স্বপ্নে বিভোর প্রসূন
এই শুক্রবার লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে হয়ে গেল। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন প্রসূন আজাদ। ক্যামব্রিয়ান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের এই ছাত্রী প্রথম রানারআপ হওয়ায় পর আনন্দের সাগরে ভাসছেন। মুঠোফোনে যখন প্রসূনের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি অবস্থান করছিলেন গুলশানের আমাজন ক্লাবে।কথা প্রসঙ্গে প্রথম আলো ডটকমকে প্রসূন বলেন, ‘জীবনের অনেকগুলো সকাল এরই মধ্যে পার করেছি। কিন্তু আজ শনিবারের সকালটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঘুম থেকে দেখি মুঠোফোনে একের পর এক খুদেবার্তা আসছেই। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন, ফোন করছেন। যেভাবে খুদেবার্তা আর ফোন আসছে তাতে মনে হচ্ছিল মোবাইল ফোনটাই বিকল হয়ে যাবে।’ আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রসূন বলেন- ‘আমি অনেক খুশি। এ খুশির অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’ লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ হওয়াটাকে নিজের জীবনের অন্যতম একটি অর্জন মনে করছেন প্রসূন। তিনি বলেন, এই তো কয়েকদিন আগেও আমার বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের সদস্যরা ছাড়া সেভাবেই কেউই আমাকে চিনত না। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কত মানুষ যে আমাকে চিনতে পেরেছেন তা এখন টের পাচ্ছি। কদিন আগেও আমার কাছে বিষয়টি একেবারে অবিশ্বাস্য ছিল। এটা আমার মত একজন সাধারণ প্রসূনের জন্য অনেক বিরাট সৌভাগ্যেরও বিষয়।’স্বাধীনচেতা, সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণচঞ্চল প্রসূন সব সময় নতুন কিছু করার চিন্তা-ভাবনা করতেন। আর তাই নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছেন তিনি। প্রসূন এখন নায়িকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা তাঁর চিত্র নায়িকা হওয়ার স্বপ্নকে আরও কয়েকধাপ এগিয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।এ প্রসঙ্গে প্রসূন বলেন, ‘ আমি সবার মাঝে একজন হতে চাই। যাকে সবাই এক নামে চিনবে। এক্ষেত্রে সুচিত্রা সেনে আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন। আমার বাবা সুচিত্রা সেনের ছবি অনেক পছন্দ করেন। তাঁর কারণে সুচিত্রা সেনের অসংখ্য ছবি দেখা হয়েছে। ছবি দেখতে দেখতে সুচিত্রা সেন আমার আদর্শে পরিণত হয়েছেন।’নায়িকা হওয়ার জন্যই কী আপনি লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসূন বলেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম নিবন্ধনের বিষয়টি আমি জানতামই না। এই কাজটি করেছে আমার স্কুলের বন্ধু নদী। পরে সেটা জানতে পারি। তবে এটা ঠিক যে, আমার বেশ আগ্রহ ছিল। আপনি কী মনে করেন নায়িকা হওয়ার মত সব ধরনের যোগ্যতা আপনার মধ্যে আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসূন বলেন, ‘ সত্যি কথা বলতে কি আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। আমি এ পর্যন্ত যা করতে চেয়েছি সবই আমার কাছে সফলভাবে ধরা দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, নায়িকা হওয়ার বিষয়টিও আমার কাছে সফল ভাবেই ধরা দেবে।’আপনি বলেছেন আনার বন্ধু প্রতিযোগিতায় নাম নিবন্ধনের কাজটি করেছে। কিন্তু আপনার পরিবার কি দ্বিমত করেনি এতে? এর উত্তরে প্রসূন বলেন, ‘শেষ চল্লিশে যাওয়ার আগে এই ব্যাপারটি আমার পরিবারের কেউই জানতেন না। যখন শেষ চল্লিশে আমার স্থান হলো তখন অনেকটা ভয়ে ভয়েই পরিবারের সবাইকে বিষয়টি জানাই। তাঁরাও বেশ আগ্রহ দেখান। তারপরও পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং সবার সহযোগিতাতেই এত দুর আসা। সবার সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এ পর্যায় পর্যন্ত আসা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।’এক ভাই এক বোনের মধ্যে প্রসূন বড়। পড়াশোনার বাইরে অবসরে ছবি তুলতে পছন্দ করেন। জানালেন, ‘ কোনো একটি আলাদা বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ সীমাবদ্ধ নেই। সব ধরনের ছবি তুলতে আমার ভালো লাগে।