১৮৭৮ থেকে ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত শ পাঁচটি উপন্যাস লেখেন। দিনের পর দিন তিনি এই উপন্যাসগুলোর পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। কিন্তু লন্ডনের কোনো প্রকাশনা সংস্থা তাঁর লেখা ছাপতে রাজি হয় না।

১৮৮২ সালে মার্কিন অর্থনীতিবিদ হেনরি জর্জ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে শ সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। অংশ নিতে শুরু করেন রাজনৈতিক দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ফেডারেশনের বিভিন্ন সভায়। যোগ দেন সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্যাবিয়ান সমাজ’-এ। অল্প সময়ের মধ্যেই খ্যাতি লাভ করেন সুদক্ষ বক্তা এবং যুক্তিবাদী তার্কিক হিসেবে।

১৮৯০ সাল থেকে শ দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকায় ‘জিবিএস’ ছদ্মনামে সংগীত, নাটক ও শিল্পসমালোচনা লেখা শুরু করেন। ১৮৯২ সালে তাঁর প্রথম নাটক উইডোয়ার্স হাউজেস প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই নাটক দর্শক আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি আরও কিছু নাটক লেখেন। ১৮৯৬ সালে তাঁর রচিত ইউ নেভার ক্যান টেল নাটকটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে তিনি নাট্যকার রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং নাটককে নিজের ভাব প্রকাশের মাধ্যমরূপে বেছে নেন।

জর্জ বার্নার্ড শর প্রকাশিত নাটকের সংখ্যা ৬২। এই নাটকগুলো তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকারের খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর নাটকগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো সিজার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা, মেজর বারবারা, হার্টব্রেক হাউস, ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান, জন বুলস আদার আইল্যান্ড, দ্য ডক্টরস ডায়লামা, গেটিং ম্যারিড, ফানিস ফাস্ট প্লে, পিগম্যালিওন, জেনেভা এবং সেন্ট জোয়ান।

সেন্ট জোয়ান নাটকের জন্য তিনি ১৯২৫ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শ প্রথমে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও নোবেল কমিটির অনুরোধে পুরস্কারের পদকটি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পুরস্কারের অর্থ তিনি দান করে দেন। ১৯৩৯ সালে পিগম্যালিয়ন নাটক রচনার জন্য অস্কার পুরস্কার লাভ করেন শ।

শ যা বিশ্বাস করতেন, নাটকের মাধ্যমে তা নির্ভয়ে প্রকাশ করতেন। শ তাঁর রচনায় প্রচলিত ধ্যানধারণার বিরোধিতা করেছেন, সমাজের শোষকশ্রেণির ওপর ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাধ্যমে কশাঘাত চালিয়েছেন। নাটকের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা অত্যন্ত দক্ষ ও সুকৌশলে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন শ। এর ফলে তাঁর সমসাময়িক কালে তিনি হয়ে উঠেছিলেন লন্ডনের সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি। জীবনের শেষ ৪৬ বছর তিনি ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ারের একটি গ্রামে বাস করতেন। ১৯৫০ সালের ২ নভেম্বর এই গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।