default-image

করোনাকালে তরতর করে বেড়েছে ইলন মাস্কের সম্পদ। গতকাল খবর পেলাম এখন তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে এখন ১২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

অবশ্য সম্পদ বৃদ্ধি মানে তাঁর হাতে চট করে নগদ অর্থ আসেনি। যে গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তিনি, সেটির মোট বাজারমূল্য বেড়েছে, বেড়েছে শেয়ারদর। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির বড় একটি অংশের মালিকানা তাঁর, তাই তাঁর মোট সম্পদও বেড়েছে।

আমরা একটু অঙ্ক কষব বলে ঠিক করেছি। তাই অনেক ধরাধরির ব্যাপার আছে। শুরুতেই ধরে নিচ্ছি, চাইলেই তিনি কারওয়ান বাজারে দাঁড়িয়ে শেয়ারগুলো তাৎক্ষণিক বিক্রি করে বস্তা বস্তা নগদ অর্থ পেয়ে যাবেন। সে সঙ্গে ধরে নিচ্ছি, এই লেখা পাঠকের গোচরে আসা পর্যন্ত ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল (২৪ নভেম্বর) মিরপুরের অলিগলির দোকানগুলোতে ঢুঁ মেরে বুঝলাম, ৫০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে আলু। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর, স্থানভেদে দরের তারতম্য কিংবা আলু দেশি নাকি বিদেশি, তা নিয়ে আপাতত মাথা ঘামানোর সময় নেই। আমরা বরং খাতা-কলমে মাথা ঘামাই। অবশ্য ঘামানোর কিছু নেই, কারণ, হিসাব সহজ, জলবৎ তরলং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গতকাল মার্কিন ডলার কেনা ও বেচা দুটোই ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা দরে হয়েছে। সে হিসাবে ইলন মাস্কের ১২৮ বিলিয়ন ডলার মানে ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ টাকা নিয়ে থলি হাতে তিনি যদি বাজারে আলু কিনতে যান, তবে থলিতে আলু ধরবে না। কারণ, ৫০ টাকা কেজি দরে ২১ হাজার ৭০৮ কোটি ৮০ লাখ কেজি আলু পাওয়ার কথা তাঁর। টনের হিসাবে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৭৭ লাখ টন। অর্থাৎ বাংলাদেশের বার্ষিক চাহিদার ২৮ গুণের বেশি আলু কিনতে পারবেন ইলন মাস্ক।

প্রিয় পাঠক, চাইলে আপনিও বের করে ফেলতে পারেন ঘরের শেষ ঘটিবাটি বেচে দিয়ে মোট কয় কেজি পেঁয়াজ, টমেটো কিংবা পাড়ার দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন পণ্যের কতটা কিনতে পারবেন ইলন মাস্ক। জানাতে পারেন কমেন্টে।

মন্তব্য করুন