বড়লোকের মেয়ে দেখলেই যে প্রেম করতে হবে, এমন তো কথা নাই!

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে রস+আলোর জন্য অভিনেতা জাহিদ হাসানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের

প্রশ্ন: বিশ্বকাপ তো শুরু হলো, এবারের বিশ্বকাপে কাকে সাপোর্ট করছেন?

জাহিদ হাসান: আমি তো ম্যারাডোনার ভক্ত, আর্জেন্টিনা আমার প্রিয় দল। তবে এবার চাই পর্তুগাল জিতুক। এত বড় খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তাঁর হাতে বিশ্বকাপ না দেখতে পারলে আমার কষ্ট লাগবে।

প্রশ্ন: আপনি আর্জেন্টিনা সমর্থক! ব্রাজিল কেন না?

জাহিদ হাসান: ব্রাজিল ভালো, পাঁচটা স্টার বুকে জড়িয়ে থাকে। পাঁচবার জিতেছে। জার্মানি চারবার, আর্জেন্টিনা তিনবার। আসলে বড়লোকের মেয়ে দেখলেই যে প্রেম করতে হবে, এমন তো কথা নাই (হাসি)! গরিবের মেয়ের প্রেমেও তো পড়া যায়। এখন ব্রাজিল পাঁচবার জিতেছে বলে সেটাই করতে হবে, এমন তো কথা নেই।

প্রশ্ন: মৌ আপা কোন দলের সমর্থক? খেলা নিয়ে আপনাদের ঘরোয়া তর্ক হয়? কে জেতে?

জাহিদ হাসান: (হাসি) ব্রাজিল। মোটামুটি তর্ক হয়, তবে খুব বেশি আগায় না। আর তর্ক হলে মেয়েদের সঙ্গে কোনো দিন জেতা যায় নাকি? (হাসি) দেখা গেল, কবে কোন কথা বলছি, সেটা টেনে নিয়ে আসে। আমি আধঘণ্টা আগে কী বলছি, সেটাই মনে থাকে না, আর ওরা তো সেই ১৯৫২ সালেও কী হইছে, সেটাও মনে রাখে!

প্রশ্ন: চায়ের দোকানে বা আড্ডায় ফুটবল নিয়ে শেষ কবে তর্ক করেছেন?

জাহিদ হাসান: চায়ের দোকানে তো আড্ডা হয় না। তবে গাড়িতে করে যাওয়া-আসার পথে খেলার আড্ডা চোখে পড়ে। ফুটবল নিয়ে শেষ তর্ক হলো গেল বিশ্বকাপে। ৭১ টেলিভিশনের একটা অনুষ্ঠানে আমি সিরাজগঞ্জ থেকে অনলাইনে যুক্ত হই। স্টুডিওতে ছিল চঞ্চল আর অমিতাভ রেজা। ওই অনুষ্ঠানের আগে সৌদি আরবের কাছ গোল খায় আর্জেন্টিনা। আমি সেদিন আর্জেন্টিনার জার্সি পরা, অমিতাভ এমন তাচ্ছিল্যভরে কথা বলছিল! আমিও ম্যাও ম্যাও করে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে তো ব্রাজিল, সে হালুম দিয়ে এমন অ্যাটিচ্যুড করল, কী আর বলি! নিয়তির কী খেলা, আর্জেন্টিনা সেবারই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল। পরে আর কিছু বলিনি। ওটাই আমার ঠান্ডা তর্ক।

প্রশ্ন: এখনকার সময়ের প্রিয় খেলোয়াড় কে?

জাহিদ হাসান: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর মেসি। আর সব সময়ের প্রিয় খেলোয়াড় ম্যারাডোনা, বাসিস্তুতা, লুইস ফিগো, রবার্তো কার্লোস। যাঁদের খেলা ভালো লাগে তাঁদের ক্ষেত্রে দল আমার কাছে কোনো বিষয় না।

প্রশ্ন: জীবনের কোন বয়সে সবচেয়ে বেশি দুষ্টুমি করেছেন—কৈশোরে, যৌবনে, নাকি এখনো গোপনে চালিয়ে যাচ্ছেন?

জাহিদ হাসান: কৈশোরে বেশি দুষ্টু ছিলাম। এখন একটু কম। মানে ইচ্ছে করলেও হয় না। মনে মনে থাকে। সামাজিক, সাংসারিক, নিজের বয়স—সবকিছু মিলে হয় না আরকি।

প্রশ্ন: বাসায় যখন কোনো ভুল করেন, তখন অভিনেতা জাহিদ হাসান যুক্তি দেন, নাকি স্বামী জাহিদ হাসান চুপচাপ আত্মসমর্পণ করেন?

জাহিদ হাসান: যেটা যৌক্তিক, সেটা যৌক্তিক বলেই মেনে নিই, হোক তা বাসা কিংবা বাসার বাইরে। এমনিতে সব সময় চুপ থাকার চেষ্টা করি। সংসার হোক, বাইরে হোক, আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই এমন। আগের মতো এখন বার্গেনিং করি না আরকি। আমি যদিও জানি আমিই সঠিক, তারপরও কেন জানি চুপ থাকি।

প্রশ্ন: আপনার সঙ্গে মৌ আপার কখনো ঝগড়ার সময় কি তিনি বলেছেন, ‘অভিনয় বন্ধ করো, বাস্তবে ফিরে আসো?’

জাহিদ হাসান: শুধু ঝগড়ার সময় না, প্রায়ই এই কথা শুনি। শুধু মৌ আপা নয়, অন্য জায়গায়ও শুনি। যখন কাউকে বলি, খুব সুন্দর লাগতেছে তোমাকে, এরপর বলে, এই কথাটা সবাইকে বলেন, তাই না ভাইয়া? (হাসি)। মৌয়ের সঙ্গে হয়তো এমনভাবে কোনো কথা বলছি, তখন সে বলে, এভাবে কথা বোলো না, ক্যামেরা নাই এখানে। (হাসি)

প্রশ্ন: যদি কোনো দিন আপনার মুখভঙ্গির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি চালু হয়, থিসিসের শিরোনাম কী হতে পারে?

জাহিদ হাসান: আমাকে নিয়ে পিএইচডি হওয়ার সম্ভাবনা কম, ‘ম্যাট্রিক পাস’ হতে পারে বড়জোর (হাসি)। তারপরও যদি বলি, থিসিসের শিরোনাম হবে ‘খুবই ট্রান্সপারেন্ট’। কারণ, আমার মন খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় তা ফুটে ওঠে। লুকাতে পারি না। আসলে আমার মনে হয়, সবার ক্ষেত্রে তা-ই। কেউ গ্রেট অ্যাক্টর চার্লি চ্যাপলিন হলেও একটা সময় তা বোঝা যাবে।

প্রশ্ন: অভিনয়শিল্পী হিসেবে কার অভিনয়ে আপনি প্রাণ খুলে হেসেছেন?

জাহিদ হাসান: উৎপল দত্ত, অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়ে। আমাদের চঞ্চলের অভিনয়ও অসাধারণ। ফরীদি ভাইয়ের অভিনয় অসাধারণ। তাঁরা গ্রেট।

প্রশ্ন: আচ্ছা, মানুষকে হাসানো নাকি কাঁদানো—কোনটা বেশি কঠিন?

জাহিদ হাসান: আসলে মানুষকে হ্যান্ডল করাটা। একই সঙ্গে কঠিন ও সহজ। অনেক ভালো ডাক্তার যাঁরা, তাঁরা কথা বলেন কম। আর নার্ভটা ধরে জিজ্ঞেস করেন, ঠিকমতো খাও কি না, ঘুমটুম হয় কি না। এসব বলতে বলতে জায়গামতো নার্ভে ধরেন। তারপর ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা বা ১০০ টাকার ওষুধ দেন, সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা। আর যাঁরা ঠিকমতো নার্ভ ধরতে পারেন না, টেস্ট দেন ৫ হাজার টাকার। ওষুধ দেন আরও ৩ হাজারের। ঠিক সে রকম, যখন মানুষের নার্ভে ঠিকমতো টোকা দেওয়া যায়, সহজে হাসানো যায়, সহজে কাঁদানো যায়। আর ঠিকমতো নার্ভ ধরতে না পারলে হাজার কসরতে ভাঁড়ামি হয়ে যায়, হাসে না মানুষ, কান্নার কষ্টে কাঁদে না। হাসানো ও কাঁদানো খুব সহজ। শুধু নার্ভে লাগাতে হয়।

প্রশ্ন: ধরুন, পৃথিবীর শেষ দিন। সবাই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছে। আপনি শেষ কথা কী বলবেন?

জাহিদ হাসান: যদি বুঝি শেষ দিন, তাহলে প্রথমে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নেব। আল্লাহ, অনেক অপরাধ করেছি, আমাকে জান্নাতে নিয়ো।