আসলে ঘর্ষণে জ্বলে না, জ্বলে তীব্র গতিতে পতনের কারণে। নভোযান মহাশূন্য থেকে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তার গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় প্রায় ১৮ হাজার মাইল। ঊর্ধ্বাকাশে বায়ুমণ্ডল বেশ ঠান্ডা এবং এর অণুগুলো থাকে হালকাভাবে ছড়ানো। বাতাসের অণুগুলোর ছোটাছুটির গড় গতিবেগই হলো তার তাপমাত্রার পরিমাপ। সেখানে ছোটাছুটি কম, তাই ঠান্ডা।

কিন্তু নভোযান যখন মহাশূন্য পরিভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তখন ঘণ্টায় ১৮ হাজার মাইল বেগে ছুটে আসার ফলে এক ভিন্ন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। বাতাসের অণুগুলোর গতি কম থাকলেও নভোযানের গতি বেশি হওয়ায় বাতাসের অণুগুলো অসম্ভব দ্রুত এবং অবিরাম নভোযানের গায়ে ধাক্কা খেতে থাকে। এর ফল দাঁড়ায় এই, যেন নভোযানটি স্থির রয়েছে আর বাতাসের অণুগুলো অসম্ভব দ্রুতগতিতে তার গায়ে আঘাত করছে। অর্থাৎ বাতাসের অণুগুলোর গড় গতিবেগ সাংঘাতিক বেড়ে যায়। ফলে তাপমাত্রা অকল্পনীয় হয়ে ওঠে। মনে হয়, নভোযানটি কয়েক হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রার চুলায় পড়েছে।

এত বেশি তাপমাত্রায় উল্কার পাথর জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়। কিন্তু নভোযান পোড়ে না; কারণ, তার চারপাশে উঁচু মাত্রার তাপনিরোধক সিরামিক পদার্থের আবরণ থাকে, যা নিজে গলে গিয়ে তাপ শুষে নেয়। ফলে নভোখেয়াযান নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

এখানে দেখতে পারেন নাসার একটি নভোযানের পৃথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্য