এবার ইউরোপিয়ান লিগের দল বদলে অনেক কিছুই বদলে গেল। চেনা মেসিকে অচেনা পিএসজিতে খেলতে দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত। আবার চেনা রোনালদোকে চেনা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দেখে অনেকেই উচ্ছ্বসিত। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগে রোনালদো ম্যানচেস্টার সিটিতে যাচ্ছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছিল। শেষমেশ সিটিতে না গিয়ে ইউনাইটেডে যাওয়ায় অনেক সিটি সমর্থক খেপে আছেন রোনালদোর ওপর।
এক সিটি সমর্থক বলছিলেন, ‘আসবা না তো আসছি আসছি করলা কেন? তোমার জন্য তো আমরা গেট বানিয়ে বসে ছিলাম। পেছনে “রোনালদো” লেখা জার্সিও অর্ডার করছিলাম। এখন এগুলোর কী হবে? এতগুলা টাকা হুদাই গচ্চা গেল।’
অবশ্য সব সিটি সমর্থক যে রোনালদোর জন্য আক্ষেপ করছেন, তা কিন্তু নয়। ফার্মগেটে সিটিং বাসে দাঁড়িয়ে যাওয়া এক সিটি সমর্থককে রোনালদোর দলবদলের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘রোনালদো একদিন এ রকম করবে জেনেই এক বিখ্যাত কবি একসময় বলে গিয়েছিলেন, যেটা ছিল না ছিল না সেটা না আসাই থাক, সব এলে নষ্ট জীবন...।’
কোন কবি এমন কথা বলেছিলেন?—এ প্রশ্ন করতেই তড়িঘড়ি করে তিনি বলেন, ‘আমার স্টপেজ চলে আসছে। আমি নেমে গেলাম। টাটা, গুডবাই।’
মিরপুরের এক তরুণ সিটি সমর্থকের কাছে রোনালদোর এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চোখ গরম করে চেঁচিয়ে জানান, ‘হু ইজ রোনালদো? রোনালদো নামের কাউকে চিনি না আমি। প্রশ্ন যেহেতু করেই ফেলেছেন, তাহলে তো নিশ্চয়ই রোনালদো নামের কেউ অবশ্যই আছে। ঠিক আছে, পরে সময় পেলে গুগলে সার্চ করে দেখব!’
এদিকে নানান মাধ্যমের সূত্রে রোনালদোকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যাচ্ছে। ইতালি–অধ্যায় শেষ করে পুনরায় ইংল্যান্ড–অধ্যায় শুরু করার আগে খুব আনন্দেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিয়মিত রেস্তোরাঁয় খাচ্ছেন, টিকটক ভিডিও বানাচ্ছেন, চা হাতে ছবি তুলে পোস্ট করছেন, ইউটিউবে নিয়মিত ‘ফানি ভিডিও ২০২১’ আপলোড করছেন, স্ন্যাপচ্যাটে নানান মজাদার ফিল্টার লাগিয়ে তামাশাও করতে দেখা যাচ্ছে।
‘একটু থামুন’–এর তরফ থেকে রোনালদোকে ইমোতে ফোন করে সিটি ঘুরে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাসতে হাসতে বলেন, ‘আরে ভাই, এটা একটা প্র্যাংক ছিল। ম্যানচেস্টার সিটি আমার রাইভাল ক্লাব। আমি কেন ওখানে যাব? এ ছাড়া গার্দিওলার সঙ্গে আমার আসলে ব্যাটে–বলে হয় না। তাঁর জন্মদিনে একবার একটা শ্যাম্পু গিফট করেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে শ্যাম্পুটা আমার দিকে ছুড়ে মারলেন! আপনারাই বলেন, শ্যাম্পু গিফট করায় এত রাগের কী আছে? এসবের জন্যই চেয়েছিলাম সিটির সঙ্গে একটু মজা নিই। এ কারণেই সিটি সিটি করেও শেষ পর্যন্ত যোগ দিলাম ইউনাইটেডে। হা হা হা হা...! কেমন দিলাম, বন্ধুরা?’
এই বলে ফোন রাখলেন রোনালদো। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।