default-image

শীতের আগে হেমন্তে বা শীতের পর বসন্তে অথবা বর্ষায় যখন গাছে নতুন পাতা বেরোতে শুরু করে, তখন সেগুলো সাধারণত হালকা লালাভ রঙের হয়। পরে ধীরে ধীরে পাতাগুলো সবুজ রং ধারণ করে। কিন্তু প্রথমে লালাভ থাকে কেন? এটা কি এ জন্য যে লাল রং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত থাকতে কচি পাতাকে সাহায্য করে? নাকি এ জন্য যে লাল রঙে সহজে ছত্রাক জমতে পারে না, ফলে অকালে ঝরে পড়ার হাত থেকে কচি পাতাগুলো রক্ষা পায়?

default-image

এটা ঠিক যে লাল রং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে বাধা দেয় এবং এটাও ঠিক যে লাল রঙের পাতায় সহজে ছত্রাক ধরে না। কিন্তু তাহলে তো গহিন বনের স্যাঁতসেঁতে স্থানেই কেবল লাল রঙের কচি পাতা হতো; কারণ, ওসব জায়গাতেই ছত্রাকের প্রকোপ বেশি। অথবা শুধু প্রখর রোদের মধ্যেই হতো; কারণ, সেখানেই অতিবেগুনি রশ্মির প্রকোপ বেশি। বস্তুত, গহিন বন বা খোলামেলা স্থাননির্বিশেষে সর্বত্রই লাল রঙের কচি পাতা দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

দুটি ভিন্ন কারণে দুই জায়গায় একই রকম লালাভ কচি পাতা জন্মায়—এ রকম একটা ব্যাখ্যা অবশ্য হতে পারে। কিন্তু যেখানে ছত্রাকের উৎপাত নেই, আবার সরাসরি সূর্যরশ্মিও পড়ে না অর্থাৎ অতিবেগুনি রশ্মির আশঙ্কা নেই, সেখানে যে লালাভ রঙের কচি পাতা দেখা যায়, সেটা কেন? বিজ্ঞানীরা এ ধাঁধা ভাঙার জন্য অনেক চিন্তাভাবনা করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, এনথোসায়ামিন পিগমেন্টের কারণে পাতাগুলো কিছুদিন লাল রং ধারণ করে থাকে। রং লাল হলে পোকামাকড় সহজে আক্রমণ করতে পারে না। কারণ, পোকামাকড়ের চোখে নীল রংটা বেশি ধরা পড়ে, লাল রং তারা প্রায় দেখতেই পায় না। পোকামাকড়ের হাত থেকে কচি পাতাকে রক্ষার জন্যই প্রকৃতি তাদের লাল রঙে সাজায়।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন