পাঠক যখন সমালোচক

>

ঈদে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলেগুলোতে প্রচারিত হয়েছে নাটক ও নানা ধরনের অনুষ্ঠান। আনন্দের পক্ষ থেকে পাঠকদের কাছে চাওয়া হয়েছিল ঈদের নাটক ও অনুষ্ঠানের সমালোচনা। আনন্দর ই-মেইল ও ফেসবুকে আপনারা সেই চাওয়ায় ব্যাপক সাড়া দিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাছাইকৃত ১০টি সমালোচনা ছাপা হলো এখানে।

আয়েশা
আয়েশা

আয়েশা
অভিনয়: নুসরাত ইমরোজ তিশা, চঞ্চল চৌধুরী
উপন্যাস: আনিসুল হক (আয়েশামঙ্গল)
রচনা ও পরিচালনা: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী টিভি নাটকে ফিরলেন অনেক দিন পর, তাই আনিসুল হকের উপন্যাস আয়েশামঙ্গল অবলম্বনে তাঁর নাটক আয়েশা দেখতেই হলো। এটা বলতে গেলে ডুব দলেরই ‘রিইউনিয়ন’ ফারুকীর পরিচালনা, তিশার অভিনয়, শেখ রাজিবুল ইসলামের ক্যামেরার ভেলকি আর ‘চিরকুটের’ পাভেল অরিনের মিউজিক। তিশার প্রায় কাছাকাছি একটা চরিত্রায়ন দেখেছিলাম গত বছর প্রায় এই সময়েই বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো নাটকে। যাই হোক, নাটকের নাম-চরিত্রে যেমন তিশা, তেমনি পুরো নাটকেই তাঁর উপস্থিতি। আর অভিনয়? সেটার বিচার আর করতে পারলাম কই? পুরোটা সময় মন্ত্রমুগ্ধের মতো ডুবে ছিলাম। শুধু একটা জিনিস মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা বলি। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চিড়িয়াখানা ছবিতে বোমক্যেশ বক্সীর চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন উত্তম কুমার। সেখানে কথার মাঝে বারবার ‘আ’ বলে বিরতি নিয়ে মুখ আর গলা চুলকে চরিত্রটায় একটা অন্য রকম প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন তিনি। আয়েশা নাটকে সংলাপ বলার সময় তিশার বারবার ঢোঁক গেলাটাও চরিত্রটাকে অদ্ভুত সুন্দরভাবে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

ফারুকীর কাজ নিয়ে আমার সব সময় একটা অভিযোগ ছিল যে তিনি কাজের শুরু থেকে শেষ অবধি সুতোটা নাটাইতে ধরে রাখতে পারেন না, হয়তো কেবল আমারই এমন মনে হতো। কিন্তু ডুব আর আয়েশার পর এই অভিযোগও করার জায়গা রইল না। ‘পার্টটাইম আবৃত্তিকার’ ফারুকীকেও পাওয়া গেল আয়েশাতে। কিন্তু সত্যি বলতে এসবের বাইরেও একটা অভিযোগ আছে ফারুকী কিংবা তাঁর সময়ের নুরুল আলম আতিক, অমিতাভ রেজা, মেজবাউর রহমান সুমন, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল কিংবা গিয়াস উদ্দিন সেলিমদের নিয়ে। দেশের দর্শকেরা প্রস্তুত নয় বলে চলচ্চিত্রের গল্পকে টিভিতে চর্চার নামে টিভিকেই ‘প্লে-গ্রাউন্ড’ বানিয়ে দর্শকদের এক অদ্ভুত জটিলতায় ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। দর্শক আজকাল চলচ্চিত্রে এমন গল্পই দেখতে চায়, অথচ এই গল্পকেই বড় পর্দায় দেখলে বলবে ‘নাটক’! এই মনোজাগতিক জটিলতা তৈরির দায় আপনাদেরই। আমি আয়েশা দেখার পর ভাবছিলাম এটা যদি সিনেমা হতো, তবে আর বাড়তি কী থাকতে পারত? হয়তো মূল উপন্যাসের বিয়ের সময়ের যে খুনসুটি আর কমেডিগুলো ঝেড়ে ফেলা হয়েছে, সেগুলো যোগ হয়ে দৈর্ঘ্যটা আরেকটু বাড়াত। ১৯৭৭-এর সময়টাকে ধরতে গেলে যে প্রপসগুলোর দরকার ছিল, তা হয়তো পাওয়া যেত। তাহলে আর বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে বিমান সদরদপ্তর, র‍্যাংক-ব্যাজবিহীন ইউনিফর্ম আর বেসিনে লোহার বদলে প্লাস্টিকের ট্যাপ দেখানো লাগত না। ব্যাস, এটুকুই।

এতটা সচল সংলাপ আর পরিচালনার জোরই ফারুকীর ‘ফেরা’কে অন্য মাত্রা দিল।

মুমতাহিন হাবিব
শিক্ষার্থী, ঢাকা।

বিনি সুতোর টান
বিনি সুতোর টান

বিনি সুতোর টান
অভিনয় : জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আয়াশ,
জাকিয়া বারী মম প্রমুখ।
পরিচালনায়: শিহাব শাহিন

পরিচালক শিহাব শাহিনের অনন্য এক সৃষ্টি বলতে হবে নাটকটিকে। আমাদের সমাজের নিয়মিত এমন একটা গল্পকে চমৎকার স্ক্রিপ্ট আর অসাধারণ অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে দর্শকদের সামনে। বিশেষ করে বলতে হয় অপূর্বর ছেলের অভিনয়ের কথা, মুগ্ধতা ছড়িয়েছে পর্দায় তার প্রথম উপস্থিতি।

তানভীর মাহতাব
ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

লাভ ভার্সেস ক্রাশ
লাভ ভার্সেস ক্রাশ

লাভ ভার্সেস ক্রাশ
অভিনয়: মেহজাবিন, জোভান
পরিচালনা: প্রবীর রায় চৌধুরী

এই ইদে যে কয়েকটি নাটক ভালো লেগেছে তার মধ্যে একটি হলো লাভ ভার্সেস ক্রাশ। প্রবীর রায় চৌধুরী পরিচালিত নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মেহজাবিন, জোভান ও আরও অনেকে। গল্পটি সংক্ষেপে এ রকম—বিবাহবার্ষিকীর দিন মেহজাবিন অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বামীর জন্য। এরপর দর্শকেরা ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে দেখতে থাকেন এই গল্পের নায়িকার জীবনের ‘লাভ’ আর ‘ক্রাশ’ কে, তাঁদের সম্পর্কের উন্মোচন, পরম্পরা ও পরিণতিকে। বছর পাঁচেক আগে, মঞ্চনাটকের সহশিল্পী হিসেবে মেহজাবিনের সঙ্গে পরিচয় হয় জোভানের। ওদিকে মেহজাবিন আগে থেকেই অন্য একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ। জোভানের সঙ্গে বন্ধুত্বের একপর্যায়ে নায়িকা আবিষ্কার করেন তাঁদের দুজনের পছন্দ-অপছন্দ, জীবনদর্শন এগুলো যেন অনেকটাই এক। একপর্যায়ে জোভান নিজেই মেহজাবিনকে ভালোবাসার কথা স্বীকার করে ফেলেন। এরপর কী হলো, সেটা বলে দিলে তো ‘ক্লাইমেক্স’টাই মাটি! অভিনয়ে মেহজাবিন ও জোভান যথাযথ। তবে মেহজাবিনের প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিনি, একটু উচ্চকিত লাগল তাঁর অভিনয়। নাটকটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল আবহসংগীতের আধিক্য। পরিচালকের যে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবি রাখে তা হলো একটা গতানুগতিক গল্পকেও চিত্রনাট্যের বুননে তিনি আকর্ষণীয় করে তুলতে পেরেছেন। একটা পর্যায়ে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে, মেহজাবিনের স্বামী আসলে কে বা তাঁর ‘ক্রাশ’ কি সত্যিই ‘লাভ’ হয়ে উঠতে পারল? নাটকের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘সাসপেন্স’ বজায় রাখার জন্য নাট্যকার ১০-এ ৭ পেতেই পারেন। আক্ষেপ একটাই, গল্পটি চেনা ছকের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পরিণতি দেখাতে ব্যর্থ হলো।

তাসনিয়া তাহসিন
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সোনালী ডানার চিল
সোনালী ডানার চিল

সোনালী ডানার চিল
অভিনয়: মেহজাবিন, আবির মির্জা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাবেরী আলম
রচনা ও পরিচালনা: আশফাক নিপুণ

মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোড়িত হয় যখন তার সামনে সমসাময়িক বাস্তবতা ফুটে ওঠে। আশফাক নিপুণের রচনা ও পরিচালনায় সোনালী ডানার চিল ঠিক তেমনই একটা নাটক, বাস্তবতা নিংড়ে বানানো, প্রতিটি দৃশ‍্যে ভুলে যেতে হয় সমস্তটাই অভিনয়। একটা মধ‍্যবিত্ত ছোট পরিবারের প্রতিনিয়ত খুনসুটির মধ‍্য দিয়ে জীবন চলা, মাথা উঁচু করে বাঁচা, একমাত্র আদরের মেধাবী মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে পুরো পরিবারের স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন দেখা নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

মেহজাবিন ১৭ বছরের রুমকি চরিত্রে বেশ সাবলীল। সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ছিল রুমকির বাবা, একজন শিক্ষকের চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদের অভিনয়। বরাবরের মতোই তিনি এবারও দেখিয়েছেন, তাঁর তুলনা তিনি নিজে। সাবেরী আলম (রুমকির মা) ছিলেন অনবদ্য, বিশেষ করে রুমকি যখন ওর মা-বাবাকে (সাবেরী আলম) খাইয়ে দিচ্ছিল—দৃশ্যের দৈর্ঘ্য আর দু-চার সেকেন্ড কম হলে দৃশ্যটা মনে আরও কিছুক্ষণ থেকে যেত।

নাটকের শেষের দিকে রাইসুল ইসলাম আসাদের অভিনয় দেখে খুব কম দর্শকই বোধ হয় চোখের পানি আটকে রাখতে পারবেন। অন্তত আমি পারিনি।

সৈয়দা মাহাবুবা শারমিন
মাদারীপুর।

আমার নাম মানুষ
আমার নাম মানুষ

আমার নাম মানুষ
অভিনয়: অপর্ণা ঘোষ, জন কবির, তারিক আনাম খান, সেঁওতি, ইরফান সাজ্জাদ, সুদীপ
রচনা ও পরিচালনা: শাফায়েত মনসুর রানা

চারদিকে এত অনিয়ম, দুর্নীতি, তবুও আমরা নিজেদের মতো করে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি। নিজে সচেতন হই না, অন্যদেরও সচেতন করি না। অথচ এই সচেতনতাই বদলে দিতে পারে প্রিয় দেশকে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, সে-ই তো পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, সচেতনতা তো এই মানুষেরই ভূষণ। অথচ আমরা কি এগিয়ে আসি, প্রতিবাদ করি? না, তবে কেউ কেউ এগিয়ে আসেন, প্রতিবাদ করেন। এই নিয়েই শাফায়েত মনসুর রানার টেলিছবি আমার নাম মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে যে নতুন দিনে দুর্বার আন্দোলন করেছিল তারুণ্যের প্রতীকেরা, সেটাও এসেছে।

হৃদয় সাহা
বি. এড. কলেজ গেইট, চকবাজার, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।

শেষ অশেষের গল্প
শেষ অশেষের গল্প

শেষ অশেষের গল্প
অভিনয়: আবুল হায়াত, শর্মিলী আহমেদ, মীর সাব্বির, কুসুম শিকদার, সাঈদ বাবু প্রমুখ।
পরিচালনা: হানিফ সংকেত

প্রতি ঈদের মতো এবারও নন্দিত উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেতের একটি নাটক এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয় ঈদের রাতে। এবারের নাটক ছিল শেষ অশেষের গল্প। হানিফ সংকেতের নির্মাণের প্রধান দিক হলো তাঁর নিজস্বতা। তাঁর প্রতিটি নির্মাণেই সমাজের বিভিন্ন অসংগতি উত্থাপিত হয়। এটিও তার ব‍্যতিক্রম ছিল না। কাহিনি, অভিনয় নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ছিল। ময়নার বিয়ের দিনই বাদলের বিদেশ থেকে ফেরা আর বাদলের বিয়ের ঠিক আগের রাতে ময়নার স্বামীর মৃত্যু বেশ নাটকীয় হলেও গ্রহণযোগ্য। বরাবরের মতো অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বিরতি বেশ বিরক্তিকর ছিল।

