default-image

মানুষের উচ্চতা তার খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টি, জীবনযাত্রাপ্রণালি প্রভৃতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। তবে মূলত নির্ভর করে বংশানুক্রমে অর্জিত গুণাগুণের ওপর। যেমন দীর্ঘদেহী মা–বাবার সন্তান স্বাভাবিকভাবেই হয় লম্বা আর বেঁটেদের বেঁটে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যেখানে সবার চালচলন, খাওয়াদাওয়া মোটামুটি এক, তাদের লোকজনের উচ্চতা সেই জনগোষ্ঠীর গড় উচ্চতার কাছাকাছি থাকে। খুব বেশি লম্বা বা খুব বেশি খাটো লোক কমই থাকে।

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষের বিবর্তনের ধারা লক্ষ করলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে। আদিম যুগে দেখা গেছে, লম্বা গড়নের পুরুষেরা বেশিসংখ্যক সন্তানের জনক হতেন। কারণ, তাঁদের সুঠাম দেহসৌষ্ঠব নারীর কাছে বেশি আবেদন সৃষ্টিকারী। তাঁদের সন্তান দীর্ঘদেহী ও শক্তসমর্থ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহজে উত্তীর্ণ হতো বলে তাঁদের মাধ্যমে বংশধারা রক্ষা সহজতর হয়েছে। এটাই মূলত নারীকে আকর্ষণ করে। কারণ, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের চিন্তাটাই বেশি থাকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তাহলে তো একদিকে দীর্ঘদেহী মা-বাবা আর অন্যদিকে খাটো মা-বাবাদের সন্তানদের সুবাদে শুধু বেশ লম্বা ও বেশ খাটো মানুষের সংখ্যাই আজ পৃথিবীতে বেশি হওয়ার কথা। সেটা না হওয়ার কারণ হলো বেঁটে নারীর তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তানধারণের সক্ষমতা। বেঁটে নারীরা কম বয়সেই সন্তান ধারণে সক্ষম হয়ে ওঠেন। যেসব হরমোন নারীকে সন্তানবতী করতে সাহায্য করে, সেই হরমোনগুলোই তাঁকে লম্বা হতে দেয় না। অর্থাৎ লম্বা মেয়েদের তুলনায় বেঁটে মেয়েরা তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তানের জন্ম দিয়ে এসেছেন।

আর এই সন্তানেরা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হলেও সংখ্যায় বেশি আর লম্বা মা-বাবার সন্তানেরা বংশবিস্তারে বেশি আকর্ষণীয় হলেও সংখ্যায় কম। আদিম কাল থেকে এভাবে সংখ্যা ও গুণের মধ্যে একধরনের ভারসাম্য রক্ষিত হয়ে এসেছে বলেই সমাজে খুব লম্বা বা খুব বেঁটে লোকের সংখ্যা বেশি নয়। অবশ্য এখন মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু তার আগেই মানুষের উচ্চতার পার্থক্য অনেকাংশে কমে এসেছে।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন