‘এখন ঘরের খাবারের জন্য পাগল থাকি’

সামনে ‘সখী রঙ্গমালা’ সিনেমাসহ ঈদনাটকের শুটিংয়ের টানা ব্যস্ততা। ঈদের দিনও শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। রায়হান রাফীর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এর ডাবিংয়ের ফাঁকে প্রান্তর দস্তিদার-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুরুল আলম
অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদার। ছবি: ফেসবুক থেকে

কদিন আগেই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে প্রচারিত হয়েছে প্রান্তর দস্তিদার অভিনীত ফ্ল্যাশ ফিকশন টিফিন বক্স। সে সূত্র ধরেই জানতে চাই শৈশবের টিফিন বক্স নিয়ে মজার ঘটনা। প্রশ্ন শুনেই হাসলেন অভিনেতা প্রান্তর, ‘স্কুলে নিয়মিত টিফিন বক্সে খাবার নিয়ে যেতাম। কিন্তু কখনোই নিজেরটা খুলতাম না। অন্যেরটা খেতাম বা ক্যানটিন থেকে কিনে খেতাম। দেখা যেত, আমার টিফিন বক্সের খাবার থেকে যেত। আসার সময় রাস্তায় সেটা কাউকে দিয়ে আসতাম। তখন ঘরের খাবার পানসে লাগত। মনে হতো, ঘরের খাবার বাইরে কেন খাব। কিন্তু এখন আমি ঘরের খাবারের জন্য পাগল। ব্যস্ততায় ঘরে খাওয়া হয় না।’

অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদার। ছবি: ফেসবুক থেকে

রাফীর পরিচালনায় প্রথম
প্রেশার কুকার সিনেমার অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে গত শনিবার। রায়হান রাফীর এ সিনেমায় অভিনয় করছেন প্রান্তর। গতকাল সেই সিনেমার ডাবিংয়ের ফাঁকে জানালেন, রাফীর সঙ্গে প্রথমবার তিনি কাজের সুযোগ পেয়েছেন। ‘কাজটি করে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। কাছ থেকে বোঝা গেল, কেন তাঁর কাজগুলো একের পর এক সাফল্যের দেখা পেয়েছে। এবার কাছ থেকে অবজারভেশন করার সুযোগ হয়েছে। নারীকেন্দ্রিক গল্পটি এককথায় অসাধারণ। এটি দর্শকদের ভাবাবে। দর্শকদের মধ্যে চমক তৈরি করবে। নারীকেন্দ্রিক গল্পের পোস্টারটিও দারুণ হয়েছে,’ বললেন তিনি।

দক্ষিণি সিনেমা বনাম আশাবাদ
শুটিং না থাকলে নিয়মিত সিনেমা দেখেন এই অভিনেতা। সর্বশেষ দেখেছেন দক্ষিণি সিনেমা রোমাঞ্চম। সিনেমাটি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সিনেমার গল্প, চরিত্রায়ণ, উপস্থাপনা দারুণ। দেশের পটভূমিতে দক্ষিণি সিনেমাগুলো দেখলে কোনো আফসোসের জায়গা তৈরি হয় কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় যেতে চাই না। এই সেক্টরে কাজ করে বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করেছি। ওদের বাজেট, দক্ষ কর্মী, সিনেমার বাজার—সবই ভালো জায়গায়। ওদের মতো আমাদের এখানেও ভালো নির্মাতা রয়েছে। এরাও ভালো বাজেট ও পরিবেশ পেলে ঢালিউড সিনেমাকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে। এখানেও রইদ, মাস্টার, বালুর নগরীতেসহ অনেক ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে। রাফী ভাইসহ অনেকেই ভালো ছবি তৈরি করছেন। আমি আশাবাদী, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিও ঘুরে যাবে।’

টিফিন বক্স এর পোস্টারে প্রান্তর দস্তিদার। ছবি: ফেসবুক থেকে

তারা অনুপ্রেরণায়
‘আমি কদিন আগে একটি নাটকের শুটিং করেছি। সেখানে ছিলেন আবুল হায়াত ও ডলি জহুরের মতো অভিনয়শিল্পী। তাঁদের কথা আমাকে বলতেই হবে। তাঁদের অভিনয়, চরিত্রে প্রবেশ, জীবনযাপন দেখে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁরাও আমাকে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁদের অভিনয় আমাকে শেখায়। এমন অনেকেই আমাকে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁদের কাছ থেকে শিখে নিজের মতো করে গ্রহণ করি,’ বলেন প্রান্তর। নবীন–প্রবীণ সব বয়সীর সঙ্গে কাজ করলে বিভিন্ন কিছু শেখা যায়। তাঁর মতে, সবাই একই মানুষ নন। সবার অভিনয়ের শৈলী, কথা বলার ধরন, ডায়ালগ দেওয়াটাও আলাদা। যে কারণে সবার অভিনয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও পড়ুন
নাটকের পোস্টারে সহশিল্পীদের সঙ্গে প্রান্তর দস্তিদার। ছবি: ফেসবুক থেকে

চরিত্র থেকে চরিত্রে
একটি চরিত্রে প্রবেশ করা যেমন তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং, তেমনি চরিত্রে ঢোকার পর বের হয়ে আসাও কঠিন বলে মনে করেন এই অভিনেতা। এ জন্য তাঁকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, পড়াশোনা করতে হয়, সিনেমা দেখতে হয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও কাজে লাগান। আবার কখনো হাতে চিত্রনাট্যের চরিত্র পেলেই গল্প, চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ডের পেছনে ছোটেন। ‘থট প্রসেসটা ঠিক থাকলে চরিত্রে ঢোকাটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। কিন্তু আমি যে চরিত্রটিকে চিনি না জানি না, সেই চরিত্রে প্রবেশ করাটা আমার কাছে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। তখন সেই চরিত্র বা চরিত্রের কাছাকাছি চরিত্র খুঁজে বের করতে হয়। অভিনয়ে কম্প্রোমাইজের জায়গা নেই। বরং এখানে সব সময় ভালো করার সুযোগ থাকে। আমি ভালো করার চেষ্টায় থাকি।’

ঈদের দিনও শুটিং!
ঈদের আগে টানা ব্যস্ততা। জানালেন, শিগগিরই সখী রঙ্গমালা সিনেমার শুটিংয়ের কাজ শুরু করবেন। পরে টানা ঈদনাটকের শুটিং। ইতিমধ্যে মাবরুর রশীদ বান্নাহ, ভিকি জাহেদসহ অনেকের নাটকে কাজ করেছেন। তবে ঈদের আগের শুটিং নিয়ে এখনো দোটানায় রয়েছেন। ‘আমার ঈদের দিন শুটিং নিয়েও কোনো আপত্তি নেই। শিডিউল কী হয়, এখনো বুঝতে পারছি না। চাঁদরাত পর্যন্ত তো শুটিং করতেই হবে। ঈদের আগপর্যন্ত নাটক-সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকব।’