কানাডায় অন্য ববিতা

কানাডায় ছেলের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন ববিতা
কানাডায় ছেলের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন ববিতা

বেশ কিছুদিন ধরে কানাডায় একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে আছেন ববিতা। সেখানে কীভাবে সময় কাটছে? বরেণ্য এই চিত্রনায়িকা বললেন, ‘অনেক ঘোরাঘুরি করছি ছেলেকে নিয়ে। খাচ্ছি, মাছ ধরছি।’ গত সোমবার রাতে কথা প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে জানালেন এসব।

ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে জুলাই মাসের শেষ দিকে কানাডায় যান ববিতা। যাওয়ার আগে জানিয়েছিলেন, সেখানে তিন মাস থাকার প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার মাছ ধরার গল্প বললেন এভাবে, ‘মাছ ধরা আমার পুরোনো অভ্যাস। কিন্তু খুব কাছের মানুষ ছাড়া আর কেউ তা জানে না। সময় পেলেই মাছ ধরতে চলে যেতাম। এখনো তা-ই করি। খুব মজা লাগে। মাছ ধরা আমার শখ।’

কানাডায় মাছ ধরছেন ববিতা
কানাডায় মাছ ধরছেন ববিতা

ববিতা অনেক দিন সিনেমা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এখন কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাড়া বাকি সময় গুলশানে বাসায়ই কাটে। আর সময় পেলে ছুটে যান কানাডায় ছেলে অনিকের কাছে। একসময় ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জীবনের অনেক স্বাদ পূরণ করতে পারেননি। তাই এখন সেসব শখ পূরণের চেষ্টা করছেন।

ববিতা বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও আমি মাছ ধরি। চম্পা আর আমি যাই। রিয়াজকে সঙ্গে নিই। রিয়াজের আবার মাছ ধরার সব জিনিসপত্র একদম রেডি আছে। ওর মাছ ধরার খুব শখ। যে মাছগুলো টপাটপ বড়শিতে ধরা পড়ে, সেসব মাছের ব্যাপারে আমাদের বেশি আগ্রহ। খুব আনন্দ হয়। আমার কয়েকজন বান্ধবী আছে, তাদের সুন্দর বাংলো ডিজাইনের বাড়ি আছে। ঢাকা থেকে একটু দূরে, নিরিবিলি, গ্রামের দিকে। এই যেমন জয়দেবপুরে। সেখানে পুকুর আছে। এলাকাটাও নিরাপদ। গুলশান পার্কের লেকে আমরা মাছ ধরতে যাই। সেখানেও অনেক মাছ। ওই পার্কে একসময় সিনেমার অনেক শুটিং করেছি।’

কানাডায় ছেলের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন ববিতা
কানাডায় ছেলের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন ববিতা

মাছ ধরার শখ কবে থেকে? ববিতা জানান, তাঁর বাবারও ছিল মাছ ধরার নেশা। বাবাকে দেখে দেখে তাঁর মধ্যেও এই শখ তৈরি হয়েছে। বাবার সঙ্গে নৌকায় করে চলে যেতেন দূরে কোথাও। বললেন, ‘তখন কেবল নায়িকা হয়েছি। আব্বা মাছ ধরতে যেতেন, পাখি শিকারে বের হতেন। নারায়ণগঞ্জে তারপাশা নামে একটা জায়গা আছে, আব্বা প্রায়ই পাখি শিকারে সেখানে চলে যেতেন, সঙ্গে আমিও গিয়েছি। আমি নৌকায় বসে থাকতাম। আব্বা মাথায় কচুরিপানা দিয়ে ফ্লাইং হাঁস মারত।’

কানাডায় ফুলের বাজারে ববিতা
কানাডায় ফুলের বাজারে ববিতা

বাবার দেখাদেখি পাখি শিকারে ববিতার আগ্রহ তৈরি হয়। মেয়ে পপির (ববিতার ডাক নাম) শিকারের আগ্রহ দেখে বাবা একটি বন্দুক কিনে দেন। এই বন্দুক নিয়ে ববিতা শুটিংয়ে যেতেন। বললেন, ‘শুটিংয়ের সময় প্রায়ই দেখতাম ফারুক ভাই আর অন্যরা পাখি শিকারে যেতেন। রাগ হতো। এরপর আমি যখন ঝিটকা ও নবগ্রামে শুটিংয়ে যেতাম, তখন বন্দুকটা নিয়ে যেতাম। শুটিংয়ের ফাঁকে আমার সহকারী মেয়েসহ বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম। পাখি শিকার করে নিয়ে আসতাম। আমাকে এভাবে দেখে সবাই অবাক।’

কানাডায় রাতের খাবারে একসঙ্গে মা আর ছেলে
কানাডায় রাতের খাবারে একসঙ্গে মা আর ছেলে

ববিতা আরও বলেন, ‘অল্প বয়সে চলচ্চিত্রে এসেছি, অনেক শখ পূরণ করতে পারিনি। এখন হাতে সময় আছে, যে শখগুলো পূরণ করতে পারিনি, ওগুলো পূরণের চেষ্টা করি।’

কানাডা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর দুই ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাবেন ববিতা। এরপর আবার কানাডায় ফিরবেন ছেলের কাছে। ববিতা বলেন, ‘অনিকও চায়, আমি যেন তাঁর কাছেই থাকি। ওর আনন্দ দেখে আমার মন বলে, আরও কয়েকটা দিন ছেলের কাছে থেকে যাই।’

কানাডায় ববিতা
কানাডায় ববিতা