ট্রাম্পের বিচার করতে পারে কোন বিশ্ব আদালত

ছবি: এআই

জাতিসংঘ বললেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যুদ্ধাপরাধের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পাওয়া গেছে। মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র। শিশুদের ক্লাস চলছিল। প্রতিবেদনে সংখ্যা আছে, স্কুলের নাম আছে, আইনও আছে। তারপর প্রশ্নটা উঠল সহজ করে—তাহলে বিচার করবে কে? ট্রাম্পকে তুলে নিয়ে যাবে কে?

উত্তরটা আন্তর্জাতিক আইনের মতোই পরিষ্কার, আর সেই পরিষ্কারতাই লজ্জা। যে রাষ্ট্র রোম সংবিধিতে সই করেনি, যে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে নিজেদের লোকের ওপর এখতিয়ার মানে না, যে রাষ্ট্র আদালতের বিচারককেই নিষেধাজ্ঞা দেয়—সেই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার জন্য পৃথিবীতে একটাই বাহিনী আছে। সে বাহিনীর নাম যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ইচ্ছা। ইচ্ছা না থাকলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কাগজ হয়, হাতকড়া হয় না।

এইজন্যই ছোট দেশের নেতাকে হেগে নিয়ে যাওয়া যায়। বড় দেশের নেতাকে নিউইয়র্কে ভাষণ দিতে দেওয়া যায়। একজনের অপরাধ আন্তর্জাতিক, আরেকজনের অপরাধ কৌশল। একজনের শিশুহত্যা মামলা, আরেকজনের শিশুহত্যা ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট তথ্যভাণ্ডার’। জাতিসংঘ রিপোর্ট লেখেন। কাউন্সিলে আলোচনা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি বেরোয়। তারপর দুনিয়া ফিরে যায় সেই পুরনো নিয়মে—ক্ষমতা যার, এখতিয়ার তার।

ইরানের নিজের ঘরেও রক্ত আছে। বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও একই প্রতিবেদনে। অর্থাৎ নিপীড়িতের দেশও নির্দোষ নয়, আক্রমণকারীও নির্দোষ নয়। কিন্তু বিচারের দাঁড়িপাল্লায় দুই পাশ সমান নয়। এক পাশে আদালত, অন্য পাশে ভেটো। এক পাশে পরোয়ানা, অন্য পাশে পাসপোর্ট। এক পাশে কারাগার, অন্য পাশে এয়ার ফোর্স ওয়ান।

তাহলে ট্রাম্পকে তুলে নেবে কে? পুলিশ নয়। জাতিসংঘের নীল টুপি নয়। হেগের বিচারক নয়। তুলে নেবে ইতিহাস—খুব দেরিতে, খুব নিঃশব্দে, যখন ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ থেমে যাবে আর স্কুলের খালি বেঞ্চিগুলো বাকি থাকবে। সেই বিচারের রায় কার্যকর হয় না এ জীবনে। হয় পরের বইয়ে।

রস+আলোর কাজ হাসির খোরাক জোগানো। কিন্তু এই হাসিতে দাঁত বেরোয় না। শুধু এই প্রশ্নটা বারবার ফিরে আসে—আইন কি সবার জন্য, না কি শুধু তাদের জন্য, যাদের কামান নেই?

[লেখায় এআই-এর সহায়তা নেওয়া হয়েছে]