১. বিটিভির সংগীতানুষ্ঠানে
ছোটবেলায় বিটিভির সংগীতানুষ্ঠান মানেই ছিল ধোঁয়ার ভেলকিবাজি। সেটা রবীন্দ্রসংগীত হোক আর ব্যান্ডের গান; ধোঁয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। ধোঁয়ার মধ্যে লুকোচুরি খেলে গান গেয়েছেন কত না বিখ্যাত শিল্পী! কার্বন ডাই–অক্সাইড ও শুষ্ক বরফ দিয়ে তৈরি এই ধোঁয়াকে বলা হয় ‘থিয়েট্রিক্যাল স্মোক অ্যান্ড ফগ’। আজকাল বিটিভি দেখা হয় না বললেই চলে। ফলে বলতে পারছি না, সংগীতানুষ্ঠানে অমন ধোঁয়ার এন্তেজাম হয় কি না। না হলে খুবই ভালো। সময় এসেছে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার। এ ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কীটনাশকের ধোঁয়াই হতে পারে সর্বোত্তম বিকল্প।
২. বিরোধী দল ঠেকাতে
নির্বাচনের দেরি নেই। তাই ধারণা করা যায়, মাঠে–ময়দানে নামবে বিরোধী দল। আর এসব আন্দোলন মানেই টিয়ার গ্যাসের বিপুল ব্যবহার। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। টিয়ার গ্যাসের দামও নিশ্চয়ই বসে নেই। কাজেই টিয়ার গ্যাসের অপচয় রোধে ‘হায়ার’ করা যায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে। তাদের একদল দক্ষ কর্মী ফগার মেশিন নিয়ে ছুটে যাবেন রাজপথে। ছড়িয়ে দেবেন কীটনাশকের ধোঁয়া। মশা না মরলেও বিরোধী দলকে হটানোর মতো উদ্দেশ্য যে হাসিল হবে, তা নিশ্চিত।
৩. মৌচাক কাটতে
সুন্দরবনের মৌয়ালেরা কীভাবে মধু সংগ্রহ করে, দেখেছেন কি? নিশ্চয়ই দেখেছেন। কেবল সুন্দরবন নয়, কমবেশি সব জায়গায় একই কায়দা অনুসরণ করা হয়। এটাকে বলা যায় ‘ধোঁয়া–কায়দা’। মাথাটাথা কাপড়ে মুড়ে, গাছের কাঁচা–পাকা পাতায় আগুন ধরিয়ে ভীষণ একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী বানানো হয় আগে। তারপর ওই ধোঁয়া ছড়িয়ে দেওয়া হয় মৌচাকে। ধোঁয়ার চোটে মৌমাছির ঝাঁক বাপ বাপ করে ছুটে পালায়, সেই সুযোগে মৌচাক কেটে নিয়ে আসেন মৌয়ালেরা। তো অত হাঙ্গামার দরকার কী? আছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন! মৌয়াল ভাইয়েরা, আজই বুকিং দিন!
৪. পাবলিকের চোখে
মশা মারার কীটনাশক বা এই ধোঁয়ার উৎকৃষ্ট ব্যবহারের বুদ্ধিটাই বাতলে দিচ্ছি এবার। আগেই বলে রাখি, অতটা অর্থকরী না হলেও এই পদ্ধতি অর্থবহ হবে সুনিশ্চিত। এ জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে বেশ কিছু ছোট কনটেইনারও আমদানি করতে হবে। এতে আবার কত কোটি খরচ হবে, তা অবশ্য বলতে পারছি না। যা হোক, টাকা–পয়সা হাতের ময়লা! তো ওই ছোট ছোট কনটেইনারে ভরতে হবে ম্যালাথিয়ন কীটনাশক। এর চাহিদা যে আকাশচুম্বী হবে, তা চোখ বুজে বলে দেওয়া যায়। প্রি–বুকিংয়েই স্টক আউট হবে নির্ঘাৎ। প্রশ্ন করতে পারেন, কী কাজে লাগবে এটা? কারাই–বা হবে এর ব্যবহারকারী? এর উত্তর হলো, নাম বললে চাকরি থাকবে না! তাই শুধু বলে রাখি, পাবলিক বা আমজনতার চোখে ধোঁয়া দেওয়া যাঁদের জন্য জরুরি, তাঁরাই হবেন এর অনুরাগী ক্রেতা।