নৃ মুক্তির আগেই 'পৃ' ছাড়লেন রাসেল

পৃ অর্থ পৃথিবী, নৃ অর্থ মানুষ। এ রকম একটি মন্ত্র ধারণ করে গড়ে উঠল নৃ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। বরিশালের এক নদীপাড়ের শ্মশানঘাট ও একটি প্রাচীন বাড়িকে নিয়ে গল্প। ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের পরিচয় নয়, মানুষের পরিচয় ‘মানুষ’, এক নিজস্ব নির্মিতির মাধ্যমে সেটাই দেখাতে চেয়েছেন রাসেল। চলচ্চিত্র হিসেবে নৃ তাঁর প্রথম কাজ, শেষ কাজও বটে। কারণ ১৫ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ মারা যান তিনি। ছবিটির সম্পাদনার কাজ তখন প্রায় শেষের পথে।

বরিশালে জন্ম রাসেল আহমেদের। বাবা মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও মা সখিনা বেগম। গত বছর সংসার পেতেছিলেন রাসেল। প্রথম ছবি মানুষের সামনে আনার আগমুহূর্তে তাঁর আকস্মিক প্রস্থান আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য ক্ষতির কারণ। কেননা রাসেল ছিলেন খুবই প্রতিভাবান এক তরুণ। বাজারের চাহিদা পূরণ করতে তিনি ছবি বানাতে আসেননি, এর প্রমাণ দর্শক নৃ দেখলে বুঝবেন।
এ দেশে ভালো ছবি বানানো একঅর্থে জীবন ক্ষয় করার ঝুঁকি নেওয়া। রাসেল সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ছবি বানাতে টাকা লাগে। কোত্থেকে আসবে টাকা? নিদারুণ অর্থসংকটে পড়েছিল নৃ টিম। পৈতৃক জমির খানিকটা বিক্রি করেছিলেন নির্মাতা রাসেল আহমেদ। কেউ কেউ কিছু অর্থ সহায়তা দিয়েছেনও বটে। তবু মনের মতো করে কাজ করতে রাসেল অনাপসী থাকতে চেয়েছিলেন। সহায়তা দেওয়া এক শুভার্থী টাকা ফেরত চেয়ে থানা-পুলিশ করেছেন। রাসেল ফেরত দিয়েছেন। কাউকে বুঝতে দেননি, কতটা ধকল যাচ্ছিল তাঁর ওপর দিয়ে। সেই স্বপ্নচারী মানুষটি হঠাৎ ‘নেই’ হয়ে গেলেন? পড়ে রইল নৃ।
বন্ধুবৎসল, আড্ডাবাজ, আলোকচিত্রী রাসেল অকালে চলে যাওয়ায় ভালো ছবি বানাতে চাওয়া এক তরুণের প্রস্থান ঘটল। শাহবাগে, ছবির হাটে, টিএসসিতে কিংবা বরিশালে—কোথাও আর দেখা যাবে না তাঁকে। বন্ধুরা মিলে হয়তো কোনোভাবে নৃ সম্পাদনা করে প্রদর্শন করা হবে। কিন্তু ছবির সেটে এসে রাসেলকে বিয়ে করেছিলেন যে মেয়েটি, রাসেলের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইথেল, তাঁর জন্য কী সান্ত্বনা? ছবির সেটের একটি অংশে পরিত্যক্ত বাড়ির পরিত্যক্ত এক সেকেলে বাথরুমকে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাসেল-ইথেলের বাসর ঘর করা হয়েছিল। সব স্মৃতি হয়ে রইল, রইল নৃ, নির্মাতাই শুধু নেই। রাসেল আহমেদের প্রতি আজীবন ভালোবাসা।