বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিংবা পল্ডি ঘোড়ার রেসে গিয়ে শুধোচ্ছেন: ঘোড়াগুলো এ রকম পাগল-পারা ছুটছে কেন?
বন্ধু: কী আশ্চর্য, পল্ডি তা-ও জানো না! যেটা ফার্স্ট হবে, সেটা প্রাইজ পাবে যে।
পল্ডি: তাহলে অন্যগুলো ছুটছে কেন?
এর থেকে আপনি রেসের গল্পের মাধ্যমে কুট্টি সাইক্লে অনায়াসে চলে যেতে পারেন। যেমন, কুট্টি রেসে গিয়ে বেট করেছে এক অতি নিকৃষ্ট ঘোড়া। এসেছে সর্বশেষে। তার এক বন্ধু, আরেক কুট্টি, ঠাট্টা করে বললে, ‘কী ঘোড়া (উচ্চারণ অবশ্য ‘গোরা’, আমি বোঝার সুবিধের জন্য সেগুলো বাদ দিয়েই লিখছি) লাগাইলায় মিয়া! আইলো সক্কলের পিছনে?’
কুট্টি দমবার পাত্র নয়। বললে, ‘কন্ কী কত্তা! দ্যাখলেন না, যেন বাঘের বাচ্চা, বেবাকগুলিরে খ্যাদাইয়া লইয়া গেল!’

default-image

কুট্টি সম্প্রদায়ের সঙ্গে, পুব-পশ্চিম উভয় বাঙলার রসিকমণ্ডলীই একদা সুপরিচিত ছিলেন। নবীনদের জানাই, এরা ঢাকা শহরের খানদানি গাড়োয়ান-গোষ্ঠী। মোগল সৈন্যবাহিনীর শেষ ঘোড়সওয়ার বা ক্যাভালরি। রিকশার অভিসম্পাতে এরা অধুনা লুপ্তপ্রায়। বহু দেশ ভ্রমণ করার পর আমি নির্ভয়ে বলতে পারি, অশিক্ষিত জনের ভিতর এদের মতো Witty (হাজির-জবাব এবং সুরসিক বাক্চতুর) নাগরিক আমি হিল্লি-দিল্লি কলোন-বুলোন কোথাও দেখিনি।
এই নিন একটি ছোট ঘটনা। প্রথম পশ্চিম বাংলার ‘সংস্করণ’টি দিচ্ছি। এক পয়সার তেল কিনে ঘরে এনে বুড়ি দেখে তাতে একটা মরা মাছি। দোকানিকে গিয়ে অনুযোগ জানাতে সে বললে, ‘এক পয়সার তেলে কি তুমি মরা হাতি আশা করেছিলে!’ এর রাশান সংস্করণটি আরও একটু কাঁচা। এক কপেকের (প্রায় এক পয়সা) রুটি কিনে এনে এক বুড়ি ছিঁড়ে দেখে তাতে এক টুকরো ন্যাকড়া। দোকানিকে অনুযোগ করাতে সে বললে, ‘এক কপেকের রুটির ভিতর কি তুমি আস্ত একখানা হীরার টুকরো আশা করেছিলে?’ এর ইংরেজি ‘সংস্করণ’ আছে, এক ইংরেজ রমণী এক শিলিংয়ে একজোড়া মোজা কিনে বাড়িতে এনে দেখেন তাতে একটি ল্যাডার (অর্থাৎ মই, মোজার একটি টানা সুতো ছিঁড়ে গেলে পড়েনের সুতো একটার পর একটা যেন মইয়ের এক একটা ধাপ-কাঠির মতো দেখায় বলে ওর নাম ল্যাডার।) দোকানিকে অনুযোগ জানাতে সে বললে, ‘এক শিলিংয়ের মোজাতে কি আপনি, ম্যাডাম, একখানা রাজকীয় মার্বেল স্টেয়ারকেস আশা করেছিলেন!’
এবার সর্বশেষ শুনুন কুট্টি সংস্করণ। সে একখানা ঝুরঝুরে বাড়ি ভাড়া দিয়েছে পুলিশের এসআইকে। বর্ষাকালে কুট্টিকে ডেকে নিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন, এখানে জল ঝরছে, ওখানে জল পড়ছে—জল জল, সর্বত্র জল পড়ছে। পুলিশের লোক বলে কুট্টি সাহস করে কোনো মন্তব্য বা টিপ্পনী কাটতে পারছে না, যদিও প্রতি মুহূর্তেই মাথায় খেলছে বিস্তর। শেষটায় না থাকতে পেরে বেরোবার সময় বললে, ‘ভাড়া তো দ্যান কুল্লে পাঁচটি টাকা। পানি পড়বে না তো কি শরবৎ পড়বে?’


(সংক্ষেপিত)

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন