পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁর শাশুড়ির সঙ্গে। ছেলের বউ নিয়ে তিনি খুশি। বললেন, ‘ছেলের জন্য লক্ষ্মী একটা বউ পেলাম।’ বর কেমন? জানতে চাইলে মিমের মা ছবি সাহা বলেন, ‘আমার তো দুই মেয়ে। এবার একটা ছেলে পেলাম।’
বিয়েতে মিম সেজেছিলেন ভারতের বিখ্যাত পোশাক ডিজাইনার সব্যসাচীর নকশা করা লেহেঙ্গা, মাথায় ছিল সোনালি জরির ওড়না। দূরে বসা সহকর্মীরা বলছিলেন, ‘পরীর মতো লাগছে।’ সনিকেও দারুণ মানিয়েছে তাঁর পাশে। দুজন দুজনের জন্য একেবারে পারফেক্ট। মঞ্চে তখন হাস্যোজ্জ্বল মিম দিনটির স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত আলোকচিত্রীর ক্যামেরায়। এক ফাঁকে মিমকে প্রশ্ন করা হয়, জীবনে অনেক ফটোশুট করেছেন, আজকের অভিজ্ঞতা কেমন? হেসে তিনি বলেন, ‘এ তো জীবনযাত্রার ফটোশুট, নতুন জীবন শুরুর, তাই এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না।’ কেমন লাগছে? ‘প্রাণের মানুষটা আমার জীবনসঙ্গী। এর চেয়ে সুন্দর ও অসাধারণ অনুভূতি আর কী হতে পারে? আমি হ্যাপি, সবার কাছে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা চাই।’
মিম তাঁর ফেসবুকে বিয়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে জুড়ে দিয়েছেন একটি জনপ্রিয় গানের দুটি লাইন—‘কে প্রথম কাছে এসেছি, কে প্রথম চেয়ে দেখেছি, কিছুতেই পাই না ভেবে, কে প্রথম ভালোবেসেছি, তুমি না আমি? শুভক্ষণ, শুভ দিন। বহু বছরের দীর্ঘ প্রণয়ের পর সাত পাকে বাঁধা পড়লাম আমরা। জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য ভক্তদের কাছে শুভকামনা প্রার্থী।’
আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে মিম একটি অনুরোধ করেছিলেন। মিমের অনুরোধে অতিথিরাও সেজেছিলেন সাদা কিংবা সোনালি রঙের পোশাকে। মিম ও সনিকে শুভকামনা জানাতে হাজির হয়েছিলেন আজিজুল হাকিম, জিনাত হাকিম, অমিতাভ রেজা, মীর সাব্বির, ফারজানা চুমকি, সজল, রুনা খান, কোনাল, ফারিয়া শাহরিনসহ আরও অনেকে।
তারকাদের বিয়ে নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। পর্দার তারকারা যখন বাস্তব জীবনে বেছে নেন জীবনের আসল নায়ক বা নায়িকাকে, সবার মনেই তখন প্রশ্ন জাগে, কে? কেমন? কী হলো? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বিশ্বতারকাদের বিয়ের আয়োজন দেখতে এখন অভ্যস্ত সবাই। দেশের তারকার ব্যাপারে কৌতূহল তো থাকবেই। মিমের ক্ষেত্রেও হয়নি ব্যতিক্রম। গত পরশু থেকে মিমের গায়েহলুদ ও বিয়ের নানা রকম খবর ও ছবিতে বুঁদ হয়ে ছিলেন পাঠক ও ভক্তরা।