হাসিখুশি একজন মানুষ। পান চিবাতে চিবাতে সবার সঙ্গে জমিয়ে গল্প করছেন। তাঁকে ঘিরে ধরেছে সাগরপাড়ের মানুষেরা। ছোট একটা চরিত্র। দুটি মাত্র দৃশ্য। সব মিলিয়ে দুই কি তিন লাইনের মাত্র সংলাপ। সেই চরিত্র নিয়ে তাঁর উত্তেজনা চোখে পড়ার মতো। অতি উত্তেজনা অনেক সময় ভালো কিছু বয়ে আনে না। শাহীনুর ব্যতিক্রম। বাস্তবে যেমন, পর্দায়ও ঠিক তা–ই। জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতিমান চট্টগ্রামের আরেক অভিনেতা নাসির উদ্দীন খানের সঙ্গে তিনি অভিনয় করলেন সমানে সমান।

চায়ের দোকানের সিনেমা শোতে স্রেফ একটা চা খাওয়ার দৃশ্য ছিল শাহীনুরের। সেই চা খাওয়া নিয়ে দেখলাম তাঁর প্রচুর ভাবনা। বারবার আমার কাছে জানতে চাইছেন, চায়ের কাপ ধরাটা ঠিক আছে? আগের শটে চায়ের কাপ কোন হাতে কীভাবে ধরেছিলেন, সেটা একদম ঠিকঠাক মনে রেখেছেন তিনি। সংলাপের বেলাতেও তা–ই।

সামান্যর মাঝে যিনি অসামান্য আনন্দ খোঁজেন, সেই মানুষকে মনে না ধরে উপায় কী! আসল শক্তিমান অভিনেতা তো তিনিই, যিনি তাঁর ক্ষণিকের পর্দার উপস্থিতিকেও নিয়ে যেতে পারেন অন্য মাত্রায়। কেউ মনে রাখুক না রাখুক, শাহীনুর আমার কাছে সেই রকম শক্তিমান অভিনেতাদের একজন।

সিনেমার স্বার্থপর দুনিয়া শাহীনুরের মতো অভিনেতাদের মনে রাখে না। শত অভিনেতার ভিড়ে আমিও হয়তো ভুলেই যেতাম মানুষটাকে। কানাডার টরন্টোতে এই মুহূর্তে ‘বলী’ (দ্য রেসলার) ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। সহ-অভিনেতা প্রাঙ্গন শুভর ফেসবুক বার্তায় হঠাৎ তাঁর স্ট্রোকের খবর। শিল্পী, আপনাকে বিদায়। অন্য জীবনে আবার যদি দেখা হয়, আপনার জন্য অবশ্যই বড় একটা চরিত্র লিখব। কথা দিলাম।

ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, সাংবাদিক ও নির্মাতা