গানে 'বৃষ্টি' কেন লাগে?

জাগো ছবিতে বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন বিন্দু
জাগো ছবিতে বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন বিন্দু

পুরো গানটাই বৃষ্টির মধ্যে। গানের সঙ্গে নাচছেন আনিসুর রহমান মিলন ও জাকিয়া বারী মম। বেশ কিছুদিন ধরে ভিডিও দেখার মাধ্যম ইউটিউবে ঘুরছে গানটি। নানাজন নানা মত জানিয়ে সে গান মাঝেমধ্যে শেয়ার দেন ফেসবুকে। পুরো গানটিতে বৃষ্টির ব্যবহার অতিমাত্রায়। গানের পাত্রপাত্রীর একরঙা পোশাকে খানিকটা বেমানান লাগে সে গান। গানটি নিয়ে মিলন বললেন, ‘এটা পুরোপুরি পরিচালকের সিদ্ধান্ত। সঙ্গে নৃত্য পরিচালকের পরিকল্পনা তো ছিলই। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।’ তবে চলচ্চিত্রে বৃষ্টির ব্যবহার প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বললেন, ‘গানে বৃষ্টি থাকবে কি থাকবে না, সেটা সিদ্ধান্ত নৃত্য পরিচালকেরা নেন। তবে আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে অভিনয়শিল্পীদের পরামর্শ নেওয়া দরকার।’

এফডিসির কৃত্রিম বৃষ্টিতে শুটিং করেননি—এমন অভিনয়শিল্পী পাওয়া কঠিন। কখনো শুটিং ফ্লোরের ভেতরে, কখনো ফ্লোরের বাইরে আবার কখনো আউটডোর শুটিংয়ে নামানো হয় বৃষ্টি। নায়ক-নায়িকা ভেজেন সেই বৃষ্টিতে। ভিজতে ভিজতে কখন ঠোঁট কামড়ে ধরেন, কখনো দেন সেরা রোমান্টিক চাহনি। বাইরে যখন ঝকঝকে আকাশ কিংবা কনকনে শীত, তখন অভিনয়শিল্পীরা দর্শকদের মুগ্ধ করতেই বৃষ্টির দৃশ্যে হাজির হন।

কিন্তু বৃষ্টিটা কি খুব জরুরি? ৩০-৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ইমদাদুল হক খোকন। তাঁর মতে দুটি কারণে বৃষ্টি খুব জরুরি। এক. গানের মধ্যে বৃষ্টির কথা থাকলে দেওয়া হয়। দুই. বাণিজ্যিক কারণে বৃষ্টি দেওয়া হয়।

বাণিজ্যিক কারণটা পরিষ্কার করলেন তিনি। ‘গানের দৃশ্যে নায়িকাকে সাদা শাড়ি পরিয়ে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকার দৃশ্য ধারণ করতে হলে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানো হয়। দেখা যায়, এই একটি গানের কারণে সিনেমা হিট হয়ে গেছে। এটা আমার অভিজ্ঞতা। আর এটা শুধু আমাদের দেশে না, সারা বিশ্বেই প্রচলিত।’

তবে তাঁর দাবি, গানের দৃশ্যই শুধু নয়, অনেক সময় মারামারির দৃশ্যেও বৃষ্টি নামানো হয়, যাতে ক্যামেরায় সেরা দৃশ্যটি ধারণ করা যায়। বৃষ্টির আলাদা সৌন্দর্য আছে বলেই মনে করেন তিনি।

বৃষ্টি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই সময়ের আলোচিত নায়িকা পরীমনির কাছে। অনেক ছবিতেই তিনি বৃষ্টির মধ্যে শুটিং করেছেন। তবে মুশফিকুর রহমান গুলজারের মন জানে না মনের ঠিকানা ছবিটির কথা বললেন আলাদা করে। এই ছবির একটা গানে বৃষ্টিতে ভিজে অভিনয় করেছেন। যার শুটিং করার স্মৃতি আলাদা করে মনে রেখেছেন তিনি। কারণটা কী? বললেন, ‘ওটা শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সবারই ভালো লাগবে।’

শুধু কৃত্রিম বৃষ্টি নয়, অনেক সময় প্রাকৃতিক বৃষ্টিও কাজে লাগান নৃত্য পরিচালকেরা। তারই উদাহরণ দিলেন নৃত্য পরিচালক আজিজ রেজা। একবার সিলেটের জৈন্তাপুরে রাজ্জাক পরিচালিত প্রেমশক্তিসিনেমার শুটিং করছিলেন। প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছিলেন বাপ্পারাজ ও সোনিয়া। শুটিংয়ে হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। সেই বৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে মূল শুটিং রেখে গানের দৃশ্যের শুটিং করে ফেলেন আজিজ রেজা।

নিজের নৃত্য পরিচালনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি গানটাকে কয়েকটা সিকোয়েন্সে ভাগ করি। যার একটিতে বৃষ্টি রাখার চেষ্টা করি। অনেক সময় বাণিজ্যিক কারণে বৃষ্টি দেওয়া হয়।’