বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে বড়লোকি রোগে আক্রান্তদের ঢল

ঢাকার এক সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে সারি সারি মানুষ। দীর্ঘ ওই সারির দিকে তাকিয়ে অদূরেই মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলেন মাঝবয়সী এক ব্যক্তি। দেখে মনে হলো, তিনি অসুস্থ। কথা বলা যাবে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘কথা কম বলা ভালো। তারপরও কী কইবেন, কন। পিঠের ব্যথায় সোজা হয়া খাড়াইতে পারি না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী প্রথম ও দ্বিতীয় বাণী (‘তবে বড়লোকের বড়লোকি কিছু রোগও হয়, সেই রোগ থেকে যেন আমরা মুক্ত থাকি।’) শোনানোর পর মন্তব্য জানতে চাইলে ইদ্রিস মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মিনিশটার সাব তো আমার রোগ ধইরা ফালাইছেন, তারে একটা পদক দেওয়া দরকার। আমি কাজ করি রায়েরবাজারের এক মুদিদোকানে। কিন্তু মনে করেন, সকাল–বিকাল ফাইভ স্টার হোটেলে চা–কফি খাইতে মন চায়। ৩০ হাজার টাকা দামের বালিশে ঘুমাইতে মন চায়। এখন আপনিই বলেন, বড়লোকি রোগের লক্ষণ আছে কি না?’

default-image

এই প্রতিবেদক ‘হ্যাঁ’ বললে ইদ্রিস মণ্ডল মুখ বাঁকা করে হাসেন। হাসতে গিয়ে হয়তো তাঁর পিঠে টান পড়ে গিয়েছিল, তাই চোখমুখ কুঞ্চিত করে খানিকটা সময় নিয়ে বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, ওই যে লোকজন সব লাইনে খাড়ায়া আছে, তাদেরও একই রোগে ধরছে। আপনারও এই সব লক্ষণ আছে নাকি?’

আমতা আমতা করে ‘হ্যাঁ–না’ করতেই ইদ্রিস মণ্ডল বলেন, ‘সত্য কথা বলেন না ক্যান? এই দেশে কোনো গরিব আছে নাকি? আপনিও তো মিয়া বড়লোক। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ওই লাইনে গিয়া খাড়ান।’

ঢোল বিক্রি করে কুলাতে পারছেন না বিক্রেতারা

অনুকূল চন্দ্র দাসরা (ছদ্মনাম) পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজারে বাদ্যযন্ত্র বিক্রি করছেন কয়েক প্রজন্ম ধরে। গতকাল বিকেলে তাঁর দোকানে গেলে হাসি হাসি মুখে তাকালেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিছু লাগবে?’

সময় নষ্ট না করে পরিচয়পর্ব সেরেই এই প্রতিবেদক আসল কথাটি পেড়ে ফেলেন। পরিকল্পনামন্ত্রীর তৃতীয় বাণীটি (‘যদিও সরকারিভাবে এটা আমি প্রকাশ করিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাঁর অনুমতি নিয়ে এটা আমরা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলে দেব। কারণ, এটা ভালো কাজ।’) শোনানোর পর অনুকূল চন্দ্র দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘এই কারণেই তো বলি, সব ঢোল বিক্রি হয়ে গেল কীভাবে!’

default-image

বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়দিন আগেই তো বড় বড় পালাপার্বণ শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আজকে হঠাৎ খেয়াল করলাম, কিছুক্ষণ পরপর মানুষ এসে ঢোল কিনতে চায়। যে কয়টা ছিল, সবই তো বেচে দিলাম। আশপাশের দোকানগুলোরও সব ঢোল শেষ। খুব ভালো লাগছে যে এমন মহতী উদ্যোগের জন্য আমাদের ঢোলগুলো কাজে লাগবে। তো আপনারও কি একটা ঢোল লাগবে? এখনই সাপ্লাই দিতে না পারলেও আমরা কিন্তু অর্ডার নিচ্ছি, দাদা! দেশের মানুষ এভাবে রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাচ্ছে, ঢোল দিয়ে তো আমরা কুলাতে পারব না মনে হচ্ছে!’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন