default-image

১.

জার্মান পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন একবার ট্রেনে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন। নিয়মানুযায়ী টিকিট চেকার এসে টিকিট চাইল। আইনস্টাইন আর টিকিট খুঁজে পান না। টিকিট চেকার আইনস্টাইনকে চিনতে পেরে বললেন, ‘প্রফেসর, আপনাকে আর খুঁজতে হবে না। আমি জানি আপনি নিশ্চয়ই টিকিট কেটেছেন।’

আইনস্টাইন ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘না না, টিকিটটা খুঁজতেই হবে! ওটা না পেলে আমি জানব না আমি কোথায় যাচ্ছি!’

২.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসিদের সঙ্গে ইংরেজদের মারাত্মক রেষারেষি। একই রকম রেষারেষি ছিল জার্মানদের সঙ্গেও। জার্মানিতে সে সময় হিটলারের রাজত্ব। নাৎসিদের ইহুদিবিদ্বেষের জন্য আইনস্টাইন পালিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ইতিমধ্যে তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব নিয়ে সারা বিশ্বে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে জার্মান আর ফ্রান্সের কী মত, তা নিয়ে আইনস্টাইনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমার আপেক্ষিকতা তত্ত্ব যদি নির্ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে জার্মানরা দাবি করবে আমি জার্মান, আর ফরাসিরা বলবে আমি একজন বিশ্বনাগরিক। কিন্তু ওটা যদি ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে ফরাসিরা বলবে আমি জার্মান; আর জার্মানরা বলবে আমি ইহুদি।’

৩.

তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা পারমাণবিক বোমায় মানবতা বিপর্যস্ত। জার্মান পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইনও এ নিয়ে দারুণ শোকাহত। হাজার হলেও তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল এই বোমা। কিন্তু তাঁর আবিষ্কৃত এ সূত্র নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে তখন ব্যাপক হইচই। অনেকের মুখেই পৃথিবীর সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি মিলছে। এ সময় তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে আইনস্টাইনের দিকে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বন্ধুর ছোট্ট সন্তানটি চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। তখন আইনস্টাইন ছেলেটির মাথায় হাত রেখে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে তুমি একমাত্র ব্যক্তি, যে ঠিকভাবে আমাকে চিনতে পেরেছ এবং আমার সম্পর্কে সঠিক বর্ণনা দিতে পেরেছ।’

৪.

আইনস্টাইনের এক সহকর্মী একদিন তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। আইনস্টাইন কিছুক্ষণ ভেবেটেবে নিয়ে এলেন একটি টেলিফোন ডিরেক্টরি। তারপর বসে বসে একটা নম্বর খুঁজতে শুরু করলেন।

সহকর্মী বললেন, আমি তো আপনার নম্বরটা চাইছি।

আইনস্টাইন বললেন, সেটাই তো খুঁজছি।

সহকর্মী ভীষণ অবাক, নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে নেই আপনার!

আইনস্টাইন বললেন, তার দরকারই–বা কী? যেটা আপনি বইয়ে পাবেন, সেটা মুখস্থ করে মাথা খাটাবেন কেন?

বিজ্ঞাপন
একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন