আবারও কারাগারে আরেফিন রুমি

আরেফিন রুমি
আরেফিন রুমি

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে প্রথম স্ত্রী লামিয়া ইসলাম অনন্যার দায়ের করা মামলায় আলোচিত সংগীতশিল্পী আরেফিন রুমিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।

এর আগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় গত বছরের ১২ অক্টোবর ভোররাতে আরেফিন রুমিকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। সেদিন বিকেলেই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশ্য পরের দিন ১৩ অক্টোবর শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন রুমি।

প্রথম আলোকে অনন্যা জানান, ‘গত বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় আদালতের কয়েকটি শর্তের মাধ্যমে রুমি জামিন পায়। তার মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল, আমার সন্তান আরিয়ানের নামে ২০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়া। কিন্তু রুমি সেটা করেনি। শুধু তা-ই নয়, জামিন থেকে বোরোনোর পর সে খোঁজখবর নেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। পরিচিত বিভিন্ন মানুষের কাছে আমাকে নিয়ে নানা ধরনের কুত্সা রটায়। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জানুয়ারি রুমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

অনন্যা এ-ও বলেন, ‘২০১২ সালে কামরুন্নেসাকে বিয়ের পর থেকেই রুমি আমার ও তাঁর ছেলের কোনো খোঁজখবর নিত না। আমি বিয়ের বিচ্ছেদ চাইলে তাতেও সে রাজি হতো না। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে চাইলে রুমি আমাকে হুমকি দিত। সব মিলিয়ে একটা সময় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকি। আর আশ্রয় নিই মায়ের বাসায়।’

রুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে মামলার সময় মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম স্ত্রী অনন্যাকে নির্যাতন করে আসছিলেন রুমি। মাঝেমধ্যে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে পিটিয়ে বাসা থেকে বের করে দিতেন। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রী অনন্যার অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিয়ে করেন তিনি। এর প্রতিবাদ করায় অনন্যাকে বেধড়ক পেটান রুমি। এসব অভিযোগে অনন্যা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মোহাম্মদপুর থানায় রুমির বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

২০১২ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কপ্রবাসী কামরুন্নেসার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন রুমি। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক থেকে রাতে ঢাকায় আসেন কামরুন্নেসা। ওই রাতেই রাজধানীর পুরান ঢাকার গুলবদন দরবার শরিফে (রুমির দাদার বাড়ি) দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন রুমি। অবশ্য বিয়ের অনুষ্ঠানে রুমির প্রথম স্ত্রী অনন্যা, মা, বড় ভাইসহ উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন এই শিল্পী। এ ছাড়া প্রবাসী বাঙালিদের আয়োজনে ফ্লোরিডার একটি অনুষ্ঠানে হিন্দি গান গেয়েও সমালোচিত হন তিনি।