পরীমনি–তিশা-সিয়ামদের ভিন্ন পেশা
ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যবসায় নামছেন কেউ, আবার কারও উদ্যোগের পেছনে রয়েছে জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। খাবার থেকে পোশাকের ব্যবসা, পারলার থেকে ব্যাংকের চাকরি—অভিনয়ের পাশাপাশি তারকারা কে কোন পেশায় যুক্ত আছেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক
তানজিন তিশা
দেড় দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন তানজিন তিশা। নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র ও বিভিন্ন ধরনের কাজ দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের পরিচিত মুখ। এবার সেই সব পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন পরিচয়—উদ্যোক্তা। খাবারের ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন তানজিন তিশা। ঢাকার বনানীতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে তাঁর রেস্তোরাঁ ‘ও রিয়েল’। রেস্তোরাঁটি চালুর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রচারণা। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে এক প্রচারণামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, অসাধারণ কিছু পরিবেশনের জন্য প্রায় প্রস্তুত ও রিয়েল।
প্রচারণায় আরও বলা হয়েছে, পরিশীলিত স্বাদ, নান্দনিক পরিবেশ আর ছাদে কাটানো স্মরণীয় সন্ধ্যার এক নতুন জগৎ তৈরি হচ্ছে ও রিয়েল। ‘টেবিল প্রায় প্রস্তুত’—এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে। অভিনেত্রী থেকে উদ্যোক্তা—তানজিন তিশার নতুন যাত্রা কেমন হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।
তমা মির্জা
অভিনয়ের বাইরে অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে সম্প্রতি আলোচনায় তমা মির্জা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী তিন মাসের বেশি সময় ধরে দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি—ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে কাজ করছেন। তমার জন্য এটি একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা। নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধুত্ব—সব মিলিয়ে ব্যাংকের চাকরি উপভোগ করছেন তিনি।
ব্যাংকের চাকরিতে যোগদানের পর কি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাবেন তমা? না। তমার উত্তর বেশ পরিষ্কার। ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশা আল্লাহ,’ বললেন তমা।
তবে নতুন এই পেশাকে কেবল অর্থ উপার্জনের জায়গা হিসেবে দেখছেন না তমা। তিনি মনে করেন, জীবনের অন্য ক্ষেত্রগুলোও জানা দরকার। যেহেতু বেছে বেছে কাজ করেন এবং বছরে একটি বা দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন, তাই বাকি সময় নতুন কিছু শেখার সুযোগকে কাজে লাগাতে চান।
সিয়াম আহমেদ
২০২০ সালে দুই বন্ধুকে নিয়ে অনলাইনে ফ্যাশনেবল পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘হোলাগো’। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ায় শোরুমও দেন। উদ্বোধন করেন তিন বন্ধুর বাবা-মায়েরা।
সিয়ামের কাছে এটি যতটা না ব্যবসা, তার চেয়ে বেশি বন্ধুত্বের উদাহরণ। মূলত পুরুষদের ফ্যাশন নিয়ে কাজ করে হোলাগো। তরুণদের জন্য ট্রেন্ডি ডিজাইনের পোশাক তৈরি ও বিক্রি করে। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যবসাটা দারুণভাবে সামলাচ্ছেন সিয়াম।
পরীমনি
সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন পরীমনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে হয়েছিল, মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় পণ্য যদি সহজে এক জায়গা থেকে পাওয়া যায়, তাহলে অনেকেরই সুবিধা হবে। সেই ভাবনা থেকেই অনলাইনভিত্তিক লাইফস্টাইল পণ্যের ব্র্যান্ড ‘\Iবডি’\Iর পরিকল্পনা। পরীমনি জানালেন, তাঁর লক্ষ্য, মায়েরা যেন কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই প্রয়োজনীয় ও আরামদায়ক লাইফস্টাইল পণ্য কিনতে পারেন।
অপু বিশ্বাস
ব্যবসার সঙ্গে অপু বিশ্বাসের সম্পর্ক নতুন নয়। ঢাকার নিকেতনে একসময় জিম দিয়েছিলেন। প্রায় এক দশক আগে শুরু করা সেই উদ্যোগ পরে বন্ধ হয়ে যায়। তবে থেমে থাকেননি অপু। বছর দুয়েক আগে ঢাকার আফতাবনগর আবাসিক এলাকায় শুরু করেন ‘সিগনেচার বাই এবি পারলার অ্যান্ড বুটিক ও এবি ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। পরে নিকেতনেও চালু করেন আরেকটি শাখা।
এসব উদ্যোগ বিষয়ে অপু বলেন, ‘আমি চেয়েছি অভিনেত্রীর বাইরেও আমার একটা আলাদা পরিচয় থাকুক। একটা সময় আমাকে অন্য কিছু অবলম্বন করেই জীবন পার করতে হবে। সেটা ভেবেই নতুন বিজনেস শুরু করেছি।’
ওমর সানী
প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকার আফতাবনগর এলাকায় ‘চাপওয়ালা’ নামে রেস্টুরেন্ট খোলেন ওমর সানী। পরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চালু করেন ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’।
ওমর সানী জানালেন, শ্বশুরবাড়ির খাবার ও আপ্যায়নের আলাদা বিশেষত্ব আছে। তাঁর রেস্টুরেন্টে আসা প্রত্যেক ক্রেতাকেই শ্বশুরবাড়ির মেহমান হিসেবে ভাবেন তাঁরা।
ওমর সানী জানালেন, ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, গরু ভুনা, মুরগি ভুনা, হাঁস ভুনা, ভর্তা-ভাজি ও ডাল—চেনাজানা বাঙালি খাবারই এখানকার মূল আকর্ষণ।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোজনরসিকেরা তাঁর রেস্টুরেন্টে খাবারের স্বাদ নিতে আসেন বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। ঢাকার হেমায়েতপুরে আরও একটি শাখা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জিয়াউল রোশান
‘ভেসতোরা’য় পাওয়া যায় প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্টসহ তরুণদের নানা ধরনের পোশাক। অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজটির উদ্যোক্তা চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান। ভবিষ্যতে শোরুম খোলার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে। রোশানের কাছে ‘ভেসতোরা’ শুধু ব্যবসা নয়, ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও।
বললেন, ‘সারা জীবন সিনেমার নায়ক হয়ে থাকা সম্ভব নয়। একসময় নায়ক জীবন থেকে সরে আসতে হবে। সেই বাস্তবতা থেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা করার কথা ভেবেছি।’ আগে থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে পার্টনারশিপে কয়েকটি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন রোশান। পরে এককভাবে কিছু করার চিন্তা থেকেই শুরু করেন ‘ভেসতোরা’।