অভিনয় থেকে দূরে আছেন দুই দশকের বেশি সময়। মাস যায়, বছর যায়, যায় দশকও—সঙ্গে তাঁর আবেদন যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ে। বাঙালির হৃদয়ে যেন তাঁর আরও মজবুত আসন। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকা চলচ্চিত্রের বরেণ্য এই মানুষটি শাবানা। গেল ১৫ জুন ছিল তাঁর জন্মদিন। এই দিনে বিশ্বের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভক্ত-সহকর্মী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শাবানা জানালেন, তিনি আপ্লুত। সবার এমন ভালোবাসা তাঁকে আবেগপ্রবণ করেছে।
দুই দশক আগে অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কোটি হৃদয়ের ভালোবাসার মানুষ শাবানা। বড় মেয়ে বিয়ে করে এখন সংসারী। আর ছোট মেয়ে, একমাত্র ছেলে, স্বামীসহ তিনি বাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় কথা হয় শাবানার সঙ্গে। ‘১৪ জুন থেকে আপনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি’ বলতেই বরেণ্য এই অভিনয়শিল্পী বললেন, ‘আমি নর্থ ক্যারোলাইনায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। মা এখানেই থাকেন, মায়ের সঙ্গে কয়েকটা দিন থাকতেই এসেছিলাম। আজই ফিরলাম, দেখলাম তুমি অনেকবার ফোন করেছ, তাই ভাবলাম কথা বলা উচিত।’
জন্মদিনের প্রসঙ্গ উঠতেই শাবানা বললেন, ‘অভিনয় থেকে বহু বছর দূরে আছি, তারপরও সবাই যে এভাবে মনে করেন, ভালোবাসা জানায়, দোয়া করেন—এটা সত্যিই অবাক করার মতো। আমি তো ফেসবুক ব্যবহার করি না, আমার ভাই ফেসবুকে কে কী লিখেছে, কিছু দেখিয়েছেন। সুন্দর সুন্দর সব কথা আর পুরোনো সিনেমার নানা ক্লিপিং দিয়ে সবাই যেভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছে, তা আমাকে নস্টালজিক যেমন করেছে, তেমনি আপ্লুত হয়েছি। এখনকার তরুণেরাও যে ফেসবুকে আমাকে নিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসামিশ্রিত কথা বলেছে, তা ছিল একেবারে সারপ্রাইজিং। আমাকে এখনো মনে রেখেছে, ভাবলেই কেমন যেন লাগে।’
শাবানা বলেন, ‘চলচ্চিত্র অঙ্গনের আমার সহকর্মীদের অনেকে আমাকে নিয়ে নানান স্মৃতিকথা লিখেছে। অনুজদের এই ভালোবাসা সত্যিই অতুলনীয়। আমি কমবেশি সবার পোস্ট দেখেছি, পড়েছি। কেউ কেউ তো চলচ্চিত্রের এমন ক্লিপিংস আর স্টিল পিকচার দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে, তা আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সেই দিনগুলোতে। সবার জন্য আমি শুধু মন থেকে দোয়া করছি।’
আবার দেশে ফিরবেন কবে? এমন প্রশ্নে শাবানা, ‘আমাদের তো আরও আগে আসার কথা কথা ছিল। দেশে করোনার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে শুনছি। তাই দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনও এই মুহূর্তে যেতে না করছেন। তবে মনটা টানছে। চলেও আসতে পারি ঈদের আগে। সাদিক সাহেব (ওয়াহিদ সাদিক, শাবানার স্বামী) খুব করে চাইছেন তো, তাই।’