১. বিশাল
বিড়ালকে বলা হয় ‘বাঘের মাসি’। কারণ, বাঘ বিড়াল গোত্রের প্রাণী। আর এ হিসেবেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিড়াল হলো হালুম মামা। পূর্ণবয়স্ক একটি বাঘ দৈর্ঘ্যে প্রায় ১১ ফুট পর্যন্ত হয়। আর ওজন হতে পারে ৩৫০ কেজির বেশি।
২. তীব্র
বাঘের গর্জন কিন্তু যেনতেন ব্যাপার নয়! ওদের ওই বিখ্যাত হালুম গর্জন এতটাই তীব্র হয় যে ৩ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। কাছ থেকে যারা শুনেছে, তারা বলে, রীতিমতো মাটি কেঁপে ওঠে!
৩. ক্ষিপ্র
আকৃতি আর দৈহিক গড়নে বাঘকে নাদুসনুদুস দেখালেও দ্রুত গতিতে দৌড়াতে দারুণ পটু ওরা। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। মানুষ দৌড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার বেগে।
৪. অনন্য
বাঘ মানেই তো ডোরাকাটা দাগ। তবে প্রতিটি বাঘের দেহের ডোরাকাটা দাগে আছে ভিন্নতা। কখনোই একটি বাঘের ডোরাকাটা দাগের সঙ্গে অন্য কোনো বাঘের দাগ মিলবে না। আর ওই দাগ কেবল বাঘের লোমেই থাকে না, লোমের নিচে চামড়াতেও থাকে।
৫. প্রাচীন
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো প্রাণীদের মধ্যে বাঘ অন্যতম। চীনের বেশ কিছু অঞ্চলে বাঘের পুরোনো জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। গবেষকদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই জীবাশ্মগুলোর বয়স প্রায় ২০ লাখ বছর।
৬. বৈচিত্র্যময়
বেঙ্গল টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার, ইন্দো–চায়নিজ টাইগার, সুমাত্রান টাইগার ও সাইবেরিয়ান টাইগার—বর্তমানে সারা পৃথিবীতে এই ৫ প্রজাতির বাঘের দেখা মেলে। তবে কাসপিয়ান, বালি ও জাভান প্রজাতির বাঘ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
৭. সাঁতারু
বিড়াল গোত্রের অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে বাঘ কিন্তু এক জায়গায় একেবারেই আলাদা। পানি ওদের ভীষণ প্রিয়। তাই প্রায়ই হালুম মামারা মনের সুখে পানিতে সাঁতার কাটে। বিশেষ করে গরম লাগলে তো কথাই নেই।
৮. নিশাচর
বাঘেরা ঘুমায় দিনে। সন্ধ্যার পরপরই খাবারের সন্ধানে বের হয়। আর শিকারে বের হওয়ার সময় ওরা একা থাকতেই পছন্দ করে।
৯. মাংসাশী
বাঘকে দুধ–কলা দিলে কিন্তু খেপে যেতে পারে! কারণ, বাঘের একমাত্র খাবার হলো মাংস। ওরা সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন হরিণ, মহিষ, বুনো শূকর ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। বাঘ অকারণে মানুষখেকো হয় না।
১০. বিপন্নপ্রায়
১০০ বছর পেছনে গেলেও এশিয়াজুড়ে বাঘের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু শিকার ও বসবাসযোগ্য অঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে প্রায় ৭ শতাংশ বাঘ কমে গেছে। তাই বাঘ রক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ন্যাটজিও কিডস অবলম্বনে জাওয়াদুল আলম