জ্যোতি রায়
মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।

পাতা ঝরার দিন
পাতা ঝরার দিন

পাতা ঝরার দিন
অভিনয়: সৈয়দ হাসান ইমাম, ঈশিতা প্রমুখ।
পরিচালনা: রেদওয়ান রনি

কী যে ভালো বানিয়েছে, তা আমি কীভাবে বোঝাই!! আমার বাবাকে নিয়ে ওই একই ভয় ছিল আমাদের। তাঁরও আলঝেইমার রোগটা ছিল। এখন আমার বাবা আর ঘর থেকে বেরোতে পারেন না। দেখতে দেখতে নিজেকে ঈশিতার আসনে বসিয়ে ফেলেছিলাম। হ্যাটস অব টু ইউ রনি। এ ধরনের নাটক দেখলে মনটা ভারাক্রান্ত হয় বটে, কিন্তু ভালোও লাগে। মনে হয় আমার গল্পটা কেউ হয়তো করল। এ রকম নাটক আরও দেখতে চাই।

আফসা
ধানমন্ডি, ঢাকা

শোক হোক শক্তি
শোক হোক শক্তি

শোক হোক শক্তি
অভিনয়: আফরান নিশো, সালহা খানম নাদিয়া, মুনিরা মিঠু প্রমুখ
রচনা ও পরিচালনা: মিজানুর আরিয়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে বলেই দেখলাম শোক হোক শক্তি নাটকটি। গল্পটা সংক্ষেপে এমন: নিশো ও নাদিয়া প্রেমিক-প্রেমিকা। হঠাৎ একদিন নাদিয়া নিশোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর পুরোনো ভালোবাসার মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য। একাকিত্ব গ্রাস করে নিশোকে। পরিবার, লেখাপড়া সবকিছুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে সিগারেটের নেশায় ডুবে যায় তিনি, বেরিয়ে পরে বাড়ি থেকেও। তারপরই নানা টুকরো ঘটনায় কীভাবে তিনি নিজের জীবন, নিজের পরিবারের মূল্য আর গুরুত্ব বুঝতে পারে তা নিয়েই নাটকের গল্প।

নাটকের বক্তব্যটা ভালো, প্রেমের করুণ পরিণতিই যে জীবনের শেষ নয়, বেঁচে থাকার জন্য যে আরও অনেক অনুপ্রেরণা আছে—সেটাই বলার চেস্টা ছিল। দুঃখ একটাই যে মন ভরল না, কোথায় যেন একটা কিছু বাকি থেকে গেল।

নিশোর পরিবারের যেহেতু পরবর্তীকালে একটা বড় ভূমিকা ছিল, শুরু থেকে এই পরিবারের জন্য নাটকে আরও একটু সময় বরাদ্দ থাকলে বোধ হয় গল্পটা আরও বেশি ছুঁয়ে যেত। প্রেম হারানোর বিরহে ভার্সিটি ফাইনাল ইয়ারের প্রাপ্তবয়স্ক একটি ছেলের একেবারে ঘর-পরিবার-শহর ছেড়ে চলে যাওয়া, আবার খুব বিচ্ছিন্ন কিছু বাইরের ঘটনায় হঠাৎ জীবনে পরিবারের গুরুত্ব অনুধাবন করে ফিরে আসা একটু যেন বেমানান লাগে।

আফরান নিশো সাবলীল অভিনয় করেন, একটু লক্ষ রাখতে পারেন যেন তাঁর চরিত্রগুলো ‘একই রকম’ হয়ে না হয়ে যায়। নাদিয়ার অভিনয়ও ভালো। মুনিরা মিঠুর কথা উল্লেখ না করলেই নয়। গুনী অভিনেত্রী বলেই তিনি ছোট্ট একটা চরিত্রেও মন কেড়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, বাকি চরিত্রগুলোর সংলাপ বা অভিনয় কোনো দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। সুন্দর লোকেশন, চিত্রায়ণ, আবহসংগীত ও গান ভালোই ছিল। ছিল আবেগ, প্রেম, বিরহ, পরিবার, ভালোবাসা, শক্তি সব অনুভূতিই...কিন্তু আফসোস! অনুভূতিগুলো যেন ভাসা ভাসা স্পর্শ করল, হৃদয়ে দাগ কাটতে পারল না।

ইসরাত জাহান
শান্তিবাগ, ঢাকা।

পাঠকের পাঠানো সমালোচনাগুলো সম্পাদিত ও সংক্ষেপিত।