কত বড় বেয়াদব! ইচ্ছা করছিল কষে দিই একটা চড়। এমনিতেই মেজাজ চরম খারাপ। আজ ঈদের দিন। সকাল থেকে রিমির হাউকাউ শুনতে শুনতে কানটা ঝালাপালা হয়ে গেছে। প্রতি ঈদেই এক কথা—মেটাভার্সে তার অ্যাভাটারের জন্য বানানো জামার সাইজ নাকি ওলটপালট হয়ে গেছে। কী জ্বালা! ঈদের দিন এই হাউকাউ শুনতে কার ভালো লাগে? তাই টাইম মেশিনে চার্জ দিয়ে সকালেই বেরিয়ে পড়েছি।

‘এহেম’ কেশে গলাটা পরিষ্কার করে নিলাম। কিংবা বেয়াদবটার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলাম। বললাম, ‘শোনো। জাস্ট একটা কথা বলতে এসেছি। রিমিকে ভুলেও বিয়ে কোরো না। জীবনটা শেষ হয়ে যাবে। ভার্সিটিতে যেদিন ওকে দেখবে, প্রথম দেখাতেই তোমার মাথা চক্কর খেয়ে উঠবে আমি জানি। কিন্তু খবরদার! ওর থেকে ২০০ হাত দূরে থাকবে।’

বেয়াদবটা তবু কোনো পাত্তাই দিল না। মুখ তুলল না। একমনে গেম খেলতে থাকল।

‘শুনতে পাচ্ছো, আমি কী বলছি?’

‘আরে ভাই, শুনেছি তো। যান না।’

কী কপাল। আমি আমাকে ‘ভাই’ বলছে! বললাম, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে যাচ্ছি। শুধু মনে রেখো, রিমিকে ভুলেও...’

এইবার ছোকরা আমিটা খেপে উঠল। চিৎকার করে বলল, ‘আরে ভাই, বললাম তো, দূর হন! কী পেয়েছেন আপনারা! একবার ২০৭২ থেকে আসছেন, একবার ৭৩ থেকে আসছেন, আরেকবার আসছেন ৭৫ থেকে। পেয়েছেন কী?’

‘মানে?’

‘মানে এর আগেও আপনি তিনবার এসেছেন। একবার বলছেন, রিমিকে বিয়ে কোরো। আরেকবার বলছেন, কোরো না। একবার বলছেন, লুবনাই তোমার জীবনের প্রতিটা দিনে ঈদের আনন্দ নিয়ে আসবে। আরেকবার বলছেন, লুবনা থেকে দূরে থাকো। সমস্যা কী! আমি রিমি, লুবনা, সবার থেকে দূরে থাকব। খুশি?’

আমি, মানে ভবিষ্যতের আমিটা পিচ্চি আমির কাছে বকাঝকা খেয়ে গুটিয়ে গেলাম।