এফডিসিতে যাওয়া–আসা করা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে, রায়ে হারার পর আর এফডিসিতে আসার সুযোগ নেই জায়েদের। যদি আসে, তাহলে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা আছে। প্রসঙ্গটি নিপুণকে মনে করিয়ে দিতেই তিনি বললেন, ‘জায়েদ এখন এফডিসিতে আসতে চাইলে অবশ্যই তাকে বরণ করে নেব। তাকে এখানে আসার আহ্বানও করছি। সে অবশ্যই আসতে পারে, কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, সে–ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একজন সম্মানিত সদস্য। আর এই সমিতি সব শিল্পীর। শিল্পীরা বিনা বাধায় এখানে আসতে পারেন। তাঁদের অধিকার এটি। জায়েদও আসতে চাইলে মোস্ট ওয়েলকাম।’

কথায় কথায় নিপুণের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোনো প্রযোজক কিংবা পরিচালক যদি আপনাদের দুজনকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে চান, তাহলে একসঙ্গে কাজ করবেন? উত্তরে নিপুণ বলেন, ‘কেন নয়, অবশ্যই জায়েদ খানের সঙ্গে অভিনয় করব। তবে গল্প ভালো হলে, নিজের চরিত্র ঠিকঠাক থাকলে কাজ করব। তা ছাড়া জায়েদ যে চরিত্রটি করবে, সেটিতে সে উপযুক্ত কি না, সেটাও দেখব। কারণ, জায়েদ তো আমার সহশিল্পী হিসেবে কাজ করবেন। কতটুকু পারবেন, সেটাও তো আমার দেখার বিষয় আছে।’
নিপুণ আরও বলেন, ‘শুধু তাই-ই নয়, আমার প্রতিপক্ষ প্যানেল, মানে মিশা-জায়েদ  প্যানেল থেকে এই নির্বাচনে যাঁরা জয়লাভ করেছেন, তাঁদের সঙ্গেও ব্যাটে বলে মিললে, কাজ করতে চাই।’

কথা বলতে বলতে একটি বিষয়ে জায়েদ খানকে অভিযোগ করে নিপুণ বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদকের পদটি নিয়ে আদালতে যাওয়ার পর থেকে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বলে আসছিলেন, আমি নাকি নারী হিসেবে এই পদটি পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সুবিধা নিয়েছি। চ্যানেলের ফুটেজগুলো আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমার প্রশ্ন, আমি কি সুবিধা নিয়েছি? আমি কোনো সুবিধা নিইনি। তার এ ধরনের কথায় আমার খুব খারাপ লেগেছে, কষ্ট পেয়েছি।’

জায়েদের উদ্দেশে নিপুণ বললেন, ‘নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন, পরবর্তী সময়ে আদালতে জায়েদ যতটুকু দৌড়াদৌড়ি করেছে, একজন নারী হিসেবে আমিও ততটুকু দৌড়াদৌড়ি করেছি। তাই জায়েদকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কথা বলতে হবে। তাকে বলতে চাই, নারীকে সম্মান না করলে, নিজেও সম্মানিত হবে না।’

এ ধরনের কথা বলার কারণে পরবর্তী সময়ে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন? জানতে চাইলে নিপুণ  বলেন, ‘না, এ ব্যাপারে আমি  কোনো পদক্ষেপ নেব না। সব ক্ষমা করে দিয়েছি। তবে হ্যাঁ, নারীরা কারও মা, কারও বোন। বিষয়টি তাকে মাথায় রাখতে হবে।’