আপনার বউয়ের ড্রেস দরকার, ওষুধ নয়!

অফিস থেকে ফিরে বাসায় ঢুকে কই একটু বউয়ের আদর-সোহাগ পাব তা না, বউ উল্টো খাটের এককোণে মুখ গোমড়া করে বসে আছে।

জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হলো তোমার?’

‘জানি না।’

‘আচ্ছা, জানতে হবে না তোমার। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি, তুমি চা বানাও।’

‘চা বানাতে ইচ্ছে করছে না।’

‘আচ্ছা তাহলে শাড়ি পরো, বাইরে থেকে ঘুরে আসি।’

‘বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে না।’

এরপরের প্রশ্ন কী করব, তা ভেবে পাচ্ছি  না! তাও বললাম, ‘পাকিস্তানি ড্রেস পাওয়া যায় যে Laveez BD তে নাকি সব কাপড়ে ২০% ছাড় দিছে! যাবা নাকি?’

মেঘ সরে সূর্যের আলো দেখা দিলে যেমন আমরা খুশি হই, তেমনি বউ খুশি হয়ে রান্নাঘরের দিকে গেল। কিন্তু আমি তো জানি না, ছাড় আসলে দিচ্ছে কি না!

অফিস থেকে এসে মাথা পুরা হ্যাং হয়ে আছে। এক কাপ চা না খেলে এই হ্যাং আউট হবে না। এখন মনে হচ্ছে, চায়ের নেশায় বিপদেই না পড়লাম!

৩০ মিনিট পর ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি বউ নীল শাড়ি পরে বসে আছে। বললাম, ‘কী ব্যাপার?’

‘চা খেয়ে নাও দ্রুত। আমি আজ দুইটা ড্রেস কিনব।’

ধরাটা তো বড়সড় করে খাইলাম! মাসের শেষ, পকেটের যা-তা  অবস্থা। আর শপিং করে না দিলে আগামী দুই দিন ভাতও পাব কি না সন্দেহ আছে।

দোকানে ঢুকে দেখি, একপাশে সাদা অ্যাপ্রন পরা এক নারী বসে আছেন। আমার বেশ কৌতূহল হলো। বউও মনে হলো এ ব্যাপারে জানে না! মনে হলো, এটা তাদের নতুন সার্ভিস।

‘বসুন না আপনারা। আমি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। আপনার বউয়ের কি আজ মন খারাপ ছিল, যার কারণে এখানে এসেছেন?’

বউকে ড্রেস পছন্দ করতে পাঠিয়ে দিয়ে ডাক্তারকে বললাম, ‘মাসের শেষ; দুইটা ড্রেস কিনে না দিলে রক্ষা নেই।’

ডাক্তার বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি ব্যাপারটা দেখব। কিন্তু শর্ত প্রযোজ্য। আপনি যে ভাবিকে আগামী মাসে অন্তত একটা ড্রেস কিনে দেবেন, সেটার জন্য পনেরো শ টাকা জমা করে যান। বাকিটা আমি সামলে নেব।’

‘কোনো ওষুধও দিয়েন যেন তার বিষণ্নতা দূর হয়।’

‘দেব। আপনি চিন্তা করবেন না।’

‘অফারটা মন্দ নয়। অন্তত ৬/৭ হাজার টাকা খরচের চেয়ে এই অল্প টাকা জমা তেমন কিছুই না।  টাকার রশিদ নিয়ে বউকে গিয়ে বললাম, ‘ড্রেস পছন্দ হয়েছে?’

‘হ্যাঁ। ৩টা ড্রেস পছন্দ হয়ে গেছে! কী যে সুন্দর ড্রেসগুলা!’

‘ডাক্তার কেন জানি তোমাকে ডাকছে। পেমেন্ট করার আগে ওনার সাথে একটু দেখা করে আসো।’

প্রায় মিনিট দশেক পরে একটা প্রেসক্রিপশন নিয়ে ফিরে এসে বলল, ‘চলো আজ বাসায় যাই। অন্য দিন নেব। আজ ভালো লাগছে না।’

পনেরো শ টাকা কি গচ্চা গেল! বাসায় গিয়ে বললাম, ‘প্রেসক্রিপশনটা দাও, ওষুধ নিয়ে আসি।’

প্রেসক্রিপশন খুলে দেখি, সেখানে ডাক্তার লিখেছে, ‘আপনার বউয়ের নতুন ড্রেস দরকার, মেডিসিন না! দয়া করে আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ৩টা ড্রেস নিতে আসবেন। তা না হলে পনেরো শ টাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।’

প্রেসক্রিপশন হাতে ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আর তখন বউ হেসে হেসে বলছে, ‘কী! কেমন দিলাম? আর বলবা, রান্না ভালো হয় নাই?’