বিজ্ঞাপন
গোপালের কথা শুনে পিসিমা আঁতকে উঠে বললেন, ‘কী বলছ গোপাল! আমি বিধবা মানুষ, মাছ আমি স্পর্শ পর্যন্ত করি না। আর তোমাকে তাই রান্না করে খাওয়াব?’

খুশি হয়ে পিসিমা বললেন, ‘বেশ তো, বেশ তো, এ আর এমন কী, এ তো আনন্দের কথা।’

পিসিমা গোপালকে খেতে দিলেন। গোপাল আগে থেকেই কয়েকটা ভাজা চিংড়ি মাছ লুকিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। এক ফাঁকে সেগুলো পাতের লাউঘন্টের মধ্যে মিশিয়ে দিল।

অনেক তৃপ্তির সঙ্গে খেয়েছে এমন ভাব করে ঘন ঘন ঢেকুর তুলে গোপাল যখন উঠতে যাবে, তখন পিসিমা জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলো তো গোপাল, কোন তরকারিটা সবচেয়ে ভালো খেলে?’

গোপাল পেটে হাত বুলোতে বুলোতে বলল, ‘পিসিমা, অনেক দিন পর আজ তৃপ্তিসহকারে খেলাম, সব রান্নাই দারুণ হয়েছে। তবে আপনার হাতের রান্না লাউ-চিংড়ির কোনো জবাব নেই। আহা! অনেক দিন এমন খাইনি। এমন রান্নার কথা সবাইকে না বললেই নয়!’

গোপালের কথা শুনে পিসিমা আঁতকে উঠে বললেন, ‘কী বলছ গোপাল! আমি বিধবা মানুষ, মাছ আমি স্পর্শ পর্যন্ত করি না। আর তোমাকে তাই রান্না করে খাওয়াব?’

গোপাল ভালো মানুষটির মতো বলল, ‘আমিও তো তাই ভাবছিলাম, শেষ বয়সে পিসিমা আবার মাছ খেতে শুরু করেছেন নাকি? আমি কিন্তু একবিন্দুও মিথ্যা কথা বলছি না।’

পিসিমাও লাউঘন্টের মধ্যে চিংড়ি মাছ দেখে অবাক হয়ে গেলেন। যা হোক, এ কথা পাঁচ-কান হয়ে গেলে শেষ বয়সে অনেকে তাঁকে নিন্দেমন্দ করবে। এই ভয়ে তিনি গোপালের হাত ধরে মিনতি করে বললেন, ‘গোপাল, এ কথা আর কেউ যেন জানতে না পারে।’ গোপালকে খুশি করার জন্য এক থলে টাকা এনে গোপালের হাতে গুঁজে দিয়ে বললেন, ‘দেখো গোপাল, পিসিমার মান রেখো।’

গোপালের যেন টাকা নিতে খুবই অনিচ্ছা, এমন ভাব দেখিয়ে টাকার থলেটা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে মহারাজের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলো।

গোপালের মুখ থেকে সব ঘটনা শুনে কৃষ্ণচন্দ্রের হাসি আর থামতে চায় না। তারপর প্রতিশ্রুতিমতো পুরস্কার নিয়ে গোপাল গুটিগুটি পায়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন