default-image

যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়লে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের ‘পিকে ৮৩০৩’ নম্বর ফ্লাইটের বিমানচালক বলেছিলেন, ‘বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বিকল। মে ডে, মে ডে, মে ডে’। রেডিওতে সে-ই তাঁর শেষ কথা। গত মে মাসের ঘটনা। সে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯৭ জন।

বিপদে পড়লে ‘মে ডে’ বলে সাহায্য চান বৈমানিক, নাবিক কিংবা জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। এটা আন্তর্জাতিক রীতি। সাহায্য চেয়ে বছরে এমন অনেক মে ডে কল পায় মার্কিন কোস্ট গার্ড।

যেভাবে এল

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর তীব্র সংকটে ‘মে ডে’ বলার রীতি চালু হয়। সে সময় ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বিমান চলাচল বেড়ে যায়। বিমানের কোনো সমস্যা দেখা দিলে রেডিওতে তা জানানো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সবাই বুঝবে এমন সংকেতের প্রয়োজন দেখা দেয়।

দায়িত্ব পড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের জ্যেষ্ঠ বেতার কর্মকর্তা ফ্রেডেরিক স্ট্যানলি মকফোর্ডের কাঁধে। তিনি যুক্তি দেখালেন, যেহেতু যুক্তরাজ্যের ক্রয়ডন এবং ফ্রান্সের লা বুর্জে বিমানবন্দর মধ্যে অনেক বিমান চলাচল করে, হয়তো কোনো ফরাসি শব্দ রূপান্তর করে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো হবে।

বিজ্ঞাপন

ফ্রেডেরিক স্ট্যানলি ‘মে ডে’র প্রস্তাব করেন। ফরাসি শব্দ মেডে (m’aider) অর্থ ‘সাহায্য করুন’। বিপদে জরুরি সাহায্য চাওয়ার সংকেত হিসেবে ১৯২৭ সালে ‘মে ডে’ গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বেতার তরঙ্গে বাধা কিংবা শব্দ শুনতে সমস্যা হতে পারে। সে জন্য বৈমানিকদের শব্দটি তিনবার করে বলতে বলা হয়। অর্থাৎ সংকেতটি হবে ‘মে ডে, মে ডে, মে ডে’।

মে ডের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে, কেবল জরুরি প্রয়োজনেই এমন সংকেত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তবু প্রতিবছর অনেক ভুয়া কল পায় মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। অযথাই বহু অর্থ খরচ হয় তাদের। আর সে কারণেই ভুয়া মে ডে কলের জন্য দেশটিতে ১০ বছর পর্যন্ত জেল কিংবা আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস ডটকম

মন্তব্য পড়ুন 0