বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষক অনুপম হায়াতের নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি বই থেকে জানা যায়, ১৯০৭ সালে একবার কুমিল্লায় সলিমুল্লাহর ওপর হামলা হয়। সে সময় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে একজন নিহত হন। একই ঘটনার স্মৃতিচারণা করেছেন বিখ্যাত ভারতীয় লেখক নীরদ সি চৌধুরী তাঁর অটোবায়োগ্রাফি অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান গ্রন্থে। ইতিহাসবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ তাইফুরের গ্লিমপ্‌স অব ওল্ড ঢাকা গ্রন্থেও নবাবকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ আছে।

default-image

সলিমুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলার আরও কারণ আছে। সৈয়দ আবুল মকসুদের নবাব সলিমুল্লাহ ও তাঁর সময় গ্রন্থে কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে। তিনি বলছেন, দাফনের পর খাজা সলিমুল্লাহর কবর পাহারা দিয়েছে সশস্ত্র গুর্খা সৈন্য ও পুলিশ। আর এ জন্যই অনেকের ধারণা, নবাবকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি খাজা শামসুল হক ডায়েরিতে লিখেছেন, নবাবের মরদেহ নবাব পরিবারের কাউকে ধরতেও দেওয়া হয়নি। নবাব বেগম রওশন আখতারের বরাত দিয়ে সলিমুল্লাহর পুত্র খাজা নাসরুল্লাহ সম্পাদিত ‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ: দ্য মিস্টেরিয়াস ডেথ’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, নবাবের কফিন খুলতে দেওয়া হয়নি এবং নবাবের কবরটি প্রায় ছয় মাস পাহারা দিয়েছে ব্রিটিশ সেনারা।

অনুপম হায়াতের নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি গ্রন্থ থেকে আরও জানা যায়, সলিমুল্লাহর আরেক স্ত্রী বেগম আজিজুন্নেসা বলেছিলেন, তাঁর স্বামীকে কলকাতায় বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। এ কথা তিনি বলেছিলেন খাজা শামসুল হকের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ লাল মিয়াকে। তবে অনুপম হায়াতও স্বীকার করেছেন, এই দাবির পেছনে কোনো প্রমাণ নেই।

ইউনানি চিকিৎসক, সাহিত্যসেবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ হেকিম হাবিবুর রাহমানের ঢাকা পাচাস বারাস পাহ্‌লে গ্রন্থের অনুবাদক হাশেম সূফীও প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন, কলকাতায় সলিমুল্লাহর শেষ সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত হেকিমকে পাশে থাকতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, মরদেহ যখন কলকাতা থেকে ঢাকায় স্টিমারে করে নিয়ে আসা হয়, এখানে তো শোকের ছায়া, মরদেহ নামানোর পর পরিবারের কাউকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। দাফনের সময়ও কার লাশ তা–ও দেখতে দেওয়া হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জাগে—কী ঘটনা ঘটেছে যে লাশ দেখতে দেওয়া হলো না? তিনি আরও দাবি করেন, ময়নাতদন্তও করতে দেওয়া হয়নি।

default-image

সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর নবাব সলিমুল্লাহ ও তাঁর সময় গ্রন্থে দাবি করেছেন, সলিমুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে—এই তত্ত্বকে সমর্থন করেননি খোদ নবাবপুত্র হাবিবুল্লাহ। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনও মনে করেন, সলিমুল্লাহকে হত্যার কোনো কারণ নেই। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি (নবাব সলিমুল্লাহ) ব্রিটিশ পক্ষ করেছেন সেটা ঠিকই আছে। সেজন্য তো কাউকে হত্যা করা হয়নি, তাঁকে হত্যা করা হবে কেন? ঋণখেলাপি ছিলেন, জমিদারি ছোট জমিদারিতে পরিণত হয়েছিল। তাঁর থেকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ জমিদার ছিলেন। সুতরাং তাঁকে কেন হত্যা করা হবে, এটার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না।’ প্রচলিত ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’কে তিনি ‘অদ্ভুত-তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুকে ঘিরে এই যে রহস্য, তা কি নিছকই অনুমান, নাকি এর পেছনে কিছু সত্যতাও আছে, তা হয়তো জানা যাবে ভবিষ্যতের কোনো গবেষণা থেকে।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন