‘আগেই ভালো ছিলাম’

সুপারডুপার হিট। আবার এ–ও সত্যি, রস+আলোর প্রত্যাবর্তন সংখ্যা পড়ে অনেকে খেপেছে। খেপেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা। খেপেছে বুদ্ধিজীবী সমাজ। আর খেপেছে আমার বউ।

‘তুমি রস+আলোতে এইসব কী লিখছ?’

‘কেন? ঠিকই তো লিখছি। ফান ম্যাগাজিনের দরকারটা কী?’

‘না, ওইটা লেখো নাই। লিখছ, তোমার মাথা গরম থাকলে আমি ভাত–তরকারি রান্না করি।’

‘ইয়ে…না মানে…মিথ্যা তো লিখি নাই।’

‘সত্য হইলেও লিখে দিবা! লেখার আগে আমার অনুমতি নিছ! তুমি ভাবছটা কী…!’

‘কথাবার্তা’র একপর্যায়ে বীথি আমার দিকে মেলামাইনের প্লেট ছুড়ে মারল। ধেয়ে আসা বাউন্সার যেভাবে ব্যাটসম্যানরা সামলায়, চট করে নিচু হয়ে গেলাম। তবু প্লেট মাঝারি আঘাত করল মাথায়। সেখানে বাউন্স করে গিয়ে লাগল দেয়ালে। তারপর পড়ল ওয়ার্ডরোবের ওপরে থাকা ফুলদানিতে।

টকাস, টং, ঢ্যাং, ঠাস। ব্যাকগ্রাউন্ডে আতহার আলী খানের কমেন্ট্রি শুনতে পেলাম, ‘হোয়াট্টা ডেলিভারি! লিথাল, অ্যাবসুউলুটলি লিথাল।’

আমি মাথা ডলছি। দেখি, বীথি কাঁদো কাঁদো চোখে তাকিয়ে আছে। বললাম, ‘আরেহ্​ না, অত লাগে নাই।’ বীথি আমার দিকে এগিয়ে এল। পরম মমতায় হাত বোলাল…না, আমার মাথায় না, কদিন আগে শখ করে নতুন করে রং করা দেয়ালে। তারপর মায়া মায়া চোখে তাকাল ফুলদানির দিকে।

এই জন্যই বলি, আগেই ভালো ছিলাম। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল। মানে, বিয়ের আগে আরকি। 

বিয়ের পরে জীবন মানেই কথায় কথায় জেরার মুখে পড়া।  

‘শুভ্রা মেয়েটা কে?’

‘কোন শুভ্রা?’

‘এমন ভাব করতেছ চিনোই না।’

‘আসলেই চিনতে পারতেছি না। শুভ্রা…নাহ, এমন পরিচিত কেউ তো নাই।’

‘তাহলে এইটা কী? সারা দিন কথা বলো ওর সাথে।’

বীথি আমার দিকে আমারই ফোন বাড়িয়ে দিল। স্ক্রিনে কল লিস্ট। 

এখন বউকে কীভাবে বোঝাব, এটা আমার কলিগ শুভ্র? একটা কাজে নিয়মিত কথা হচ্ছে। এখন ও যদি নাম ‘Shuvra’ লেখে, আমি কী করতে পারি!

বহুদিন আগে ফেসবুকের এক পেজ থেকে মধু কিনছিলাম। তার বিষ আজও গিলতে হচ্ছে। কারণ, বউ ফোনবুকে একটা নাম খুঁজে পেয়েছে—Moumita Honey। কান ধরছি, দরকার হলে মৌমাছিদের কাছ থেকে সরাসরি ডেলিভারি নেব, তবু এসব পেজ থেকে আর মধু কিনব না। মৌমাছির হুল সহ্য করা যায়, বউয়ের না।

বাকিদের কথা বাদ দিলাম। বীথিরই দুটি সিমের নাম সেভ করা ছিল: Bou 1, Bou 2। বীথিরই কলেজের ক্লোজ বান্ধবী—জান্নাতুন নাহার। একবার এমন ঝামেলা বাধল, সরাসরি ওর বাবাকে ফোন দিলাম, ‘আঙ্কেল, আমার এত বড় সর্বনাশ আপনারা করতে পারলেন! আর কোনো নাম পেলেন না, মেয়ের ডাকনাম রাখলেন ‘Janu’!

বলেন, আমার দোষটা কী? উপায় কী?

‘আছে ভাই।’ কথাটা বলল আমার আরেক কলিগ সুদীপ্ত। সুদীপ্ত তার ফোনের সব নম্বর দেখাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।   শ পাঁচেক নম্বর। একটা মেয়ের নম্বরও নাই!

আমি প্রশ্নবোধক চোখে তাকালাম, তাহলে কোনো মেয়ের নম্বর সেভ না করাই সমাধান? সুদীপ্ত হাসল। একটা নম্বর বের করল—রিয়াজ। আমাদের অফিস সহকারীর নম্বর কেন দেখাচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। সুদীপ্ত হালকা চোখ টিপে ফিসফিস করে বলল, ‘ভাই, এটা রিয়ার নম্বর।’

এভাবেই ওর ফোনে ‘দীপ্তি’ হয়ে আছে ‘দীপ্ত’। পুন্নি হয়ে আছে ‘পানির মিস্ত্রি’। মালা হয়ে আছে ‘বড় খালা’। বেচারা সুদীপ্ত!

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরীহ ও বিপন্ন প্রাণীর নাম…না, পান্ডা না–স্বামী (রাজীব) প্রজাতি। মিল অবশ্য আছে। দুই প্রজাতির মূল খাবার বাঁশ।

অলমিতি বিস্তারেণ।